গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না : রিজভী

রাজনীতি

বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চলবেই।

শনিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপি বিলুপ্ত হয়ে যাবে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এক মন্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-অতি ক্ষমতা, অতি দম্ভ, অতি দুর্নীতি, অতি নিপীড়ণ-নির্যাতন, অতি অস্ত্রের আস্ফালন এবং অতি মিথ্যাচারে আপনারা নিজেরাই অতিকায় ডাইনোসরে পরিণত হয়েছেন। সুতরাং আপনারাই প্রাণীকুল থেকে অতি শীঘ্রই অবলুপ্ত হয়ে যাবেন, বিএনপি নয়।

তিনি অভিযোগ, দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করতেই ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে নিয়ে ফাঁকা বুলি দিচ্ছেন। ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণ বিজয় নিশান ওড়াবে। জনগণের অগ্রযাত্রাকে বাধা দিয়ে আর থামানো যাবে না।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের কথা বলা আপনাদের জন্য হবে অরণ্যে রোদন। গণতন্ত্র হত্যাকারীদের অধীনে নির্বাচন হলে সেখানে মানুষের ভোটাধিকার যে আবারো ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারীর মতোই কবরস্থানে চলে যাবে তা দেশবাসী খুব ভাল করেই জানে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে এটা অনুধাবণ করেই ওবায়দুল কাদের সাহেবরা হুমকি আর ধমকের পথ অবলম্বন করেছেন। ক্ষমতার মসনদে অবাঞ্ছিত অনুপ্রবেশ করে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এজন্য ক্ষমতা হারানোর ভয়ে শেখ হাসিনার অন্ধ স্তবকে পরিণত হয়েছেন।

তিনি বলেন, যারা ইতিহাসের সত্যকে অস্বীকার করে তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের বীজ রোপন করে। ভোটারবিহীন সরকারের লোকেরা ৫ জানুয়ারী কলঙ্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে জোর করে ক্ষমতায় আসীন থেকে শেষ সময়ে আবারো অবৈধ পথে ক্ষমতায় যেতে নানা মতলববাজী কথাবার্তা বলছেন।

ওবায়দুল কাদের সাহেবের এসব ফাঁকা বুলি দিয়ে নিজের পদকে নিরাপদ করছেন মন্তব্য করে রিজভী বলেব, আওয়ামী লীগ এখন ভাঙ্গা কলসি। আর ভাঙ্গা কলসিই বাজে বেশী। ভয় দেখিয়ে, রক্ত ঝরিয়ে, জনগণের বিরুদ্ধে বন্দুক ব্যবহার করে ক্ষমতায় থাকার মজাতে জনগণের কথার আওয়াজ আপনাদের কানে ঢোকে না।

তিনি বলেন, কাদের সাহেব আপনি ঠিকই বলেছেন সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। কাদের সাহেব, দু:শাসন বিদায়ের সময় চলে এসেছে। প্রতিবাদী জনগোষ্ঠী আজ লুটেরাদের বিরুদ্ধে জেগে ওঠেছে। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে পেতে সোচ্চার হয়েছে। নিত্যপণ্যসহ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে দিশেহারা জাতি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে হারানো গণতন্ত্র ফিরে পেতে জীবনবাজী রেখে সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। আরেকটি ৫ জানুয়ারীর মতো কলঙ্কিত নির্বাচন জনগণই প্রতিহত করবে, প্রতিরোধ করবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

রিজভী এসময় অভিযোগ করেন, গতকাল দেশব্যাপী গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনকালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। কোন কোন স্থানে বাধা দিয়ে কালো পতাকা মিছিল পন্ড করে দেয়ার অপচেষ্টা করেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীকে। এর বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকনসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply