গুলশানের বাসভবন ঘিরে পুলিশ, খালেদাকে বিশেষ নিরাপত্তায় আদালতে নেয়ার প্রস্তুতি

জাতীয়

বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার। বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানিয়েছেন, ১০টার দিকে খালেদা জিয়া বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

এদিকে রাত থেকে বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোর থেকে আরো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন। সেখানে আনা হয়েছে পুলিশের বিশেষ গাড়ি।

জানা যাচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়া সকাল ১০টার দিকে যখন বাসভবন থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন সেসময় তার সঙ্গে দলের কোনো নেতাকর্মী কিংবা ব্যক্তিগত কোনো নিরাপত্তাকর্মীকে থাকতে দেয়া হবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে পুলিশি পাহারায় আদালতে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বিএনপির অভিযোগ এই রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাশকতা ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এরই মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে ৪৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীতে ২০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য টহল শুরু করেন।

এদিকে দেশজুড়ে চলছে পুলিশের ব্যাপক তল্লাশি। রাত থেকে বিএনপির বাসায় বাসায় তল্লাশি করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো দেশকে। সারাদেশে র‌্যাবের দফায় দফায় মহড়া আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে জনমনে। র‌্যাবের মহড়ার সাথে যুক্ত হয়েছে বিজিবির টহল।

অন্যদিকে পুলিশ যেভাবে নিরাপত্তার নামে তল্লাশি আর আগ্রাসী আচরণ করছে তাতে সমগ্র দেশে যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আবার ঢাকার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় ও বাসভবন ঘিরে গোয়েন্দা, ডিএমপি পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি বলে দিচ্ছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি খুবই উত্তেজনাকর।

বুধবার বিকেল ৫ টার পর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দলটির গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে আসার পর থেকে কার্যালয় ও বাসবভন ঘিরে রাখা হয়েছে। বাসভবন ও কার্যালয়ের বাইরে গুলশানের বেশ কয়েকটি রোডের উভয় পাশ বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিছুক্ষণ পরপরই খালেদা জিয়ার বাসভবন ও রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টহল চলছে। রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় সব ধরনের যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই গুলশানে এমন থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার আব্দুল আহাদ গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো মহল যেন নাশকতা চালাতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা সাতটার কিছুক্ষণ আগেই খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় ত্যাগ করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোর থেকে গুলশানের বাসভবনের আশেপাশে বিপুল পরিমাণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য উপস্থিত রয়েছে। পাশাপাশি উপস্থিত রয়েছেন গণমাধ্যকর্মীরাও।

এদিকে ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে যেকোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ, এডিশনাল আইজি সোহেলী ফেরদৌস আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সেই সাথে সারা দেশে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতয়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ায় ৩ প্লাটুন, কুমিল্লায় ৩ প্লাটুন, নারায়নগঞ্জে ৩ প্লাটুন, নোয়াখালীতে ১ প্লাটুন, লক্ষীপুরে ১ প্লাটুন, চাঁদপুরে ১ প্লাটুন করে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

একইভাবে সারা দেশের সাথে রায়কে ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার, গোয়েন্দা তৎপরতা, নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার করে। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে সমগ্র রাজধানী।

এর মধ্যে ঢাকায় প্রবেশ মুখে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। চলছে তল্লাশি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ভবনগুলোসহ ট্রেন স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া কমলাপুর রেল স্টেশনের ভেতর ও বাইরে নিরাপত্তায় রয়েছে অসংখ্য পুলিশ। স্টেশনে প্রবেশ মুখ ও ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের ব্যাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এদিকে বুধবার সারাদিনে পথে পথে পুলিশি তল্লাশিতে বিরক্ত জনগণ। রাজধানীমুখী যাত্রীরা ‘কৃত্রিম যানজটে’ আটকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও ৮ ফেব্রুয়ারি দেশে কোনও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের যা যা করার তাই করবে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় পরবর্তী বাংলাদেশ ভালো থাকবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কেউ নৈরাজ্য ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর হাতে তা দমন করবে।

Leave a Reply