প্রশ্নফাঁস নতুন কিছু নয় : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়

‘প্রশ্নফাঁস নতুন কিছু নয়, কারা প্রশ্নফাঁস করেন আপনারা তথ্য দেন, আপনাদের তো এজেন্ট আছে সব জায়গায়’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার গণভবনে পূর্ব নির্ধারিত প্রেসব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটি সফর নিয়ে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘প্রশ্ন কত সময় আগে ফাঁস হয়। ২০ মিনিট আগে। আর এতো ট্যালেন্ট কে আছে, যে ২০ মিনিট আগে প্রশ্ন পেয়ে সব কিছু মুখস্ত করে লিখে ফেলবে?’

প্রশ্নফাঁস রোধে ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ করা উচিত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মন্ত্রী-সচিবরা গিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করে আসেন না।’

তিনি আরো জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে শংকিত হওয়া কিছু নেই, এ বছরের মার্চ মাসে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন হবে।

প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানান, আজ থেকে ফোর–জি যুগে প্রবেশ করছি।

আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, বিএনপির নেতৃত্বের কি এতোই দৈন্যদশা যে অন্য কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে পারত না, বিএনপিতে কি একটা নেতাও দেশে নেই, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে পারত, ক্ষেত্র বিশেষে বা ব্যক্তি বিশেষে দুর্নীতি করলে সমালোচনা হয় ন, তারেক রহমানের দুর্নীতি সর্বজনবিদিত।

‘ইতালি সফর সফল হয়েছে’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইফাদ সম্মেলনে কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের খাবার বিতরণ করায় এফএও’কে ধন্যবাদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় তিনি জানান, অপকর্ম না করলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত তাকে (খালেদা জিয়া) ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। মামলা তো আমি দেই নাই। এটা আদালত দিয়েছে। মামলা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সরকারও তাদের ছিল। তাদের নিজেদের লোক।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলা ১০ বছর চলেছে। সেখানে ৮০ বারের বেশি রিট করা হয়েছে এবং সময় নেয়া হয়েছে। জজের প্রতি তিনবার অনাস্থাও দিয়েছে। জজও পরিবর্তন হয়েছে। এতকিছুর পরও তিনি ৪৩ দিন কোর্টে উপস্থিত ছিলেন। তারপর তার সাজা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনার (খালেদা জিয়ার) প্রথম আইনজীবী রফিকুল হক সাহেব কিন্তু বলেছেন- টাকাটা দিয়ে দেন। তখন কিন্তু আর মামলাটা থাকতো না। টাকা দেননি। এতিমের টাকা খেলে শাস্তি আল্লাহও দেন, আদালতও দেন। আমাদের কিছু করার নেই। কিছু করার আছে?’

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির যেসব নেতারা দেশের অবস্থান করছেন, তাদের মধ্যে কি একজনও নেই, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের করা যেত। যাকে দায়িত্ব দেয়া হলো সে তত্ত্বাবধায়কের আমলে রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে বিদেশে চলে গেল। এফবিআইয়ের তদন্তের অপরাধী প্রমাণ হয়ে সে সাজাপ্রাপ্ত।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপিতে এখন যারা আছেন, তারা দেখছি খুবই কাজ করছে, খুব কর্মঠ। তাদের মধ্যেও কি একটা নেতা পাওয়া গেল না, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা যেত?’

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটিতে চার দিনের সরকারি সফর শেষে ১৭ জানুয়ারি শনিবার রাতে দেশে ফিরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

  •  
  •  

Leave a Reply