রাষ্ট্রপতি পদে আবদুল হামিদকেই পুনরায় মনোনয়ন দিয়েছে আ,লীগ

রাজনীতি

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মো. আবদুল হামিদকেই পুনরায় মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রায় সোয়া এক ঘন্টা সভা চলে। এতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আবদুল হামিদের নাম প্রস্তাব করেন। এ প্রস্তাব সমর্থন করেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমদ।

দলটি জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে বুধবার রাতে মনোনয়ন  দেয়া হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে তাকে দ্বিতীয়বার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সংসদে দলটির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দ্বিতীয় মেয়াদে তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া নিশ্চিত বলা চলে।

তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল ৫ ফেব্রুয়ারি। এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন হবে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ২৪ মার্চ থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন আবদুল হামিদ। পরে ২২ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২৪ এপ্রিল। আগামী ২৩ এপ্রিল তার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে। আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং স্পিকার হিসেবে দু’বার দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত আবদুল হামিদসহ ২০ মেয়াদে ১৭ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ২১তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি পদে দ্বিতীয়বারের মতো বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদকে মনোনয়ন দিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা সংসদ সচিবালয়ে পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ স্বাক্ষরিত তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে ৩৪৮ জন ভোটার। ভোটার তালিকা ইসির সচিবালয়ের নোটিশ বোর্ডেও টাঙিয়ে রাখা হয়েছে।

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। ভোটার তালিকায় সংসদ সদস্য হিসেবে ভোটারের অনুকূলে বিভক্তি সংখ্যা, ভোটারের নাম ও নির্বাচনী এলাকা উল্লেখ রয়েছে। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশন এবং ওই তারিখে ভোটার তালিকার গেজেট প্রকাশ করা হয়।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ৭ ফেব্রুয়ারি যাচাই বাছাইয়ের পর ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রার্থীর সংখ্যা একজনের বেশি না হলে তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে বিধিমালা অনুযায়ী ভোট হবে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছিল সিইসি। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অধিবেশন কক্ষে ওইদিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নুরুল হুদা গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এ তফসিল ঘোষণা করেন।

তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও দাখিলের তারিখ আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি। ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে মনোনয়ন পত্র পরীক্ষা করা হবে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে।

সিইসি জানান, এই নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর প্রস্তাবক ও সমর্থক কেবলমাত্র জাতীয় সংসদ সদস্যরাই হতে পারবেন। দুই জন সংসদ সদস্যের মৃত্যুজনিত কারণে এ নির্বাচনে ভোট দিবেন সংসদের ৩ শ’ ৪৮ জন সদস্য।

তিনি বলেন, আগামী ২৩ এপ্রিল বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে। সংবিধান অনুযায়ি ২৪ জানুয়ারি থেকে ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। এজন্যই গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের স্পিকারের সাথে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্তা পরামর্শ করেছেন।

সিইসি বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিল, পরীক্ষা, প্রত্যাহারসহ যাবতীয় কার্যক্রম প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্তার দপ্তর আগাগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply