অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন : লুই মার্সেল

আন্তর্জাতিক

অটোয়া : কানাডিয়ান পার্লামেন্টে বাংলাদেশ ককাসের সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী লুই মার্সেল বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ প্রয়োগের জন্য কানাডা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিষ্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে লুই মার্সেল এই আহ্বান জানান। লুই মার্সেল কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা চিঠির অনুলিপি কানাডা বিএনপি নেতা ফয়সল আহমেদ চৌধুরীকেও পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে লুই মার্সেল বলেন, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি চিঠিতে আরো উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে কোন নির্বাচন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্য ও অর্থবহ হবে না।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সাজা ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। রায় ঘোষণার তিনদিন পর আদালতের নির্দেশে তাকে ডিভিশন বা প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে রায়ের সার্টিফাইড কপি দিতে দেরি করে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে আপীল সুবিধা নিতে দেরি হয়ে যায়।

কানাডার বিশ্বনন্দিত প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো ভারতে এসে উপেক্ষিত কেন?
ভারত সফররত কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো-কে ভারত সরকার ইচ্ছে করে উপেক্ষা করছে কি না, তার সফরের শুরুতেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে কানাডার সংবাদমাধ্যমেও চর্চা হচ্ছে।

এই প্রশ্নটা মূলত উঠছে এই কারণেই যে মি ট্রুডো যখন স্ত্রী সোফি ও তার তিন সন্তানকে নিয়ে ভারতে এসে নামেন, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে যাননি। খবর বিবিসির

অথচ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানরা যখন ভারতে আসেন, তখন প্রোটোকল ভেঙে তাদের স্বাগত জানাতে যাওয়াটা প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রায় রুটিনে পরিণত করে ফেলেছেন।

গত মাসেই তিনি তার ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন ‘বিবি’ নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। ২০১৫তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রেও তিনি একই জিনিস করেছিলেন।

আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হল কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ কিংবা তার দুই প্রতিমন্ত্রী – ভি কে সিং বা এম জে আকবর পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন না।

কানাডার ‘রকস্টার’ প্রধানমন্ত্রীর জন্য এই উপেক্ষা ছিল একেবারেই বেমানান!

সপরিবার ট্রুডোকে ভারতে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন জুনিয়র মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং, যিনি মাত্র মাসচারেক আগে প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়েছেন।

ট্রুডোকে ভারত যে এভাবে শীতল অভ্যর্থনা জানাচ্ছে তার একটা কারণ হতে পারে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘খালিস্তান’ আন্দোলনের সমর্থকদের প্রতি তার সরকার যে মনোভাব নিয়েছে সেটা।

জাস্টিন ট্রুডোর ক্যাবিনেটে যে চারজন শিখ মন্ত্রী আছেন, তার মধ্যে অন্তত দুজন – হরজিৎ সজ্জন ও অমরজিৎ সোধি – প্রকাশ্যেই কানাডাতে খালিস্তান আন্দোলনকে সমর্থন করে নানা বিবৃতি দিয়েছেন।

ভারতে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং গত বছর ট্রুডো ক্ষমতায় আসার পরই এ ব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে তাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন।

ট্রুডো বুধবার অমৃতসরে শিখদের পবিত্র তীর্থস্থান অমৃতসর সফরে যাবেন, কিন্তু অমরিন্দর সিং তার সঙ্গে দেখা করতে রাজি নন বলেই জানা যাচ্ছে।

গতকাল রবিবার ট্রুডো যখন সপরিবারে তাজমহল সফর করেন, তখন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের অনুপস্থিতিও নজর এড়ায়নি।

অথচ এই আদিত্যনাথই গত মাসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে রীতিমতো লাল কার্পেট বিছিয়ে তাজমহলে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন।

তবে জাস্টিন ট্রুডোর ভারত সফরে এই তথাকথিত উপেক্ষার আরও একটা কারণ হতে পারে তার বিচিত্র সফরসূচী।

সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ সরকারপ্রধানদের ভারত সফর শুরু হয় দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়ে ও তারপর হায়দ্রাবাদ হাউসে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্যে দিয়ে।

আগ্রা, আহমেদাবাদ, মুম্বাই, হায়দ্রাবাদ বা ব্যাঙ্গালোরের মতো শহরগুলো সচরাচর রাখা হয় সফরের দ্বিতীয়ার্ধে।

কিন্তু জাস্টিন ট্রুডোর ক্ষেত্রে তিনি শনিবার ভারতে পা রেখেছেন মুম্বাই দিয়ে। রবিবার তিনি কাটিয়েছেন আগ্রায়, আজ সোমবার আছেন আহমেদাবাদে।

এরপর মঙ্গলবার আবার মুম্বাই, বুধবার অমৃতসরে কাটিয়ে তার সপ্তাহব্যাপী সফরের শেষ দুটো দিন, বৃহস্পতি ও শুক্রবার শুধু বরাদ্দ রাখা হয়েছে দিল্লির জন্য।

ফলে কূটনীতিক মহলের অনেকেই বলছেন, ভারতে জাস্টিন ট্রুডোর সফরসূচী যারাই স্থির করুন না কেন, তাদের এটা আরও অনেক ভালভাবে করা উচিত ছিল!

Leave a Reply