‘তারা আশায় বসে থাকে মার্শাল ল’ দিয়ে ক্ষমতা দখলের’

জাতীয়

‘খুব স্বাভাবিকভাবেই একটি দেশ পরিচালনা তো আর কেউ এককভাবে করতে পারে না। তবে হ্যাঁ, একজনকে তো উদ্যোগ নিয়ে, ভালো-মন্দ সবকিছুর দায়িত্ব নিয়েই চলতে হয়। আমি সব সময় চেষ্টা করি সবাইকে নিয়েই চলতে, সবাইকে নিয়েই চলবো। তবে এখানে একটা কথা আছে, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে।’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এসময় প্রধান বিরোধী দল ও আবার সরকারের কোয়ালিশন শরিক জাতীয় পার্টির প্রসংসায় পঞ্চমুখ হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সংসদে বিএনপি না থাকায় অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার হয়নি, তবে জাতীয় ভাল ভূমিকা রেখেছে।

বর্তমান বিরোধীদল জাতীয় পার্টিকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদল গঠনমূলক বক্তব্য রেখেছে, আলোচনা করছে। অন্তত বিএনপি থাকতে যখন বিরোধীদলে ছিল তখন যে খিস্তি-খাউর ছিল, হতো যেসব আলাপ-আলোচনা হতো কান পেতে শোনা যেত না। এখন সেসব নেই। অত্যন্ত গণতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে একটি গঠনমূলক আলোচনা করছে বিরোধীদল। সর্বক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাড়ি একজনই চালায়, তবে সঠিকভাবে চালাতে হবে। নৌকা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য একজন মাঝি লাগে। সেই মাঝি যদি সঠিকভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে চায় বা পারে তাহলে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারে। আর যদি সঠিকভাবে না চালাতে পারে তাহলে কিন্তু মাঝখানে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, এই দেশটা আমাদের, দেশের সমষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছোঁয়া যেন প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছায়। তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছাক সেটাই আমরা চাই। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আজকের এই অর্জন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। আমরা সবাই মিলে কাজ করেছি বলে সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশবাসীর কাছ থেকে সর্বতভাবে সহযোগিতা পাচ্ছি। উন্নয়নের ফসল গ্রাম পর্যায়ে পাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জাতির পিতা যে সংবিধান দিয়ে গেছেন সেই সংবিধানে মানুষের মৌলিক চাহিদার কথা বলা আছে, সেগুলো যেন বাস্তবায়ন করতে পারি, সেই কাজই করছি।

সুশীল সমাজের সমালোচনা করে সরকার প্রধান বলেন, ‘বলা হচ্ছে সুশীল। আমি জানি না, এই সুশীলের অর্থটা কী, ব্যাখ্যাটা কী। কোন তত্ত্বের ভিত্তিতে তারা সুশীল। সেটাই প্রশ্ন হয়ে দেখা দেয়, যখন তারা কোনও কিছু দেখেনও না, শোনেনও না, বুঝেনও না। তারা সুশীল না অসুশীল তা আমি জানি না। তবে আমাদের দেশে একটা শ্রেণি আছে যাদের আকাঙ্ক্ষা ক্ষমতায় যাওয়ার। তাদের আকাঙ্ক্ষা একটি পতাকা পাওয়ার। কিন্তু তারা জনগণের কাছে যেতে পারেন না। ভোটের রাজনীতিতে তারা অচল। ভোটের রাজনীতি করতে গেলে জনগণের ভোট পেতে হয়। জনগণের কাছে দাঁড়াতে হয়, ভোট ভিক্ষা চাইতে হয়। ভোট পেয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে এই সংসদে বসতে হয় এবং সরকার গঠন করতে হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাস্তার পাশে ডাস্টবিনে যেমন লেখা থাকে ‘ইউজ মি’। তেমনি রাজনীতি ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে দেশের কিছু মানুষ বুকে সাইনবোর্ড লিখে বসে থাকে ‘ইউজ মি’- আমাকে ব্যবহার করুন। তারা আশায় বসে থাকে অসাংবিধানিক পথে মার্শাল ল’ দিয়ে কেউ ক্ষমতায় দখল করলে তাদের গুরুত্ব বাড়বে। তারা একটি পতাকা পাবে।

Leave a Reply