খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না : মির্জা ফখরুল

রাজনীতি

‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই অংশ নেব। তাকে ছাড়া দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। তাকে ছাড়া আমরা কোনো নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করব না।’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পূর্বঘোষিত এক ঘণ্টার মানববন্ধনে তিনি এই কথা বলেন। এসময় ২০-দলীয় জোটের শরিক দলের মধ্যে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম মোস্তফা গোলাম ভূইয়া, ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব আব্দুল করিম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, খেলাফত মজলিশের যুগ্ম মহাসচিব শেখ গোলাম আজগর প্রমুখ জোট নেতারা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া মানববন্ধনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আবদুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ফুটবলার আমিনুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে সেগুনবাগিচা থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বংশাল থানার কৃষকদলের সভাপতি মো. আব্দুর রাজি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছে। তারা চায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটা ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে। কিন্তু দেশে আর কোনো একতরফা ভোট করতে দেওয়া হবে না। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে।’

২০দলীয় জোটের সমন্বয়ক ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া কারাগারে থাকেবন আর দেশে ভোট হবে, এমনটি হবে না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁকে মুক্ত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্ত না হবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থামানো যাবে না। তাই আর কোনো কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের এই জনস্রোত থেকে আমাদের একটিই দাবি, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, দিতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।’

সকাল ১০টার কিছু পর থেকেই নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ব্যানার নিয়ে জড়ো হতে শুরু করেন। তারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে হাতে হাত রেখে মানববন্ধন তৈরি করেন। কর্মসূচির নির্ধারিত সময়ের আগেই হাইকোর্টের মোড় থেকে তোপখানা রোডের সচিবালয়ের গেট পর্যন্ত রাস্তায় নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। সুপ্রিম কোর্টের সামনের কদম ফোয়ারা থেকে নয়াপল্টন মোড় পর্যন্ত সড়কের দখল দিয়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলের মানববন্ধন কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা লক্ষ্য চোখে পড়ার মতো।

রবিবার দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারপর সোমবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রাখা হয়েছে মহানগর পুলিশের এপিসি, জলকামান ও প্রিজনভ্যান।

এছাড়া বিএনপির ডাকা কর্মসূচি ঘিরে ভোর থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাব ও আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি মাঠে রয়েছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, এটা কোনো বিশেষ ডিউটি না। এটা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। তবে প্রয়োজন বুঝে ফোর্স কমবেশি হয়।

অন্যদিকে পুলিশের মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আর যেহেতু আজ বিএনপি ও ২০ দলের একটা কর্মসূচি আছে, তাই একটু সতর্কতা।’

আরিফ হোসেন আরো বলেন, ‘নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের। আর সে জন্য বাড়তি এ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ আন্দোলনের নামে নাশকতা করতে না পারে।’

খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে এরপর গত শুক্রবার বাদজুমা দেশব্যাপী বিক্ষোভ করে দলের নেতাকর্মীরা। এর পরদিন গত শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গত রবিবার ২০ দলের জোটের সভাতেও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।

এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে আজ সোমবার থেকে। আজ ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।

আগামীকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

শেষের দিন আগামী বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলায় অনশন কর্মসূচি পালিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

Leave a Reply