শ্রীলঙ্কার কাছে লজ্জার হার টাইগারদের

খেলার খবর

সম্মান বাঁচানোর ম্যাচে বড় ব্যবধানের পরাজয় বাংলাদেশের ক্রিকেট টিমের সামর্থ্য নিয়েই আবার প্রশ্নের সম্মুখিন করে দিল গোটা বিশ্বের কাছে। যে পিচে শ্রীলঙ্কা হাসতে খেলতে ২১০ রান সংগ্রহ করতে পারলো, সে পিচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতেই পারলো না। আজও শ্রীলঙ্কার কাছে লজ্জার হারে মাথা নত করে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।

জয়ের লক্ষ্যটা ছিল পাহাড়সম, ২১১ রান। শুরুতে ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কাকে এই বিশাল সংগ্রহ গড়তে দেখেই হয়তো বাংলাদেশের জয় নিয়ে সন্দীহান হয়ে পড়েছিলেন সমর্থকেরা। শেষপর্যন্ত হয়েছেও তেমনটাই। তবে হারের ধরণ ও ব্যবধান যে এতটা খারাপ হবে- সেটা হয়তো প্রত্যাশা করেননি অনেকে। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে হারের পর সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি বাংলাদেশ হেরেছে ৭৫ রানের বড় ব্যবধানে। ২১১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৮ বল বাকি থাকতেই ১৩৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

ব্যাটিংয়ে নেমেই ঝড় তোলেন দুই লঙ্কান ওপেনার দানুস্কা গুনাথিলাকা ও কুশল মেন্ডিস। তাদের ব্যাটিয়ে ঝড়ে মাত্র ৫.২ বলেই দলীয় অর্ধশতক পূর্ণ করেন তারা। ২৯ বলে ক্যারিয়ারের ২য় ফিফটি তুলে নেন মেন্ডিস। মাত্র ২ রানের জন্য শত রানের জুটি করতে পারেননি তারা। মোস্তাফিজ-নাজমুল-রাহীরা যখন ব্যর্থ, তখন দেরিতে হলেও বল হাতে সফলতা আনেন সৌম্য সরকার। দলীয় ৯৮ রানের ফেরান গুনাথিলাকাকে।

থিসারা পেরেরাও এসে দ্রুত গতিতে স্কোর গড়তে থাকেন। ২য় জুটিতে তারা ৫১ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ১৫৯ রানে পেরেরা আবু জায়েরের শিকার হোন। পেরেরা ফেরার পর দলীয় ১৬০ রানের নিজের ঝড়ো ইনিংস থামান ওপেনার কুশল মেন্ডিস। মোস্তাফিজের শিকার হওয়ার আগে করে ৪২ বলে ৭২ রান। পরে উপুল থারাঙ্গা আর দাসুন শানাকা মিলে স্কোরটা ২০৯ রানে দাঁড় করান।

গুনাথিলাকা-কুশল মেন্ডিসদের দেয়া ২১০ রানের পাহাড়ে পড়ে শুরুতেই হতাশায় ছন্দপতন হয় টাইগারদের। দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলেই ব্যাটে হতাশার ছাপ দেখান সৌম্য সরকার। দলীয় ৮ রানের ধনঞ্জয়ার শিকার সৌম্য। দুই ওভার পরেই সৌম্যের পাশের চেয়ার দখল করেন মুশফিক রহীম।

মুশফিক দলীয় ১৪ রানের পর ২২ রানেই ফেরেন ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দলে ফেরা মোহাম্মদ মিথুন। মিথুনের ফেরার পর কিছু সময় নেন ইনজুরি থেকে ফেরা তামিম ইকবাল। তামিম দলীয় ৫৯ আর আরিফুল ৬৮ রানে ফিরলে ব্যাটিং চাপে পড়ে টাইগাররা।

সাইফউদ্দিনকে নিয়ে পরাজয়ের ব্যবধানটা কমাতে গিয়ে ব্যর্থ হন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহও। দলীয় অধিনায়কের ব্যর্থতার জন্য দায়ী সাইফউদ্দিনও। দুজনের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেয় শ্রীলঙ্কার ফিল্ডাররা। অধিনায়ক ১১০ রানের মাথায় ফিরলে পরাজয়ের ব্যবধানটা বেশি কমানো সম্ভব হয়নি বাকি ব্যাটসম্যানদের। সাইফ ১১৩, মেহেদী হাসান ১৩২ ও মোস্তাফিজ দলীয় ১৩৫ রানের ফিরলে ইনিংস সেখানেই শেষ হয়। পূর্ণ হয় হারের ষোলকলা। মাহমুদুল্লাহ ৪১, তামিম ২৯, সাইফ ২০ এবং মেহেদী হাসান ১১ রান ছাড়া বাকিরা দুই অংকের কোটায় পৌঁছাননি।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে শেহান মাদুশানাকা ও দানুস্কা গুনাথিলাকা ২টি এবং আমিলা আপনসো, দাসুন শানাকা, আকিলা ধনঞ্জয়া, ইসুরু উদানা, জীবন মেন্ডিস একটি করে উইকেট নেন। আর বাংলাদেশের পক্ষে মোস্তাফিজ, আবু জায়েদ, সাইফউদ্দিন ও সৌম্য সরকার একটি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশ একাদশ : মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, আরিফুল হক, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, নাজমুল ইসলাম অপু, মুস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান ও আবু জায়েদ রাহী।

Leave a Reply