সাতছড়িতে র‌্যাবের অভিযানে রকেট লাঞ্চারসহ বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

সিলেট বিভাগ

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযানে ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী রকেট লাঞ্চারসহ বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১১। অস্ত্র উদ্ধারের জন্য শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে এ অভিযান শুরু হয়।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। অভিযানের সর্বশেষ অবস্থা জানানোর জন্য এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের ব্যাপারে ব্রিফ করা হয়। আটটি বাংকারে অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে।

এর আগে এই ব্যাপারে র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানান, অস্ত্রের সন্ধান পেয়ে সাতছড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। সন্ধ্যা থেকে এখনো অভিযান চলছে। কিন্তু সেখানে নেটওয়ার্ক না থাকায় অভিযানের সর্বশেষ অবস্থা জানা যাচ্ছে না।

এর আগে ২০১৪ সালের ১ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত টানা অভিযান চালানো হয় সাতছড়িতে। এরপর ২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায়, ১৭ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফা এবং ১৬-১৭ অক্টোবর চতুর্থ দফায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

এ সময় ১২টি বাংকার ও তিনটি গর্ত থেকে মেশিনগান, রকেট লঞ্চার, রকেট চার্জার, বিমান বিধ্বংসী বুলেট, ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট গোলাসহ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

অভিযানকালে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যবহৃত ডায়েরি, বই, চাঁদার রশিদসহ অন্যান্য মালামাল। এ ঘটনায় ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়।

হবিগঞ্জে কৃষক হত্যা মামলায় ১০ জনের ফাঁসি
বিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে কৃষক আব্দুর রাজ্জাক হত্যা মামলায় ১০ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাফরোজা পারভীন এ আদেশ দেন। এছাড়া মামলার ১৪ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-উপজেলার বাঘজুর গ্রামের রমিজ আলী, তরিরক উল্লাহ, আব্দুর রহমান, আব্দুল মান্নান, বাচ্চু মিয়া, আব্দুস সালাম, ইউসুফ উল্লাহ, আব্দুল মতলিব, আব্দুল হান্নান ও নসিম উল্লাহ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০১ সালের ২৯ অক্টোবর মাগরিবের নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার পথে আসামিরা রাজ্জাককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের ছেলে হারুন মিয়া বাদী হয়ে ২৭ জনের বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার বিচারক ১০ জনের ফাঁসির আদেশ দেন।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল আহাদ ফারুক জানান, মামলায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু তাদের মধ্যে ৩ জন মারা যান এবং ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। আর ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কৃষক আবুল মিয়া হত্যা মামলায় ৭ জন আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাফরোজা পারভিন এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার দীঘলবাগ দাউদপুর গ্রামের মৃত আরাফত আলীর ছেলে বসির মিয়া ও মর্তুজ আলী, মর্তুজের ছেলে ফয়সল মিয়া, সজলু মিয়া, মইনুল মিয়া, মেয়ে শিফা বেগম এবং আফসর আলীর ছেলে সুন্দর মিয়া।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে কোনো আসামি উপস্থিত ছিলেন না বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি আব্দুল আহাদ ফারুক জানান।

মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০০৮ সালের ২২শে জুন জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মর্তুজ আলীসহ তার লোকজন আবুল মিয়াকে (৫৫) বাড়ির পাশের হাওড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। ওই দিন রাতেই আবুল মিয়ার ভাই সাদিক মিয়া বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ মর্তুজ আলীর স্ত্রী চম্পা বেগমকে বাদ দিয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

১৪ জন সাক্ষীর সবার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেয়। রায়ে নিহতের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী।

মামলায় বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ২২ জুন জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আসামিরা আবুল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পরদিন তার ভাই সাজিদ মিয়া বাদী হয়ে থানায় ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এসময় নিহত কৃষক আবুল মিয়ার পরিবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। দ্রুত রায় কার্যকর করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আহ্বান করা হয়।

Leave a Reply