হাইকোর্টের আশেপাশে চলছে গণগ্রেপ্তার!

রাজনীতি

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ আদালত থেকে বাসভবনে যাওয়ার সময় হাইকোর্ট কদম ফোয়ারার সামনে পুলিশের ওপর হামলা জেরে রাজধানীর হাইকোর্টের আশপাশের এলাকায় গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে পুলিশ, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাইকোর্টের আশপাশে যাকে পাচ্ছে তাকেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুর পর্যন্ত হাইকোর্টের আশপাশের এলাকা থেকে কমপক্ষে ২০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে সাধারণ পথচারী রয়েছে বলেও জানা গেছে। এমনকি নারীরাও বাদ যাচ্ছে না। মঙ্গলবার হাইকোর্ট কদম ফোয়ারা এলাকায় পুলিশের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলার পর বুধবার এমন গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ আদালত থেকে বাসভবনে যাওয়ার সময় হাইকোর্ট কদম ফোয়ারার সামনে পুলিশের ওপর হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় বেশকয়েকজন পুলিশ আহত হন। বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানের তালা ভেঙ্গে দুইজন নেতাকর্মীকে ছিনিয়ে নেয়। এরপর থেকেই পুলিশ হার্ডলাইনে অবস্থান নেয়।

এব্যাপারে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একটি মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে। মামলায় বিএনপির শীর্ষ অনেক নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ৭০০-৮০০ অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রিজন ভ্যানে হামলার পর শাহবাগ ও রমনা থানাসহ আশেপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক ৬৯ জনও রয়েছে।

এদিকে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং সবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে অমিতসহ বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে সাদা পোশাকে পুলিশ তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করে বিএনপি।

অন্যদিকে হাইকোর্টের সামনে যে হামলা হয়েছে, তা অনুপ্রবেশকারীরা করেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই হামলাকারীদের চিনতে পারছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের সামনে যে হামলা হয়েছে, আমরা নিজেরাই তাদের ‘এক্সাক্টলি’ চিনতে পারছি না। সত্যিকার অর্থে আমরা আশঙ্কা করছি, অনুপ্রবেশকারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে শাহবাগ থানায় ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এ ঘটনার বর্ণনা দেন কনস্টেবল খসরু মান্নান।

বর্ণনায় খসরু মান্নান বলেন, ‘স্যার আমি পুলিশে চাকরি করি, তাই প্রিজন ভ্যান ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারিনি। সামনে থাকা আরো দুই পুলিশ সদস্যসহ আমার ওপর হামলা চালায়। বিএনপির কয়েকশ নেতা-কর্মী পুলিশ ভ্যানের ওপর হামলে পড়ে। তারা গাড়ি ভাঙচুর করে। এরপর প্রিজন ভ্যানের তালা ভেঙে ওদের দুই লোককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’

কনস্টেবল খসরু মান্নান আরো জানান, বেলা আড়াইটার দিকে শাহবাগ থানার এসআই রাইবুল হাসান বিএনপির দুজন কর্মীকে আটক করে হাই কোর্টের সামনে জাতীয় ঈদগাহ গেটে রাখা প্রিজন ভ্যানে নিয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরে আমি বলেছিলাম, স্যার আসামি দু’জনকে থানায় রেখে আসি। কিন্তু উনি না শুনে উল্টো আমাকে ধমক দেন।

Leave a Reply