তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বপ্ন আর কোনোদিন পূরণ হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী

রাজনীতি

সহায়ক সরকার নয়, বরং ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখে, এই স্বপ্ন কোনোদিন পূরণ হবে না। যারা সহায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখে তা কোনোদিন পূরণ হবে না।’

মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ এ এসব কথা বলেন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হয় বলে দাবি করেন তোফায়েল আহমেদ। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও একইভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ। কেউ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, আমাদের কিছু করার নাই। তবে আমি মনে করি, আগামী নির্বাচন সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখে এই স্বপ্ন কোনোদিন পূরণ হবে না। যারা সহায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখে কোনোদিন পূরণ হবে না। সংবিধান অনুসারে, এই সরকারের অধীনেই পৃথিবীর অন্যান্য দেশ ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বিভিন্ন দেশে যে রকম ইলেকশন হয়, বাংলাদেশেও সে রকম ইলেকশন হবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. সেলিম। সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নকিব, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারেফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতা-কর্মীরা এসে সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক,সরকারও তা চায়: বাণিজ্যমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে আমেরিকার সহযোগিতা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, আমেরিকার রাষ্ট্রদূত বলেছেন, তারা ও যুক্তরাজ্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। আমরাও তাই চাই। সে নির্বাচন হতে হবে আমেরিকার মতো।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

তোফায়েল বলেন, বারাক ওবামা যেমন ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করেছেন, নির্বাচন দিয়েছেন। যাদের নিবন্ধন আছে তারা সবাই যেন নির্বাচনে অংশ নেয়, এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকেও ভূমিকা রাখতে বলেছি।

এদিকে, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি রাজাকার পরিহারে নীরব আর দুর্নীতিবাজ রক্ষায় সরব। তাই তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন আশা করা যায় না। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা রাজাকার পরিহারে চরম নীরবতা পালন করছে। এই দলকে ক্ষমতার বাইরে রাখাই বাঞ্ছনীয়।

শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া দিশা টাওয়ারে কবি ও লেখক জিয়াউর রহমানের তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এ সময় মায়ানমার সীমান্তে উত্তেজনার প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি। মায়ানমার বিষয় নিয়ে বর্তমান সরকার ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ ও বিশ্ববাসী একদিকে আর মায়ানমার এখন একঘরে।

এরআগে, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের জনসেবা প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের মা ও অভিভাবক সমাবেশে অংশ নেন তিনি। এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করে কারাগারে আছেন। উনি ওখানেই থাক। তার বয়স হয়েছে সেখানেই বিশ্রাম নিক। তিনি দুর্নীতি করেছেন তার ফলভোগ করছেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সরব হয়েছে বিএনপি। এ রকম পরিস্থিতি গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজের বোঝা নয়। তাই জঙ্গি সন্ত্রাস বর্জন করে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের বুকে টেনে নিন।

অন্যদিকে, আগামী নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের জনগণ ভোটের মালিক হলেও বিএনপি ক্ষমতায় আসতে বিদেশিদের সঙ্গে দরবার শুরু করেছে। দুর্নীতিবাজরা ক্ষমতায় এলে দেশের প্রগতিশীল ও সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন নেমে আসবে। তাই তাদের ক্ষমতায় আসতে দেয়া যাবে না।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ইউনাইটেড পার্টির চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ইমাম ওলামা সমাবেশে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময়, উন্নয়নের জন্যে, দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্যে বর্তমান সরকারকে আবারও ক্ষমতায় আনার কথা বলেন তিনি।

Leave a Reply