খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আজ দুপুরে

রাজনীতি

দুর্নীতি মামলার রায়ে কারা অভ্যন্তরে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানি আজ রবিবার দুপুর ২টায় শুরু হবে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চের এদিনের কার‌্যতালিকায় জামিন আবেদনটি ৩৬ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। একইসঙ্গে জরিমানা স্থগিত করে বিচারিক আদালতে নথি তলব করেন। এ নথি ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠাতে হবে।

ওইদিন জামিন আবেদনের শুনানির জন্য রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিন ঠিক করেন আদালত।

জামিনের জন্য খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা ৩২টি যুক্তি দেখিয়েছেন। যুক্তিতে বলা হয়, আবেদনকারীর বয়স ৭৩ বছর। তিনি শারীরিকভাবে বিভিন্ন জাটিলতায় ভুগছেন। তিনি ৩০ বছর ধরে গেঁটে বাত, ২০ বছর ধরে ডায়াবেটিকস, ১০ বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে আয়রন স্বল্পতায় ভুগছেন।

তাছাড়া ১৯৯৭ সালে তার বাম হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে এবং ডান পায়ের হাঁটু ২০০২ সালে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। শারীরিক এসব জাটিলতার কারণ বিবেচনায় নিয়ে তার জামিন মঞ্জুরের সবিনয় আবেদন জানানো হয়।

তবে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, প্রত্যেক যুক্তির বিরুদ্ধে আদালতে জবাব দেওয়া হবে।

২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল দায়ের করেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকার বকশীবাজার কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত আদালতের বিশেষ জজ ৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছর কারাদণ্ডের রায় দেন।

একইসঙ্গে দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

রায় ঘোষণার ১১দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা রায়ের সার্টিফায়েড কপি (অনুলিপি) হাতে পান। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে পুরোনো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে।

কারাগারে কিভাবে কাটছে খালেদা জিয়ার সময়
ঢাকা: বহুলালোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আজ শনিবার চলছে ১৭তম দিন। নির্জন কারাগারে কেমন আছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী? এ নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের বাইরেও সাধারণ মানুষের আগ্রহের কমতি নেই।

৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত তিন দফায় তার ভাই-বোনের পরিবারের সদস্যরা দেখা করেছেন। একবার দেখা করেছেন বিএনপি-প্রধানের কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ সময় চুপচাপই থাকেন বেগম জিয়া। তার সময় কাটে ইবাদত-বন্দেগি আর পত্রিকা পড়ে। মাঝেমধ্যে বাধ্য হয়ে বিটিভিও দেখেন। পুরো সময়টা জুড়েই তার সঙ্গে থাকেন গৃহকর্মী ফাতেমা। সেখানে দায়িত্বরত কারা মহিলা স্টাফদের সঙ্গেও আলাপচারিতায় তার সময় কাটে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি (২০১৮) খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয় তার বড় ছেলে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচজনকে। রায় ঘোষণার পরই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে ‘বিশেষ কারাগার’ ঘোষণা দিয়ে সেখানে রাখা হয়।

কারাগারে যাওয়ার পর একবার বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচজন সিনিয়র আইনজীবী। এর বাইরে তিন দফায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন তার বড় বোন সেলিনা হোসেন বিউটি ও তার ছেলে, বড় ভাইয়ের স্ত্রী, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও তাদের ছেলে অভীক এস্কান্দার।

এ ছাড়া একবার দেখা করেছেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর শাশুড়ি।

Leave a Reply