নাশকতার মামলায় খালেদা জিয়া ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’

রাজনীতি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কুমিল্লার একটি নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট) হয়েছে। সোমবার দুপুর ১টার দিকে এ খবর জানা গেছে।

বিস্তারিত আসছে….

ভারতীয় মিডিয়ায় খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে নানান কথা

ঢাকা: ভারতের প্রায় প্রচলিত সব গণমাধ্যমেই বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচার এবং জেল প্রসঙ্গে খবর প্রকাশ করেছে।

কোনো কোনো পত্রিকা প্রতিবেদন করেছে, কোনোটিতে সম্পাদকীয়তে ধরা হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার ওই বিচার বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে এগুলোই বার বার উঠে এসেছে পাশের দেশের গণমাধ্যমগুলোয়।

ভারতের বিখ্যাত পত্রিকা ‘ইকনমিক টাইমস’ লিখেছে, ওই রায়ে সবচেয়ে বড় সুবিধাটা পাবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। কেননা ওই রায়ে তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বিন্দ্বিকে তিনি দমাতে পেরেছেন এবং ‘জনগণ বিশ্বাস করে, রাজনৈতিকভাবে যে কেউ যে কোনো মামলাকে প্রভাবিত করতে পারেন’ বলে দাবি করছে গণমাধ্যমটি। তবে গণমাধ্যমটি আশঙ্কা করেছে, যদি প্রকৃত গণতন্ত্র না থাকে তাহলে ওই ধরনের রায় বাংলাদেশকে একটি রক্তাক্ত পথের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ওই ধরনের রায় নিয়ে বেশ আশাবাদী ‘দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’। এর মাধ্যমে দেশের আইন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে পত্রিকাটি ওই রায়ের দিকে ইশারা করে জানায়, এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘রাজনৈতিক কর্তৃত্ব আরো জোরালো হবে।’

ওই পত্রিকাটি মনে করে, এই রায়ের মধ্য দিয়ে যদি খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েন তাহলে অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হবে আওয়ামী লীগ যার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চরিত্রের স্থলন হবে।

উল্লেখিত রায়ের খবরটি দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রথম পৃষ্ঠায় তুলে এনে প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপক সাহসিকতার প্রশংসা করেন। ১৯৭৫ সালের কালো দিনের মতো ঘটনাটি সঙ্গী করে আজও রাজনীতির মাঠে লড়ে যাচ্ছেন, আছেন জনগণের পাশে। তবে পত্রিকাটি মনে করে, ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা হ্রাস পাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রিয়তা।

ওই পত্রিকাটি বাংলাদেশ সরকারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিটি প্রশংসনীয় উদাহরণ হিসেবে মনে করে। তবে ‘বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক সুযোগ ব্যবহার করে জনতার মতামত প্রকাশ করতে’ দেয়ার ওপর জোর দেয় পত্রিকাটি।

খবর, প্রতিবেদন ও সংবাদ বিশ্লেষণ- তিনটি বিভাগেই খালেদা জিয়ার ওই মামলা বিষয়টি সামনে রেখেছে ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দি হিন্দু’। ‘এখানেই কী খালেদার সমাপ্তি’ শীর্ষক এক সংবাদ বিশ্লেষণে বেগম জিয়া এবং বর্তমান সংসদের অংশীদারহীন দল বিএনপির ভবিষ্যৎ ও তার কর্মপন্থা নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ হাজির করেছেন সাংবাদিক হারুন হাবিব।

ওই বিশ্লেষণ মতে, খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে যেতে আগ্রহী ছিলেন। হয়তো তার দাবি থেকে হালকা ছাড় দিতেন। তবে এখন তার নির্বাচনে অযোগ্য হওয়ায় বিএনপি দলটির অকূলপাথারে পড়তে হবে।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার রায়ের পর নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দলটিকে গতিশীল করতে পারে বলে মনে করেন কেউ। ওই ধরনের রায়ের পর আগের মতো ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে নেতাকর্মীদের অনিচ্ছা রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে।

এই সরকারের আমলে উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনে ব্যর্থ আগামী দিনগুলোয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াবে- এমনটি খানিকটা উচ্চাশা বলে মনে করছে দি হিন্দু।

দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দি হিন্দু, এশিয়ান এইজ, ইকনমিক টাইমস, স্ক্রল ডটইনসহ ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোর প্রথম পৃষ্ঠায় ওই খবরটি আলাদা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ পেয়েছে। এর পাশাপশি দি টাইমস অফ ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমসসহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আন্তর্জাতিক খবর হিসেবে প্রকাশিত হয়।

Leave a Reply