গৃহপরিচারিকা ফাতেমা এখন বেগম খালেদা জিয়ার পাশে

জাতীয়

নানান জল্পনা কল্পনা শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে থাকার জন্য গৃহপরিচারিকা ফাতেমা অনুমতি পেয়েছে কারা কর্তৃপক্ষের। এখন এই গৃহপরিচারিকা ফাতেমা এখন বেগম খালেদা জিয়ার পাশে রয়েছেন বলে কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

বুধবার বিকেলে ফাতেমাকে কারাগারে প্রবেশ ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকার অনুমতি দেয়া হয়।

এর আগে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে থাকার অনুমতি দিয়েছিল।

তবে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের আইনের দোহাই দিয়ে

গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে কারাগারে প্রবেশ করতে দেয় নি।

পরে নানা সমালোচনার মুখে বুধবার জেল কোডের আলোকে ফাতেমাকে খালেদা জিয়ার গৃহ পরিচারিকা হিসেবে নিয়োগ দেয়।

এ প্রসঙ্গে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, আদালতের নির্দেশে জেল কোডের আলোকে ফাতেমাকে খালেদা জিয়ার গৃহ পরিচারিকা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কুমিল্লার তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে। মামলা তিনটি তেজগাঁও, শাহবাগ ও কুমিল্লা থানার।

সোমবার সন্ধ্যার দিকে এ খবর নিশ্চিত করেন আইজি (প্রিজন্স)।

এর আগে সোমবার সকালে কুমিল্লা আদালতের একটি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কুমিল্লার কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য মো. কাইমুল হক।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার সংলগ্ন জগমোহনপুর এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের মামলায় গত ২ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার আমলি আদালতে (চৌদ্দগ্রাম) ওই মামলার বিচারকার্যের দিন ধার্য করা হয়েছে।

সুব্রত ব্যানার্জি জানান, জগমোহনপুর এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। বিষয়টি এখন ঢাকার এখতিয়ারে। আমাদের এখানে কিছু নেই।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মো. কাইমুল হক জানান, সোমবার গুলশান থানা-পুলিশ ওই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি বাস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় আসামাত্র দুর্বৃত্তরা পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে ঘটনাস্থলে সাতজন ও হাসপাতালে নেওয়ার দুদিন পর আরও একজনসহ মোট আটজন মারা যান ও ২৭ জন আহত হন। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হলে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা তদন্ত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মো. ইব্রাহিম। দুই বছর এক মাস তিন দিন পর ২০১৭ সালের ৬ মার্চ কুমিল্লার আদালতে ওই দুই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সালাউদ্দিন আহমেদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ ও বিএনপির উপদেষ্টা সাবেক সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী, চৌদ্দগ্রামের জামায়াতের সাবেক সাংসদ সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির সাহাবউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. মিজানুর রহমান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির শাহজাহান, চিওড়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির মেজবাহ উদ্দিন ওরফে নয়ন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদাসহ ৭৮ জনের নামে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। খালেদা জিয়া মামলার ৫১ নম্বর আসামি।

Leave a Reply