যেনতেন রায় জনগণ মেনে নেবে না : মির্জা ফখরুল

রাজনীতি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘এতো সোজা নয় দেশনেত্রীকে যেনতেন একটা রায় দেবেন। জনগণ মেনে নেবে না।’ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্বেচ্ছসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূইয়া জুয়েল ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলীর মুক্তির দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রতিবাদ সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকার ‘অন্যায় আচরণ’ করছেন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দুই বারের বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন।’

‘তার সঙ্গে আপনারা যে আচরণ করছেন, পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে তা নজিরবিহীন। আমরা এর নিন্দা জানাই। জাতি এর জন্য কোনো দিন আপনাদের ক্ষমা করবে না।’

সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বিচার বিভাগকে ‘করায়ত্ত করেছে’ অভিযোগ করে মির্র্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে যে মামলার রায় দেওয়া হবে সেটি কোনো মামলাই হয় না। তার আইনজীবীরা প্রতিটি অভিযোগ খণ্ডন করেছেন এবং প্রমাণ হয়েছে, এই মামলা কোনো মামলাই হতে পারে না। সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর এই মামলা হয়েছে।’

‘যে ট্রাস্ট্রে খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততাই নেই, যে ট্রাস্ট্র গঠনে তার কোনো মন্তব্য নেই, কোনো ডকুমেন্টে স্বাক্ষর নেই, কোনো নির্দেশনা নেই। একটা জাল ফাইল-নথি হাজির করা হয়েছে। আমাদের আইনজীবীরা প্রমাণ করে দিয়েছেন, এই নথিটি সম্পূর্ণভাবে জালিয়াতি করে ঘষামাজা করে কোনো স্বাক্ষর ছাড়াই রাষ্ট্রপতির প্যাডে সেই নথি তৈরি করা হয়েছে’, বলেন তিনি।

অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নজিরবিহীন তাড়াহুড়ো করে মামলা শেষ করা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘শেষ দিনে আইনজীবীরা আরো কথা বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের কথা বলার কোনো সুযোগ না দিয়ে বক্তব্য শেষ করা হয়েছে এবং মামলার রায় তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যিনি (খালেদা জিয়া) ১৬ কোটি মানুষের আশা-ভরসাস্থল তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায় (ক্ষমতাসীনরা)- এটা কি হতে দেবেন?’

তিনি আরো বলেন, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। আসুন জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সবাই মিলে রুখে দাঁড়াই।

‘কেন এই জোর করা? আইনের স্বাভাবিক যে গতি তা বন্ধ করে দিয়ে দ্রততার সঙ্গে কেন এই রায় দেওয়ার চেষ্টা? কারণ একটাই বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’

রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে তা কঠোর হাতে দমনের যে কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই কথা বলছেন কেন? কারণ রায় তো আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। আপনারা বলছেন ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে রায় হতে যাচ্ছে।’

আয়োজক স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

Leave a Reply