যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে ব্যাপক গোলাগুলি

আন্তর্জাতিক

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের সামনে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একজন সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার সকালে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে বিবিসি, দি গার্ডিয়ান, সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে।

এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) প্রধান কার্যালয়ের বাইরে বুধবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে সিবিএস নিউজ। বুধবার স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকালের দিকে ওয়াশিংটনের যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা দপ্তরটির মূল প্রবেশ পথে একটি এসইউভি বা ভারি যানকে জোর করে থামানো হয় বলে জানায় সিবিএস।

এনএসএ-এর প্রধান কার্যালয়ে যানবাহন প্রবেশের ফটকে থাকা গাড়িটির গায়ে বুলেটের আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।

এনএসএ পুলিশ, এফবিআই ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই এলাকায় সক্রিয় আছে বলে জানিয়েছে সিবিএস।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ)-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সকালে এনএসএ-র নিরাপত্তা যানের প্রবেশদ্বারে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে আর কোনও নিরাপত্তা হুমকি নেই।

এঘটনা সম্পর্কে এফবিআই এর বাল্টিমোর অফিসের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘এফবিআই ঘটনাস্থলে রয়েছে। এখনি বিস্তারিতভাবে আর কোন কিছু বলা যাচ্ছেনা।’

এদিকে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, মেরিল্যান্ডে এনএসএ সদর দফতরের বাইরে গোলাগুলির ঘটনায় দ্রুত অ্যাকশনে যায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটকে সক্ষম হয় তারা। ওই সন্দেহভাজনকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

হেলিকপ্টার থেকে নেওয়া একটি টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপন দফতরের সদস্যরা ভবনের গাড়ি প্রবেশের ফটকটি সুরক্ষিত রাখতে কাজ করছেন। সেখানকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন কর্মকর্তারা।

এনএসএ-র প্রবেশদ্বার সংলগ্ন রাস্তায় যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এ পথে আসা গাড়িগুলোকে পথনির্দেশনা দিচ্ছেন কর্মকর্তারা।

এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পাঠানো তাদের হেলিকপ্টার থেকে দেখা গেছে, মেঝেতে হ্যান্ডকাপ পরে বসে আছেন এক ব্যক্তি। তাকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ সদস্যরা।

হামলার ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

এফবিআই বলছে, ‘পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এবং সেখানে আর কোনও নতুন হুমকি দেখা যাচ্ছে না। এসইউভিটি ওই জায়গায় ঠিক কী উদ্দেশ্যে গিয়েছিল তা পরিষ্কার নয়।’

হোয়াইট হাউজের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি লিন্ডসে ওয়াল্টারস বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং তারা হতাহতদের জন্য প্রার্থনা করছেন।’

এর দুই দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যে দুই পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার এ ঘটনা ঘটেছিল। নিহত হয়েছিলেন-এন্থনি মোরেলি (৫৪) ও এরিক জোয়েরিং (৩৯)।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে এ খবর প্রকাশ করা হয়।

রাজ্য পুলিশের প্রধান জ্যো মোর্বিটজার সাংবাদিকদের জানান, দুপুরে ওয়েস্টারভিলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে গোলাগুলির খবর পেয়ে সেখানে গেলে তাদের গুলি করা হয়। এন্থনি মোরেলি ২৯ বছর ও এরিক জোয়েরিং ১৬ বছর ধরে পুলিশে কর্মরত ছিলেন।

জ্যো মোর্বিটজার আরো জানান, জরুরি নম্বর ৯১১-তে কল আসার পর তারা সেখানে যান। পুলিশের ভালো কর্মকর্তাদের মধ্যে ওই দুজন ছিলেন অন্যতম। তাদের কাছে কল আসে এবং তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন। এ ঘটনায় আহত এক সন্দেভাজন পুলিশি হেফাজতে স্থানীয় হাসপাতালে রয়েছেন।

ওহাইওয়ের গভর্নর জন ক্যাসিচ বলেন, তাদের মৃত্যু শুধু ওয়েস্টারভিলের জন্যই নয়, পুরো ওহাইওর জন্য দুঃখজনক।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটে লেখেন, আমার প্রার্থনা ও সভানুভূতি রয়েছে নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা, তাদের পরিবার ও ওয়েস্টারভিলের সবার প্রতি।

যুক্তরাষ্ট্রকে হামাস মুখপাত্রের কঠোর হুঁশিয়ারি
গাজা: যুক্তরাষ্ট্রেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। ভিন্ন কৌশলে ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলন থামানো যাবে না। একসময় নিজেদেরকেই লেজ গুটি নিতে হবে।

সম্প্রতি শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়াকে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটির এক শীর্ষ নেতা এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি না দিলেও সংগঠনের শীর্ষ একজন নেতা আল জাজিরাকে বলেছেন, এটি ফিলিস্তিনিদের প্রতি মার্কিন বিদ্বেষ। এদিকে একজন হামাস মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে তেহরানভিত্তিক রেডিও তেহরান জানিয়েছে, সন্ত্রাসী তালিকাভূক্ত করে কিংবা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে হামাসের ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধ থামানো যাবে না।

ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের সশস্ত্র সংগঠন
২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন ফিলিস্তিনিরা। ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইন্তিফাদা বা সর্বাত্মক প্রতিরোধের ডাক দেয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

ট্রাম্প আর নেতানিয়াহু’র ছবি পুড়িয়ে, আমেরিকা-ইসরাইলের পতাকা জ্বালিয়ে প্রতিরোধ শুরু করে হামাস সমর্থকরা।

বুধবার সংগঠনটির সামরিক বাহিনীর সাথে হানিয়ার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, সশস্ত্র কার্যক্রমের ইন্ধন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলের ওপর ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার সাথে তিনি (হানিয়া) জড়িত। এছাড়া সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ১৭ মার্কিন নাগরিক হত্যার সাথে হামাস দায়ী। সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভূক্তির কারণে মার্কিন অর্থ বিভাগের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লেন হানিয়া। এখন থেকে তিনি মার্কিন ভিত্তিক কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা পাবেন না। যুক্তরাষ্ট্রে তার যে কোন ধরণের সম্পত্তি, ব্যবসা বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত থাকতে পারবেন না তিনি।

হামাসের একজন শীর্ষ নেতা গাজী হামাদ হানিয়াকে ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধের প্রতীক আখ্যা দিয়েছেন। গাজা উপত্যকা থেকে তিনি আল জাজিরাকে বলেছেন, সংগঠনের নেতা ইসমাইল হানিয়াকে মার্কিন সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্বান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনার অংশ।

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্বেষ নজিরবিহীন।’ ইসরায়েলের প্রতি অব্যাহত অন্যায্য সমর্থন, জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা থেকে মার্কিন সহায়তা কর্তনের মধ্য দিয়ে এই বিদ্বেষ জারি রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে তেহরানভিত্তিক পার্সটুডে একজন হামাস মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ইসরায়েলবিরোধী যুদ্ধ না থামানোর অঙ্গীকার করেছে সংগঠনটি। হামাসের ওই মুখপাত্র বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নতুন ইন্তিফাদা বা গণজাগরণ সৃষ্টি না করছি ততক্ষণ মার্কিন সমর্থিত এই ইহুদিবাদী নীতিকে মোকাবেলা করা যাবে না।

তিনি বলেন, আমরা মার্কিন এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাচ্ছি এবং প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা মনে করি আমেরিকার একদল ইহুদিবাদী লোকের চিন্তা-ভাবনার ফসল হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত। হামাসের কাছে এ সিদ্ধান্তের কোনো মূল্য নেই।

Leave a Reply