বিচার বিভাগের স্বাধীনতা স্রেফ খাতা-কলমে : মওদুদ আহমেদ

রাজনীতি

‘আজকে দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খাতা কলমে আছে কিন্তু বাস্তবে সেই স্বাধীনতা এখন আর নেই। তাদের (বিচারকদের) মুক্তমনে বিচার করার যে শক্তি থাকার কথা সেটা আছে বলে আমি মনে করি না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন আয়োজিত ‘বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে নাগরিক প্রতিবাদে’ এক নাগরিক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সভাপতি আমির হোসেন বাদশাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

প্রতিবাদ সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ দাবি করেন, ‘এই সরকার বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছে নানা কলাকৌশলে।’

প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, নিম্ন আদালত সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর গেজেট প্রকাশ করে পুরোটাই সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। আগে যেটি ছিল সুপ্রিম কোর্টের হাতে, কিন্তু এখন সেটি নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে।

মওদুদ আরো বলেন, ‘এখন আর কোনো ভয়-ভীতি ও শঙ্কামুক্ত রায় দেওয়া সম্ভব নয়। সেটা আমি নিজে হলেও পারতাম না। কারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খাতা-কলমে আছে, কিন্তু বাস্তবে নেই। কোনো বিচারক মুক্তমনে বিচার করতে পারেন না।’

নির্বাচন নিয়ে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করছে এমন মন্তব্য করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘তারা (সরকার) একদিকে বলছেন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন তারা চান। আবার এটাও বলছেন বিএনপি নির্বাচনে আসুক এটাও তারা চান। কিন্তু কাজেকর্মে কি করছেন? মাঠ পর্যায়ে কি করছেন? হাত পা শক্ত করে বেঁধে বিএনপিকে বলছেন এখন আপনারা সাঁতার কাটেন।’

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘যত কথাই বলেন, যতই ষড়যন্ত্র করেন কৃত্রিম উপায়ে যতই বিরোধীদল সৃষ্টি করেন না কেনো কোন লাভ হবে না। বিএনপিই একমাত্র দল নির্বাচনের মাধ্যমে যারা আবার ক্ষমতায় আসতে পারে যদি দেশে একটি সত্যিকারের নির্বাচন হয়। আমরা বুলেটে নয়, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। জনগণের জনসমর্থনের উপর ভিত্তি করেই আমাদের দল।’

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রপ্রিয়। তারা স্বৈরাচার পছন্দ করে না। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তারা রাজপথে নেমে আন্দোলন করে। আমরা ১৯৬৯ সাল দেখেছি, ১৯৬২ সাল দেখেছি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এরশাদবিরোধী আন্দোলন দেখেছি। শেষ পর্যন্ত জনগণের বিজয় হয়। তাই যতই কলাকৌশল করেন না কেনো বেগম জিয়ার কারামুক্তি যতই বিলম্বিত করেন না কেনো তারপরও বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে আসবেন এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র আবার তারই (খালেদা) নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ ফিরে আসবে।

Leave a Reply