ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা

জাতীয়

টঙ্গী : বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে লাখো মুসল্লির অংশ গ্রহণে বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কমনা করা হয়।

রবিবার বাদ ফজর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মতিন। তারপরই বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে বাংলায় আখেরি মোনাজাত শুরু করেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ জোবায়ের।

এদিকে আয়োজকদের একাংশের প্রতিবাদের মুখে ইজতেমায় যোগ না দিয়ে শনিবার দুপুরে ঢাকা ছেড়েছেন দিল্লীর মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভি।

তীব্র শীত উপেক্ষা করে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় ইবাদত, বন্দেগি ও বয়ানের মধ্য দিয়ে প্রথম দিন, দ্বিতীয় অতিবাহিত করে তৃতীয় দিনও শেষের পথে। আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব।

মোনাজাতে অংশ নিতে দলে দলে মুসল্লিরা টঙ্গী আসেন। ফলে ভোর থেকে ঢাকাগামী ট্রেন ও বাসগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। রাজধানী ও এর আশপাশের জেলা থেকে অনেককেই পায়ে হেঁটে আসেন।

ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মুসল্লিরা পাটি ও কাগজ বিছিয়ে সড়ক ও অলিগলিতে অবস্থান নেন।

গত শুক্রবার আম বয়ানে শুরু হয় এবারের ইজতেমা। তৃতীয় দিন রবিবার ফজরের নামাজের পর থেকে শুরু হয় ইসলাম ধর্মের নানা বিষয়ের বয়ান। প্রথম পর্বে ৮৮টি দেশের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বিদেশি এবং দেশের ১৪টি জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন।

আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ইজতেমা ময়দানের প্রতিটি প্রবেশ পথে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। মহাসড়কে শনবিার রাত ১২টার পর থেকে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে।

ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত শনিবার রাত থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে রবিবার ভোরে কিছু যাত্রীবাহী বাস চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী কলেজ গেইট পর্যন্ত চলাচল করছে।

এছাড়াও ইজতেমায় আসা মেহমানদের চিকিৎসা দিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্ববাবধানে চালু আছে ৩৪টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। তীব্র শীত উপেক্ষা করে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে এসে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ২২ জন মুসল্লি। গত দুই দিনে ময়দানে স্থাপিত ২৯টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প থেকে কমপক্ষে ১৫ হাজার মুসল্লি চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

এর আগে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য মুরব্বি প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন মাওলানা হাফেজ জোবায়ের। হেদায়েতি বয়ান করবেন মাওলানা আব্দুল মতিন। গত শুক্রবার রাতে তাবলিগ জামাতের মুরব্বিদের বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত হয়।

অন্যদিকে, সুষ্ঠুভাবে বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়েছে ব্যাপক নিরাপত্ত ব্যবস্থা। ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা এবং পুলিশ ও র‌্যাবের কন্ট্রেল রুম থেকে ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তা মনিটরিং করা হচ্ছে। ইজতেমা মাঠের বাইরে, অলিতে-গলিতে পোশাকে-সাদা পোশাকে পুলিশ-র‌্যাব সদস্য অবস্থান নিয়ে বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা বিধান করছেন। এ ছাড়া ময়দানের প্রতিটি খিত্তায় এবং বিদেশি নিবাস এলাকায় রয়েছে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

Leave a Reply