আবিদের স্ত্রী আফসানাও না ফেরার দেশে

জাতীয়

নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত বৈমানিক আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এর আগে তার অবস্থা দিন দিন আরো অবনতির দিকে যাচ্ছিল। স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় ছয় দিন ধরে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের আইসিইউতে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম আফসানার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

গত ১২ মার্চ নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় আরোহী ৭১ জনের মধ্যে ৫১ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে বৈমানিক আবিদও রয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে স্ত্রী আফসানা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

‘ক্যাপ্টেন আবিদের স্ত্রীর আশার আলো কম’
এর আগে নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানমের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। যে কোনও সময় শেষ দুঃসংবাদের আশঙ্কা করেন চিকিৎসকরা।

আফসানা খানমের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক ডা. বদরুল আলম বলেন, তার অবস্থার কোনও উন্নতি নেই। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে।

তিনি বলেন, অবস্থা ভালো না। আগে যা জেনেছেন তাই।

ডা. বদরুল বলেন, তবে এখনও উনি লাইফ সাপোর্টে আছেন। তিনি জীবিত আছেন। আমরা যথাযথ ম্যানেজমেন্টের চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, আশার আলো খুব কম। আমরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার মতো পারিবারিক চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তের অপেক্ষার পরিস্থিতি এখনও হয়নি। তেমন কিছু হলে আমরা জানবো।

উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে ৭১ আরোহী নিয়ে গত ১২ মার্চ দুপুরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১ বিধ্বস্ত হয়।

এতে বিমানের ৫১ আরোহী নিহত হন। উড়োজাহাজে চার ক্রুসহ ৩৬ বাংলাদেশি ছিলেন। এদের ২৬ জনই নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে উড়োজাহাজের পাইলট আবিদ সুলতানও ছিলেন।

আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন। প্রথমে তিনি জেনেছিলেন স্বামী আবিদ আহত অবস্থায় নেপালে চিকিৎসাধীন। পরে আবিদের মৃত্যুর খবরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।

গত রোববার ব্রেইন স্ট্রোক করেন আফসানা। প্রথমে তাকে উত্তরায় বাসার কাছে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে শেরেবাংলা নগরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার সকালে তিনি ফের স্ট্রোক করলে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন।

Leave a Reply