সিলেটে পুলিশ-আ,লীগের সাথে বিএনপির সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ

সিলেট বিভাগ

সিলেট মহানগরীর কেন্দ্রস্থলে পুলিশ-আ.লীগের সাথে বিএনপির ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় গুলিবর্ষণ  করেছে পুলিশ। সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সিলেট কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-পুলিশের সাথে বিএনপি এই সংঘর্ষ হয়েছে। বেলা আড়াইটা থেকে কোর্ট পয়েন্ট ঘিরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি তৎপরতায় নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার পরপরই জেলা পরিষদের সামনে মিছিল করে বিএনপি। এসময় জেলা পরিষদ থেকে ছাত্রলীগের একদল কর্মী বিএনপির মিছিলকে ধাওয়া করে। তখন বিএনপির মিছিলকারীরা আদালত এলাকায় প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি বর্ষণ করে।

এরপর সিলেটের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজের নেতৃত্বে পুলিশের সঙ্গে আদালত এলাকা থেকে কোর্ট পয়েন্টে এসে অবস্থান নেন  আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত কোর্ট পয়েন্ট, বন্দরবাজার পয়েন্ট, সুরমা পয়েন্ট এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও পুলিশ অবস্থান করছিল।

অন্যদিকে বিএনপি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপরতা চালায়। প্রায় ২০ মিনিট পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেন, নাশকতা এড়াতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সংঘর্ষের আগে সিলেটের মেয়র ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী নগরের কুমারপাড়ার বাসা থেকে নগর ভবনে যেতে চাইলে কোতোয়ালি থানা-পুলিশের সোবহানীঘাট ফাঁড়ির একদল পুলিশ তাকে ফিরিয়ে দেয়। কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় পড়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক দপ্তর নগর ভবন।

এব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, তিনি কার্যত নিজ বাসায় পুলিশের নজরবন্দী অবস্থায় আছেন।

তবে সোবহানীঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ কমর উদ্দিন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে কোর্ট পয়েন্টে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও পুলিশের অবস্থানের খবর নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চৌহাট্টা, আম্বরখানা, শাহি ঈদগাহ পয়েন্ট এলাকাসহ নগরের প্রবেশমুখের সড়কগুলো এবং কদমতলী কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে। নগরে যান চলাচল ও সাধারণ মানুষজনের উপস্থিতিও কমে গেছে।

এব্যাপারে নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী জানান, পুলিশ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ করেছে। এতে তিনিসহ বিএনপির অন্তত ১০ জন কর্মী আহত হয়েছে।

Leave a Reply