যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিল স্থগিত : বিশেষ সভায় উত্তেজনা

প্রবাস

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশক্রমে মাত্র এক সপ্তাহের নোটিশে যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিলা ২রা জানুয়ারি মঙ্গলবার। তবে কাউন্সিল প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনারমূখে আগামী ২ সাপ্তার জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার রাতে যুক্তরাজ্য বিএনপির অফিসে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এ ঘোষণা দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান। এসময় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ। বিশেষ সভায় বিএনপির নেতাদের বক্তব্য দেওয়া ও লাইভ ফেইসবুকে সম্প্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে সভা আবারো শুরু হয়। একাদিক নেতার ফেইসবুকে লাইভ চলে দলের আভ্যন্তরিন অন্তঃকোন্দলের চিত্র।

এই পর্যায়ে সভার নিয়ন্ত্রননেন দলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান। তিনি বেশ কয়েকজন নেতার বক্তব্য শুনেন এবং আগামী কাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথে বসে কাউন্সিলের তারিখ ও কাউন্সিলের কারা ভোটার হবেন এবং কোন পক্রিয়ায় কাউন্সিল হবে তা নির্ধারন করা হবে।
এদিকে সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৯ জুলাই এম এ মালিককে সভাপতি ও কয়ছর এম আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রায় ছয় মাস আগে কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর আসন্ন কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছিল, তেমনি প্রার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় সন্দেহ আর নানান প্রশ্নের।
কাউন্সিলের জোনাল কমিটির সংখ্যা নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়। টিভি ওয়ানের সাথে স্বাক্ষাতকারে সংগঠনের সভাপতি এম এ মালিক বলছেন জোনাল কমিটি ৬০টি কিন্তু সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ বলেন এর সংখ্যা ৪৫টি। তবে কিছু প্রস্তাবিত কমিটি রয়েছে। নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক উভয়ই নিশ্চিত করেন বিগত দুই কাউন্সিলের মত এবারো বিভিন্ন জোনাল কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের মতামতের ভিত্তিতেই নতুন কমিটি উপহার দিবেন। এসময় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। তবে সোমবার জরুরী এক সভার মাধ্যমে মঙ্গলবারের কাউন্সিল ঘোষণা করেন নেতৃবৃন্দ।

এবারের কাউন্সিলে সভাপতির পদে তেমন কোন শীর্ষ নেতার নাম প্রকাশে শুনা না গেলেও আবারো দলের শীর্ষ পদে ফিরে আসতে চান সাবেক সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছ। তিনি নিশ্চিত করেছেন তার সাথে বিভিন্ন জোনাল কমিটির নেতৃবৃন্দ যোগাযোগ করছেন। তার অতীত কাজের জন্য তাকে আবারো সভাপতি পদে দাঁড়াতে তারা উৎসাহিত করছেন। এদিকে শেষ মুহুর্তে সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন সভাপতি প্রার্থী হচ্চেন বলে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন তার অবস্থান পরিবর্তের পক্ষে থাকবে। তবে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যাকে দিয়ে কমিটি দিবেন তিনি তা মেনে নিবে।

গত বৃহস্পতিবার একটি অনলাইন পোর্টালকে দেয়া স্বাক্ষাতকারে বর্তমান সভাপতি এম এ মালেক আবারো সভাপতি পদে থাকতে ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তার মতে বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর পতন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে থেকে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনকে আরো গতিশীল করতে চান। তবে সোমবার রাতের বিশেষ জরুরী সভায় তিনি তার অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তিনি বলছেন তিনি আগামী কাউন্সিলে সভাপতি হবেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নন। তিনি আবেগময়ী বক্তব্যে বলেন, এই দলের জন্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় দিয়েছি। পরিবারকে সভায় দিতে পারিনি। ছেলে-মেয়েরা মানুষ হয়েছে তার মায়ের কাছে। তাদের প্রয়োজনের সময় পাশে থাকতে পারিনি। এই দেশে বেড়ে উঠা ছেলে-মেয়েরা আমার উপর তাদের অনেক অভিযোগ। এখন সময় হয়েছে পরিবারকে সময় দেয়ার। তিনি বলেন, আমার সভাপতি হওয়ার ইচ্ছাপূরন হয়েছে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের একান্ত ইচ্ছায়। আমি আজীব তার কাছে ঋনী। দলে শীর্ষ পদে না থাকলেও পিছনের সারী থেকে কাজ করব।
এদিকে তৃতীয়বারের মত সাধারণ সম্পাদক হয়ে হেট্রিক করতে ইচ্ছুক বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ। তিনি গত শুক্রবার এক স্বাক্ষাতকারে বলেন, যুক্তরাজ্যে বর্তমান গতিশীল আন্দোলন সংগ্রামের ধারা অব্যাহত রাখতে একই পদে থাকতে ইচ্ছুক। তবে তিনি নেতাকর্মীদের উপর আস্থা রেখে বলেন, তারা চাইলে আমি আবারো এই দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত।
এদিকে সাধারণ সম্পাদকের পদে পরিবর্তন আনতে প্রার্থী হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা। এর মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমদ চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল ও যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক আহবায়ক দেওয়ান মোকাদ্দেম চৌধুরী নিয়াজ।
তবে তারা কাউন্সিলের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের উদ্বেগের বিষয়টি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কাছেও লিখিত আকারে পাঠানো হয়েছে।

সম্মেলনকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী সাত নেতা গত শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ পত্র দিয়েছিলেন।

আসন্ন সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক আহবায়ক দেওয়ান মুকাদ্দেম চৌধুরী নিয়াজ, বর্তমান কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দীন, তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল, সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ শরীফুজ্জামান চৌধুরী তপন, কাজী ইকবাল হোসেন, মুজিবুর রহমানের স্বাক্ষরিত এই অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে সংবাদ প্রকাশ করে একটি অনলাইন পোর্টালে।
তারেক রহমান বরাবরে লিখিত ঐ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, “আপনি জানেন যে, আগামী ২-রা জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে বিএনপির কাউন্সিল। গত ২৪শে ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য বিএনপির জরুরি সভা অনুষ্টিত হয়েছিল। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল যে, নতুন কমিটি গঠনে আপনার সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মী সবাই মেনে নেবে। আপনার উপস্থিতি ছাড়া যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিল বা সম্মেলন অনুষ্টান করা কোন অবস্থাতেই সম্ভব হবে না। কিন্তু এর পরের দিনই আমরা একটি অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম যে ২রা জানুয়ারি যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিল ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু উক্ত কাউন্সিল অনুষ্ঠানের কয়েকটি বিষয়ে এখনও নেতাকর্মীদের মাঝে সংশয় রয়েছে। আমরা জানতে চাই,

১। এই কাউন্সিলে আপনার সম্মতি রয়েছে কি না।
২। কাউন্সিলে আপনার উপস্থিতি থাকবে কী না।
৩। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন হলে সে কমিটি কাউন্সিলারদের সরাসরি ভোটার মাধ্যমে হবে কী না?
৪। কে হবেন নির্বাচন কমিশনার?
৫। ভোটের মাধ্যমে হলে কারা ভোটার হবেন? কারা কাউন্সিলার হবেন? কাউন্সিলের স্থান কোথায় এবং কখন হবে?

কাউন্সিলারদের তালিকা তৈরী করা না হলে যারা সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক, তারা কিভাবে কোন পক্রিয়ায় কার কাছে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করবেন।

৭। কাউন্সিলারদের চূড়ান্ত তালিকা না পেলে কিভাবে কাদের কাছে ভোট চাইবেন।

 

 

Leave a Reply