হবিগঞ্জে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে কিশোর নিহত

সিলেট বিভাগ

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে এক পফটকর্ন বিক্রেতা কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত ১১টার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নয়ন দেব (১৪) শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার নিজগাঁও এলাকার হরেন্দ্র দেবের ছেলে।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ সাজিদুল হক জানান, দুপুরে সিলেট থেকে ঢাকগামী পাহাড়িকা ট্রেনটি শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে এসে পৌছলে এর ভেতরে থাকা পফটকর্ন বিক্রেতা নয়ন ঘুমন্ত অবস্থায় ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়।

এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় নয়নকে সিলেটে প্রেরণ করেন। সিলেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নয়নের মৃত্যু হয়।

ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান
মৌলভীবাজার : ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তবে তার কিছু হয়নি। তিনি নিরাপদে ঢাকায় ফিরেছেন। মৌলভীবাজারের সাতগাঁও রেলস্টেশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ১১টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনার পর থেকে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশেকুল হক বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান উপবন এক্সপ্রেসের একটি কামরায় ছিলেন। তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত আসেন। পরে গাড়ি ছেড়ে দিয়ে ট্রেনে করে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।’

সাতগাঁও স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে ছুটে যান। পরে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী নিজের প্রাইভেটকারের চালককে ডেকে পাঠান। পুলিশ প্রতিমন্ত্রীকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মিরপুর এলাকায় নিয়ে তুলে দেয় এবং শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত এগিয়ে দেয় বলে জানান ভারপ্রাপ্ত ইউএনও।

রেলওয়ের সিলেট বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান সকালে বলেন, ‘গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে সাঁতগাও রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রমের পর ট্রেনের পুলিং রড ভেঙে ১১টি বগি লাইনচ্যুত হয়। বগিগুলো রেলসড়কের পাথরে আটকে যায়। দুর্ঘটনায় রেললাইন দুমরে-মুছড়ে স্লিপারগুলো ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মুজিবুর রহমান আরো বলেন, ‘আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় কুলাউড়া থেকে আসা রিলিফ ট্রেনটি উদ্ধারকাজ শুরু করে। যেভাবে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাতে বেশ কিছু সময় লাগবে’। তবে কী পরিমাণ সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে না বললেও তিনি ধারণা দেন, ‘হয়তো বিকাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।’

উপবন ট্রেনের যাত্রী আব্দুল্লাহ মাহমুদ জানান, হঠাৎ করে তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে বগি লাইনচ্যুত হয় এবং দুলতে থাকে। এ সময় যাত্রীদের চিৎকারে এক ভীতিকর পরিস্থিতির অবতারণা হয়। স্থানীয় জনগণ এগিয়ে এসে তাদের সহযোগিতা করেন।

ট্রেনের আরেক যাত্রী আতিকুর রহমান বলেন, রাত ১টার দিকে বিকট শব্দ করতে করতে ট্রেন লাইনচ্যুত হতে থাকে। এ সময় এক ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। তবে ট্রেন স্বল্প সময়ের মধ্যেই থেমে যায় এবং বগিগুলো কাত হয়ে পড়ে।

Leave a Reply