ব্যবসায়ীরা কোনো ট্যাক্স দিতে চান না : মুহিত

জাতীয়

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশের ব্যবসায়ীরা বিনা পয়সায়, বিনা মাশুল দিয়ে ব্যবসা করেন। তারা কোনো কর দিতে চান না। বিনা মাশুল দিয়ে ব্যবসা করেন। সেটাই তারা করতে চান। তারা কোনো ট্যাক্স দিতে চান না।’

রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশন এবং বিসিএস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশেই এ সমস্যা আছে। নিজের পকেট থেকে কোনো ব্যবসায়ী পয়সা দিতে চান না। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের লোভটা একটু বেশি। তাঁরা প্রায় বিনা মাশুলে ব্যবসা করতে চান।’

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আরো বেশি করে দেওয়ার মানসিকতা দেখানোর জন্য আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নিজের পকেট থেকে পয়সা পৃথিবীতে কেউ দিতে চায় না। এই আমাদের দেশে একটু বেশি। লোভটা অত্যন্ত বেশি। কারণ নেতারা সবই বিনা পয়সায় ব্যবসা করেন। বিনা মাশুল দিয়ে ব্যবসা করেন। সেটাই তারা করতে চান। তারা কোনো ট্যাক্স দিতে চান না।’

অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) আইন দুই বছরের জন্য স্থগিত হলেও এফবিসিসিআইয়ের পাশাপাশি অন্য ব্যবসায়ীরাও বলছেন যে এর বাস্তবায়ন আসলে শুরু হয়ে গেছে এবং নতুন ভ্যাট আইন বলতে আর কিছু হবে না। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাট আইন তো আছেই। ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনের পাশাপাশি ২০১১ সালে নতুন ভ্যাট আইনের খসড়া হলো। কিছু ক্ষেত্রে আমরা আগে যেটা ৩ থেকে ৪ শতাংশ ভ্যাট হার ছিল, সেগুলো ঢালাওভাবে ১৫ শতাংশ করে ফেলেছি।’

চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। বছর শেষে বাজেটের শতকরা ৯৩ ভাগ বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মুহিত বলেন, ‘চলতি বছরে বাস্তবায়ন তো খুব ভালো। কারণ রেভিনিউটি চিরদিন বেশি হয়, খরচ হয়। সব প্রবলেম এডিপিতে। এবার এডিপির বাস্তবায়ন প্রথম ছয় মাসে বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। এটা তো দারুণ ভালো। পারফরম্যান্ট খুবই ভালো।’

বিসিএস কাস্টমস ও বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা তাদের পেশাগত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে দেখা করেন। এই দুই ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রথম গ্রেডে পদায়ন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সব পদে তাদের ক্যাডার থেকে পদায়নের দাবি অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী তাদের এসব দাবি যৌক্তিক উল্লেখ করে তা বিবেচনার আশ্বাস দেন।

Leave a Reply