লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার বিচার দাবি

প্রবাস

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার বিচার দাবি পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ করেছেন। আগামী সাতদিনের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা না হলে বাংলাদেশে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস ঘেরাও করার ঘোষণা দেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ নেতারা।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে এই দাবি জানান নেতারা। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অবমাননাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ নেতারা।

এসময় বক্তারা অভিযোগ করেন, তারেক রহমানের (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন) নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের কিছু লোক বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা চালায়। তারা বলেন, হামলাকারীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির অবমাননা করে পুরো বাংলাদেশকে অবমাননা করেছে। তাই আগামী সাতদিনের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা না হলে বাংলাদেশে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস ঘেরাও করার ঘোষণা দেন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ নেতারা।

সংগঠনের মহাসচিব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল হাসান খান বলেন, ‘আগামী সাতদিন আমরা সময় দিলাম। সাতদিনের মধ্যে যদি ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অথবা ব্রিটিশ সরকারের মধ্য থেকে কোনো ধরনের পদক্ষেপ আমরা না দেখি তারপর এই পেশাজীবীরা ব্রিটিশ হাইকমিশন, বাংলাদেশ আমরা ঘেরাও করব।’

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে এর আগের দিন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এ হামলার নিন্দা জানান।

কোনো দল নিজেদের দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেনি, বিশিষ্টজনদের অভিমত
‘গণতন্ত্র ও নির্বাচন ফলপ্রসূ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর যে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন, তা তারা রাখছে না। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনও হয়েছিল সংবিধানের কথা বলে। কোনো দল নিজেদের দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেনি। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারা ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চায়’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সেমিনারে বিশিষ্টজনেরা এসব কথা বলেছেন। বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে ওই সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা ফোরাম। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দীন আহমেদ এবং সেমিনারে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন সাবেক কূটনীতিক সিরাজুল ইসলাম।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আশা অনেকটা নিভে গেছে। ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি নির্বাচন হবে না, তা বিশ্বাস করার মতো উপাদান কমই আছে। কোনো দলের জন্য নয়, দেশের স্বার্থে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জরুরি। না হলে দেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

সালেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, হাল ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি আশা করেন, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। দেশ যে অবস্থায় এসেছে, অর্জনগুলো দৃঢ় করতে হলে গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। আলাপ আলোচনার সুযোগ না থাকলে গণতন্ত্র ও সুশাসন থাকবে না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্র আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ভারত। ২০১৪ সালেও তা দেখা গেছে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সুশীল সমাজকে গাধা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য তিনি সমর্থন করেন। কারণ, সুশীল সমাজের পদলেহনের যে মনোবৃত্তি, তাতে এটাই তাদের প্রাপ্য সম্মান।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মঈনুল হোসেন বলেন, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে। দেশে গণতন্ত্র ও নির্বাচন না থাকলে চাটুকারদের বিজয় হয়। বর্তমান অবস্থায় সুশীল সমাজের কিছু করার সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন না। কারণ সবাই ভয়ভীতি আতঙ্কের মধ্যে আছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসির কাছে মানুষের কোনো প্রত্যাশা নেই। প্রধানমন্ত্রী সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। আর বিরোধীরা ঘরেও অনুষ্ঠান করতে পারছে না। ইসি বলছে, তারা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করবে। কিন্তু তার কোনো আলামত নেই।

আমীর খসরু আরো বলেন, ইসির ভূমিকা কী, এমন প্রশ্ন রেখে আমীর খসরু বলেন, ভবিষ্যতে ইসি কোনো পদক্ষেপ নেবে, তা বিশ্বাস করারও কোনো কারণ নেই।

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের দুর্বলতার বড় কারণ নাগরিক সমাজের দুর্বলতা। জনগণ বুঝতে পারে নির্বাচন প্রহসন হবে। জনমত সংগঠিত করার দায়িত্ব নাগরিক সমাজের। তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে।

তিনি আরো বলেন, যারা দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না, তারা কীভাবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি রাজনৈতিক দলের ছায়ার বাইরে নাগরিক সমাজের একটি নিরপেক্ষ ‘প্ল্যাটফর্ম’ গঠন করার পরামর্শ দেন।

সেমিনারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, এখন যে প্রস্তুতি ও পরিবেশ, তাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। সংসদ ভেঙে নির্বাচন দেওয়া ও নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয় আমলে নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, একদল নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছে, আরেক দল বন্দী। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ইসির কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করা। এ জন্য যা যা দরকার, তা তাদের করতে হবে। প্রয়োজনে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।

ভারতীয় সেনাপ্রধানের বক্তব্যের বিষয়ে হাফিজউদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত তার বক্তব্যের কোনো প্রতিবাদ হয়নি, এটা দুঃখজনক। কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ কী ভারতের স্বায়ত্তশাসিত অংশ হয়ে যাবে নাকি।

Leave a Reply