নয় বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পাওয়ায় বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

রাজনীতি

‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনগণের বিশ্বাস, আস্থা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা করেছি, কতটুকু সফল বা ব্যর্থ সে বিচার জনগণই করবে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার সাড়ে সাতটায় সন্ধ্যায় মহাজোট সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে চার বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও তে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি আরো বলেন, নয় বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পাওয়ায় বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা থাকা সত্ত্বেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

 সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

২০২১ সালে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা উন্নয়নের গতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, যার সুফল পাচ্ছে জনগণ। এটি যেন অব্যাহত থাকে সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেন সঠিকভাবে পরিচালনা করা হয় সেজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিন দিনের উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, চিকিৎসাসেবা পাবে, প্রতিটি মানুষ আলোকিত হবে। এগুলোই ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর কিভাবে দেশের মানুষের উন্নতি করা যায় আমাদের সেই ভাবনা ছিল সবসময়। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। আমরা বিনামূল্যে বই দিচ্ছি, বৃত্তি প্রাইমারি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত বই দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলা পর্যন্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন সার্বিকভাবে সব মানুষের, বিশেষ করে গ্রামের মানুষের জন্য। গ্রামের মানুষের উন্নয়নের জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিসহ আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি যেন বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক স্থানে পৌঁছাতে পারি।’

ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমিতে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে তিন দিনের উন্নয়ন মেলা। ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৪টি জেলা ও সব উপজেলায় প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের কাছে উন্নয়ন তৎপরতা ও সাফল্য প্রচারের লক্ষ্যে এর আয়োজন করেছে সরকার।

মেলায় দেশের সব মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পৃথক পৃথক স্টল থাকবে। সব সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের সামনে নিজেদের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর সেবাগুলোও দেওয়া হবে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক। প্রতিদিন বিকালে দেশবরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও রয়েছে আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কুইজ, বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতা।

ঢাকা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০০৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত দেশে অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে। গত ১৩ বছরের এসব অগ্রগতি ও উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরা হবে এবারের মেলায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণার মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এগুলো হলো— একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি, সবার জন্য বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ। এবারের মেলায় এসব বিষয়ের ওপর হবে বিশেষ প্রদর্শনী।

Leave a Reply