সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি নিহত

প্রবাস

সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে জিজান প্রদেশে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
সৌদি আরবস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রবিবার এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেদ্দা থেকে ৮শ’ কিলোমিটার দূরে ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত জিজান প্রদেশে স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৭টার দিকে একটি ট্রাকে করে ২০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মস্থলে যাওার পথে পেছন থেকে আরেকটি গাড়ি ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর বাসসের।

দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পরপর ঘটনাস্থলে ৮ জন মারা গেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর আরো দু’জন বাংলাদেশি মারা যায়।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মকর্তা প্রেরণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি শ্রমিকদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয় সম্ভব হয়নি বলে জেদ্দা কনস্যুলেট সূত্র জানায়। নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেলে পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

সৌদিতে বাংলাদেশির মৃত্যু
এর আগে ২৮ ডিসেম্বর সৌদি আরবের দাম্মামে সড়ক দুর্ঘটনায় জামাল উদ্দিন (৩৬) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো তিন বাংলাদেশি। নিহত জামাল মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার গোলাম নবীর ছেলে।

আহতরা হলেন- মানিকগঞ্জের আব্বাস, ময়মনসিংহের শাজাহান ও নারায়ণগঞ্জের দেলোয়ার।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে রিয়াদ থেকে দাম্মাম ফেরার পথে একটি ট্রেইলারের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত দেলোয়ার জানান, দাম্মামের স্রাকো কোম্পানিতে গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন জামাল উদ্দিন। দুর্ঘটনার সময় জামালউদ্দিনই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।

সৌদি আরবে যেভাবে পাল্টে যাচ্ছে নারী শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ

সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তায় নতুন প্রকল্প নেয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে অভিবাসী নারী শ্রমিকদের বাসায় না রেখে বিভিন্ন হোস্টেলে রাখা হবে। সেখান থেকে তারা কাজে যাতায়াত করবেন।

এর ফলে অভিবাসী নারী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের সম্ভাবনা কমে আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশে অভিবাসী নিয়ে কাজ করে এমন বেসরকারি সংস্থা রামরু। খবর বিবিসির।

সরকারি হিসেবে এই বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৯ লক্ষ ৬০ হাজার শ্রমিক বিভিন্ন দেশে গেছে। তবে বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে এই সংখ্যা ১০ লক্ষের বেশি।

এর অর্ধেকের বেশি শ্রমিক গিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। এদের বড় একটি অংশ নারী শ্রমিক, যারা মূলত গৃহকর্মী হিসাবে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যান।

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটা প্রতিষ্ঠান, রামরু’র প্রধান তাসনিম সিদ্দিকী বলছেন, অভিবাসনের হিসাবে ২০১৭ সালটি একটি ভালো বছর, কারণ এ বছর ১০ লক্ষের বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী হয়েছে। এদের অর্ধেকের বেশি গেছেন সৌদি আরবে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ, যাদের বড় একটি অংশ সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় শ্রমিক হিসাবে গিয়েছেন। ২০১৭ সালটা অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য কেমন ছিল এই নিয়ে আজ একটি প্রতিবেদন দেবে রামরু।

সংস্থাটির প্রধান তাসনিম সিদ্দিকী বলছেন, এ বছরে একটি সৌদি আরব ও সেখানকার দেশগুলোয় নারী শ্রমিকদের পরিবেশেও বড় পরিবর্তন হচ্ছে।

তিনি বলছেন, নারী শ্রমিকদের উপর গৃহের অভ্যন্তরে নির্যাতন যে পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে তা নয়। তবে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে একটি বড় অগ্রগতি হয়েছে যে, সেখানে কর্মরত নারীদের বাড়িতে না রেখে বিভিন্ন ধরণের হোস্টেল তৈরি করে সেখানে নারী শ্রমিকদের রাখা, সেখান থেকে তাদের কাজে আনা নেয়া করার একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। সেটা যদি সফল হয়, নারী যদি গৃহে বন্দী না থাকেন, তাহলে তাদের ওপর যৌন নির্যাতন বা শারীরিক নির্যাতনের সুযোগ কমে যাবে।

বিদেশ থেকে অভিবাসী শ্রমিক আবার দেশেও ফিরে আসছে বলেও রামরু তাদের গবেষণায় দেখতে পেয়েছে।

এই অভিবাসী শ্রমিকরা দেশে ফিরে আসার পর যাতে তাদের সঞ্চিত অর্থ ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, সেজন্য সরকারি প্রণোদনা দরকার বলে ড. সিদ্দিকী মনে করেন।

২০১৭ সালে ইউরোপে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশিদের অভিবাসী হওয়ার খবর গণমাধ্যমে এসেছিল। যারা সমুদ্র পথে লিবিয়া হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঢুকে পড়েছিলেন।

এসব কারণে এ বছরে বাংলাদেশকে কোণঠাসা অবস্থায় পড়তে হয়েছে বলে বলছেন ড. সিদ্দিকী।

Leave a Reply