‘রায়ে রাজনৈতিক সঙ্কট নয়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে’

রাজনীতি

‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক সঙ্কট নয়, বরং বিএনপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক-পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার সকালে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে বিআরটিএ’র প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে একথা বলেন।

রায়ে রাজনৈতিক সংকট ঘণীভূত হলো- বিএনপি নেতাদের এমন দাবি নাকচ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রায়ের মাধ্যমে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট ঘণীভূত হবে, সেটির লক্ষণ আমরা ইতোমধ্যে টের পাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা সরকার করেনি, কোন হস্তক্ষেপও করা হয়নি। এই মামলায় এমনটি বেগম জিয়া নিজেই চেয়েছেন। তিনি যদি নিয়মিত হাজিরা দিতেন, তবে এ মামলায় অনেক আগেই রায় হয়ে যেত। তিনি নিজেই দেরি করে করে নির্বাচন সামনে রেখে মামলাটি নিয়ে এসেছেন। মামলার এমন পরিণতির জন্য বেগম জিয়া ও তার আইনজীবীরাই দায়ী।’

সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মানি লন্ডারিং মামলায় আগে তারেক রহমানের ৭ বছর সাজা হয়েছে। জিয়া অরফানেজ মামলায় হলো ১০ বছর ও ২ কোটি টাকা জরিমানা। বিএনপির গঠনতন্ত্র থেকে কেন ৭ ধারা তুলে দিয়েছে, তা এখন পরিষ্কার।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের দলটির নেতা হতে যাতে বাধা না হয়, সেজন্যই ৭ ধারা তুলে দিয়েছে।’

এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর রশীদ, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী ডিএকেএন নাহিন রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নাশকতার দূরভিসন্ধি সফল হয়নি: ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নাশকতার দূরভিসন্ধি সফল হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক-পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজার রায়ে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ এই রায় আদালত দিয়েছে, সরকার নয়।’

তিনি বলেন, ‘আদালতের রায়কে তারা (বিএনপি) সংবিধান বিরোধী বলেছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের নামে তারা দেশজুড়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা এ নিয়ে গোটা দেশে সম্প্রতি গুঞ্জন ওঠে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। রায় ঘোষণার দিন এ পরিস্থিতি আরও চরমে পৌঁছে। এ নিয়ে উভয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান রায় ঘোষণা করেন। এতে বিএনপির চেয়ারপারসনকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া তারেক রহমানসহ বাকিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর পর কড়া নিরাপত্তায় খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ে সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, ‘এই মামলা আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বিষয় না। এই রায়ে সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই। খালেদা জিয়ার রায়ে প্রমাণ হয়েছে তারা দুর্নীতিবাজ।’

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) খালেদা জিয়ার রায়ের পরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই মামলার সম্পর্ক আদালত এবং আসামিদের মধ্যে। মামলার রায়ে প্রমাণ হয়েছে আইনের ঊর্ধে কেউ নয়।’

আওয়ামী লীগের মুখপাত্র বলেন, ‘এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে তার নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে সকালে যেভাবে ধীরগতিতে আদালতে যাচ্ছিলেন এবং নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছিল। রায়ের দিনও রায়কে ভণ্ডল করতে চেয়েছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। রায়কে ঘিরে সারাদেশে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বিএনপি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আহমদ হোসেন, এনামুল হক শামীম, মহিমুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিজ্ঞান প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

Leave a Reply