আামাদের উপর হামলা হলে কিভাবে মোকাবেলা করতে হয় জানি : হানিফ

রাজনীতি

রাঙামাটি : আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মাহাবুব উল আলম হানিফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আামাদের নেতাকর্মীদের উপর যদি বিচ্ছিন্নভাবে আর একটিও হামলার ঘটনা ঘটানো হয়, তাহলে সেগুলো কিভাবে মোকাবেলা করতে হয় সেটা আমরা জানি এবং প্রশাসন সেভাবেই সেগুলো মোকাবেলা করবে। অন্যায় করে কেউ পার পাবে এটা হবে না।

আজ সোমবার রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, পাহাড়ের মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্যে অত্রাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনের যতটুকু প্রয়োগ করা দরকার তার সবটুকু অবশ্যই প্রয়োগ করবে। এসময় তিনি নামধারী আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অবৈধ অস্ত্রের পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহবান জানান।

মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, সরকার পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের কখনোই ছাড় দিবে না। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মূল উৎপাটন করতে যা যা করণীয় তার সবটুকুই করবে। এই ধরনের যেকোনা সমস্যার সমাধান করতে সরকার সক্ষম। এটা ইতোপূর্বে প্রমাণও করেছি। তাই যারা পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের জোরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে, তাদের অবশ্যই সে পথ পরিত্যাগ করতে হবে।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মুছা মাতব্বরের সন্ঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক মাহফুজুল আলম, সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বক্তব্য রাখেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম হানিফ সন্তু লারমাকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, দাবি-দাওয়ার নামে অস্ত্র হাতে নিয়ে যারা এখনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে খুব পরিষ্কার ভাবে জানাচ্ছি অস্ত্র কোনোদিন শান্তির ভাষা হতে পারে না। অস্ত্রের ভাষা কোনো দাবি আদায়ের ভাষা হতে পারে না। পৃথিবীর কোথাও অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে কেউই তার রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে পারেনি, স্বাধীন বাংলাদেশেও পারবে না।

তিনি বলেন, আপনাদের যদি কোনো সমস্যা থাকে দাবি-দাওয়া থাকে তাহলে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই সমস্যার সমাধান হতে পারে। এই লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার দরজা সব-সময় খোলা রয়েছে। কিন্তু সেটি না করে অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করলে তিনি সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচিত হবেন। আর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কিভাবে পদক্ষেপ নিতে হয় সেটি বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ দমনের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই প্রমাণ রেখেছে। পাহাড়েও সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচিতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের করণীয় সবকিছুই করবে। এসময় রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীলা বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, রাঙামাটিতে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর হত্যা অপহরণ হামলার ঘটনাসহ জোরপূর্বক দল ত্যাগে নেতাকর্মীদের বাধ্য করার প্রেক্ষাপটে রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের এই বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। এরই মধ্যে রাঙামাটি জেলার লংগদু, বিলাইছড়ি, রাজস্থলী, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, বন্দুকভাঙ্গা ও সদর উপজেলা থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতাকর্মীরা দলত্যাগ করেছেন। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন আওয়ামী লীগের র্শীষ নেতাকর্মীরাও।

Leave a Reply