তামিমের ২৫তম অর্ধশত

খেলার খবর

টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাক্তিগত ২৫তম অর্ধশত তুলে নিলেন। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেয়া ১৭১ রানের জয়ের টার্গেটে এখন ব্যাট করছে বাংলাদেশ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান।

বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৩০ রানে প্রথম উইকেট হারায়। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে সিকান্দার রাজার বলে ক্রেইগ আরভিনের হাতে ধরা পড়েন এনামুল হক বিজয়। ১৪ বল খেলে ১৯ রান করেন তিনি।

এরপর ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নেমে তামিম ইকবালের সঙ্গে ৭৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে সাজঘরে ফিরে যান সাকিব আল হাসান। ইনিংসের ২০তম ওভারে সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। সাকিব করেন ৩৭ রান।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৯ ওভারে ১৭০ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। সফরকারীদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন সিকান্দার রাজা। আর বাংলাদেশের পক্ষে সাকিব আল হাসান ৩টি, মাশরাফি বিন মুর্তজা ১টি, সানজামুল ইসলাম ১টি, মোস্তাফিজুর রহমান ২টি ও রুবেল হোসেন ২টি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশ আজ তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে। তিন পেসার হলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান। স্পেশাল স্পিনার হিসাবে একাদশে রাখা হয়েছে সানজামুল ইসলামকে। ২০১৫ সালের আইসিসি বিশ্বকাপের পর আজ প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে নেমেছেন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। সৌম্য সরকারকে এই সিরিজের স্কোয়াডে রাখা হয়নি।

হৃদয়ের সেঞ্চুরিতে বিশ্বকাপে টাইগার যুবাদের টানা দ্বিতীয় জয়
আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সোমবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তৌহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি পর বল হাতে আফিফ হোসেনের বোলিং নৈপুন্যে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশের যুবারা।

গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ বাংলাদেশ ৬৬ রানে হারিয়েছে কানাডাকে। হৃদয়ের ১২২ রানের কল্যাণে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৪ রান করে বাংলাদেশের যুবারা। জবাবে আফিফের ৫ উইকেট শিকারে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় কানাডা।

লিংকনে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ১ রানে ওপেনার পিনাক ঘোষকে হারায় তারা। শুন্য হাতে ফিরেন পিনাক। এরপর তিন নম্বরে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক সাইফ হাসানও। ২০ বলে ১৭ রান করেন তিনি। ২৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ও হৃদয়।

তৃতীয় উইকেটে ভালোই জমে উঠেছিলো নাইম ও হৃদয়ের জুটি। কিন্তু নাইমের ভুলে দলীয় ৯১ রানে বিচ্ছিন্ন হয় জুটিটি। ৫টি চারে ৬৭ বলে ৪৭ রান করেন ফিরেন নাইম। এরপর দলকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যান হৃদয় ও পাঁচ নম্বরে নামা আফিফ। দু’জনের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুন্যে বাংলাদেশের স্কোর দুইশ রানের কোটা অতিক্রম করে।

কিন্তু এরপরই বিচ্ছিন্ন হন হৃদয় ও আফিফ। ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৯ বলে ৫০ রানে থামেন আফিফ। এই জুটির কাছ থেকে বাংলাদেশ পায় ১১১ রান। আফিফ বিদায় নিলেও, এক প্রান্ত আগলে রাখেন হৃদয়। ইনিংসের শেষ বলে আউট হবার আগে সেঞ্চুরি তুলে ১২২ রানে থামেন বগুড়ার ছেলে হৃদয়। ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ১২৬ নিজের ইনিংসটি সাজান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২৬৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

জবাবে ভালো শুরুর চেষ্টা করেছিলো কানাডা। কিন্তু আফিফের ঘুর্ণিতে পড়ে দলীয় ৭৮ রানের মধ্যে ফিরে যান দুই ওপেনার। তারপরও অধিনায়ক আরসলান খানের ব্যাটিং-এ লড়াইয়ে টিকে ছিলো কানাডা। তবে কানাডার শেষ ভরসাকেও তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেন আফিফ। ৬৩ রান করেন আরসলান। পরের দিকে আর কোন ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে না পারায় ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় কানাডা। বাংলাদেশের আফিফ ৪২ রানে ৫ উইকেট নেন। এছাড়া হাসান মাহমুদ ২ উইকেট নেন। ম্যাচের সেরা হয়েছেন আফিফ। গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৮৭ রানে নামিবিয়াকে হারিয়েছিলো বাংলাদেশের যুবারা।

এ দিন ‘সি’ গ্রুপের আরেক ম্যাচে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে হারিয়েছে নামিবিয়াকে। কুইন্সটাউনে টস জিতে প্রথমে ব্যাট হাতে নেমে ৯ উইকেটে ১৯৬ রান করে নামিবিয়া। জবাবে ১৫৫ বল বাকী রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। এবারের আসরে এটিই ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ ছিলো। আগামী ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে ইংলিশরা। ঐ ম্যাচটিই হবে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ইনিংস: ২৬৪/৮ (৫০ ওভার)

কানাডা অনূর্ধ্ব-১৯ ইনিংস: ১৯৮ (৪৯.৩ ওভার)

Leave a Reply