খালেদা জিয়া খালাসও পেতে পারেন : বাণিজ্যমন্ত্রী

রাজনীতি

খালেদা জিয়া আট তারিখে খালাসও পেতে পারেন, আগে থেকেই সাজা হবে ধরে নেয়া বাস্তব সম্মত না বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় বাণিজ্য মন্ত্রী আরো বলেন, আদালতের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ঠিক না। রায় কি হবে কেউ জানে না। আওয়ামী লীগ মাঠে নামবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি। আমাদের হিসাব-নিকাশ করে কথা বলতে হয়। ৮ তারিখ কী রায় হবে এটা কেউ জানে না। রায়ে খালেদা জিয়া খালাসও পেতে পারেন বা অন্য কিছুও হতে পারে।’

 বিএনপির নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছে। প্রিজনভ্যান থেকে কর্মীদের ছিনিয়ে নিয়েছে। পুলিশকে মারধর করেছে। বন্দুক ভেঙেছে। পুলিশ নিয়মতান্ত্রিক অভিযান চালাচ্ছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাজপথে আওয়ামী লীগ নামবে না। তবে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে সিলেট যেতে কেউ বাধা দেয়নি। তার নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘রায়কে কেন্দ্র করে আমাদের টেনশন বা দুশ্চিন্তা নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার বিশ্বাস যাই হোক বিএনপি তা নিয়ে নেতিবাচক রাজনীতি করবে না।’

উল্লেখ্য জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করবে আদালত। এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আসামী। এই রায় ঘিরে সারাদেশে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এর মধ্যে সহস্রাধিক বিএনপি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিএনপির কোন নীতি আদর্শ নেই: তোফায়েল
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি’র কোন নীতি আদর্শ নেই। তারা নির্বাচনে জেতার আগে বলে আমাদের হারিয়ে দেয়া হচ্ছে। আবার জেতার পরে বলে ঠিকমত ভোট হলে আরো বেশি ভোট পেতাম।

বাণিজ্যমন্ত্রী আজ শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার বাংলাবাজারে নির্মিত স্বাধীনতা জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। খবর-বাসস

এ সময় মন্ত্রী বিএনপির মহাসচিবের ৮০ ভাগ ভোট পাওয়ার কথার সমালোচনা করে বলেন, ৮০ ভাগ ভোট যে দল পাবে তাদেরতো হাসিমুখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। সে দলের তো ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, গত ৯ বছরে বর্তমান মহাজোট সরকার যে উন্নয়ন করেছে মানুষ তাতে অত্যন্ত আনন্দিত। গ্রামে এখন আর অভাব অনটন নেই। মানুষের জীবনমান অনেক উন্নত হয়েছে।

তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগের পক্ষে আবারো রায় দেবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জেলা প্রশাসক মো. সেলিম উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, জেলা পুলিশ সুপার মো. মোকতার হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০১৭ সালে ডিসেম্বরে বিএনপির কথার কোনো মূল্য নেই মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, সবাই বলেছে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ভালো হয়েছে। বিএনপি বলছে ভালো হয়নি।মানুষ এখন বুঝে গেছে বিএনপির কথার কোনো মূল্য নেই। তারা বিগত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যেমন ব্যর্থ হয়েছে। আগামী নির্বাচনেও অংশ না নিলে ব্যর্থ হবে। যারা রাজনীতিতে ব্যর্থ তারা নির্বাচনেও ব্যর্থ হবে।

শুক্রবার সকালে ভোলা শহরের গাজিপুর রোডের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।

এছাড়াও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, যুগ্ম সম্পাদক এনামুল হক আরজু, ভোলা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার, প্রেসক্লাব সভাপতি এম হাবিবুর রহমান, সাবেক সভাপতি আবু তাহের প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। এগিয়ে যাবে। বিশ্বের উন্নত ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট জয়লাভ করবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের যে কোনো দিন ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরো বলেছিলেন, বাংলাদেশ সবদিক থেকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী। এ দেশ এখন উদীয়মান অর্থনৈতিক উন্নয়নের দেশ। আমরা ইতোমধ্যেই নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করেছি। দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তরিত হতে চলেছে। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরিত হবো। তখন বাংলাদেশ হবে একটি ভিন্ন বাংলাদেশ। আর ২০৪১ সালে আমরা হবো একটি উন্নত দেশ।

মন্ত্রী বলেছিলেন, ভোলাও অর্থনৈতিকভাবে একটি উন্নত জেলা। এ জেলায়ও ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। ১৭০০ কোটি টাকা ব্যয় করে ভোলার নদী ভাঙন রোধ করা হয়েছে। অথচ বিএনপির আমলে ভোলায় দুইজন পানিসম্পদ মন্ত্রী থাকাকালে নদী ভাঙন রোধে কিছুই করেনি। তারা শুধু উন্নয়নের নামে লুটপাট করেছে। বর্তমানে রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য ৪৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ভোলায় কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না। ২০১৮ সালের মধ্যে ভোলার প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে।

Leave a Reply