মণিপুরী ভাষা উৎসব অনুষ্ঠিত

সিলেট বিভাগ

নব প্রজন্মের কাছে নিজ মাতৃভাষা চর্চা-লালন ও ভালবাসা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত ‘মণিপুরী ভাষা উৎসব’ সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদের ( বামসাস) আয়োজনে শুক্রবার মদনমোহন কলেজের শহীদ সোলেমান হলে দিনব্যাপি এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মদনমোহন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রথম আলো’র নিজস্ব প্রতিবেদক উজ্জ্বল মেহেদী।
বক্তারা বলেন, মণিপুরী ভাষা প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ভাষা। বাংলাদেশে এ ভাষা চর্চা ও বিকাশের জন্য সরকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মে কাছে নিজেদের মাতৃভাষায় পড়ালেখা এবং ভালবাসার সৃষ্টির লক্ষ্যে মণিপুরী ভাষা উৎসব আয়োজনের প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ গত চার দশক যাবৎ নিজ ভাষা ও সাহিত্যের জন্য যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে তা প্রশংসার দাবীদার।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরনীপর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলী, বিশেষ অতিথি ছিলেন-দৈনিক উত্তরপূর্বের প্রধান সম্পাদক আজিজ আহমদ সেলিম ও মদনমোহন কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, মণিপুরীদের উৎসভূমি ভারতের মণিপুর রাজ্যের রাজ্যভাষা মণিপুরী ভাষা। এ ভাষাতে প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পাঠলাভের সুযোগ আছে। এ ভাষা ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তপশীলে অর্ন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভাষা হিসবে স্বীকৃত। অথচ বাংলাদেশে মহল বিশেষের ভ্রান্ত অপপ্রচার ও উপস্থাপনের কারণে মণিপুরী ভাষার পরিচয়ে নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। মণিপুরী ভাষা একটিই, যা ‘মৈতৈ ভাষা’ বা ‘মণিপুরী ভাষা’ নামে পরিচিত; ‘মৈতৈ মণিপুরী ভাষা’ নামে কোন ভাষা নেই।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ভাষা উৎসবে ছিল লিখিত পরীক্ষা, কবিতা ও ছড়াপাঠ,কুইজ প্রতিযোগিতা। উৎসবে ভানুগাছ, ছোটধামাই, বিশগাঁও ও সিলেট জোনাল প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ অর্ধশতাধিক স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

Leave a Reply