কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে আঙ্কারা সব সমস্যার সমাধান চায় : এরদোগান

আন্তর্জাতিক

আঙ্কারা : সিরিয়া নিয়ে মতবিরোধ মোকাবেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে সাম্প্রতিক উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার পর গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকে আঙ্কারা অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

রবিবার আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন জাস্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) প্রাদেশিক সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় এরদোগান এই কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, ‘আলোচনা অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু আমরা সবচেয়ে আগ্রহী এর ফলাফল দেখতে। আমাদের মূল আগ্রহ হচ্ছে চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন এবং সম্পর্কের উন্নয়ন। এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রত্যেকের নিজেদের ভুল সংশোধন করা প্রয়োজন।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কূটনীতি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে সব সমস্যার সমাধান করতে চায় আঙ্কারা। সাম্প্রতিক উন্নয়ন বলে দেয় যে তুরস্ক তার হাত বাড়িয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করেনি।

১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে এরদোগান বলেন, সিরিয়া নিয়ে সমন্বয় সাধনের জন্য নতুন মেকানিজম গঠন করার জন্য দুই মিত্র একমত পোষণ করেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।’

চলমান ‘অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের আলোচনা চালিয়ে যাব। একই সঙ্গে আমরা আমাদের অভিযানও চালিয়ে যাব।’

তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, ‘এই ধরনের প্রক্রিয়ার সময় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঙ্গভঙ্গি সবসময়ই সম্ভব হয় কিন্তু আমাদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্যগুলো সম্পর্কে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘অন্য সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থনের মাধ্যমে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে পরাজিত করা যাবে না। আমরা তাদের বলেছিলাম যে এই জোটের কারণে তারা কুখ্যাতিপূর্ণভাবে স্মরণ করা হবে।’

সিরিয়ার কুর্দি বাহিনীকে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও বিমান সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ওয়াশিংটন আঙ্কারাকে ক্ষুব্ধ করেছে। তুরস্ক মনে করে যে ওয়াইপিজি কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) একটি বর্ধিত অংশ। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পিকেকে তুরস্কের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় কুর্দিশ অঞ্চলে ভয়াবহ বিদ্রোহ সৃষ্টি করে চলেছে।

গত ৬ ডিসেম্বর থেকে সিরিয়ার বিদ্রোহী দল কুর্দি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে ‘অলিভ ব্রাঞ্চ’ নামে অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক সেনাবাহিনী। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আফরিন থেকে কুর্দিস পিপলস প্রটেকশন ইউনিটকে (ওয়াইপিজি) বিতাড়িত করতে স্থল ও আকাশ পথে অভিযান শুরু করে তুর্কি বাহিনী।

সূত্র: হুরিয়েত নিউজ

Leave a Reply