নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়

‘নারীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে সরকার। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অবস্থান নিশ্চিত করেছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় তিনি আরো বলেন, উন্নত সমাজ গড়তে হলে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে । ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জয়িতা’ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, নারীদের বসে থাকলে চলবে না। শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশায় সফল পাঁচ নারীকে অনুষ্ঠানে ‘জয়িতা’ সম্মাননা দেওয়া হয়।

বক্তব্যের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশ গড়ার পর জাতির পিতা মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো লাঞ্ছিত নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে দেন। তিনি এই নিপীড়িতদের বীরাঙ্গনা খেতাব পর্যন্ত দেন।

এসময় শেখ হাসিনা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ১৯৪৮ সাল থেকে সংগ্রাম শুরু করেন আমার বাবা। মা আড়ালে থেকে সবরকমের সহযোগিতা করে গেছেন বাবাকে। ’৬৮ সালে জাতির জনকের বিরুদ্ধে যখন মামলা দেওয়া হয়, তখনও মা শক্ত থেকে সংসার সামলেছেন, বাবাকে শক্তি জুগিয়েছেন।

‘বাবা যখন মন্ত্রী ছিলেন মা তখন যেমন ছিলেন, বাবা জেলে থাকাবস্থায়ও তিনি একইরকম ছিলেন। তার কোনো চাহিদা ছিল না। পাকিস্তানে অ্যাসেম্বলিতে অংশ নিতে জাতির পিতা সেখানে যেতেন, কিন্তু মা কখনো সেখানে যাওয়ার আবদার করেননি। কারণ তিনি জানতেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হবে, জাতির পিতা যে এ দেশের স্বাধীনতার জন্যই সংগ্রাম করছেন। এমনকি বাবা যখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তখনও একইরকম সরল জীবন যাপন করেছেন মা। তিনি থাকতেন ওই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতেই।’

জাতির জনককে ’৭৫-এ সপরিবারে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা দেশকে পিছিয়ে দেয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতো কি-না সন্দেহ আছে। তাদের কারণে দেশ পিছিয়ে যায়, নারীরাও পিছিয়ে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছিত-বঞ্চিত করা হয়। ’৯৬ সালে আমরা সরকারে আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়েছি। সরকারের পদক্ষেপের কারণে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের পরিচয় দিতে গর্ববোধ করতে পারেন।

জাতির জনকের নির্দেশিত পথে পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও নারী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা মেয়ে যদি নিজে অর্থ উপার্জন করতে পারে, তবে কেউ তাকে অবহেলা করতে পারে না। তাই মেয়েদের বসে থাকলে চলবে না, নিজেদের কাজ করতে হবে। আত্মনির্ভরশীল হতে হবে।

‘১৯৯৬ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি, সচিব পর্যায়ে কোনো নারী ছিল না, এমনকি একজন জর্জও নারী ছিল না। প্রত্যেকটি জায়গায় নারীকে এগিয়ে নিতে আমরা নানা সুযোগ-সুবিধা দিতে থাকি। এখন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড- প্রতিটি পর্যায়ে নারীরা এগিয়ে চলছে। আমাদের মেয়েরা এভারেস্টে পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। নারীরা যে সুযোগ পেলে পারে, তা আজ প্রমাণিত। সেজন্য স্থানীয় সরকারে পর্যন্ত মেয়েদের কোটা করে দিয়েছি, যেন নারী নেতৃত্বটা গ্রাম থেকে উঠে আসে।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন,কঠোর সাজার বিধান রেখে নারী সুরক্ষা আইন করছে বর্তমান সরকার।

এসময় তিনি নারীর স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে এবং কর্মসংস্থানে সরকারের সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশের মেয়েরা পিছিয়ে নেই, যে বাধা ছিল, তা ডিঙিয়ে সবক্ষেত্রে নারী এগিয়ে চলেছে, এগিয়ে যাবে।

Leave a Reply