তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিবেন

রাজনীতি

বঙ্গভবনে আজ সন্ধ্যায় তিন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা এ সময় উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার বিকালে তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী শপথের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে তিনি নিশ্চিত করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। মন্ত্রিসভা থেকে কেউ বাদ পড়বেন কি-না তা এখনো পরিস্কার নয়। সেই সাথে নতুন শপথ নেয়া মন্ত্রীরা কে কোন দপ্তর পাচ্ছেন তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে জানা গেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনরত নারায়ণ চন্দ্র চন্দ পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হচ্ছেন। বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রী পরিষদে অন্তর্ভূক্ত হতে পারেন। এর মধ্যে লক্ষীপুরের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল, রাজবাড়ীর সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, নাটোরের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার রয়েছেন। এছাড়াও মন্ত্রিসভায় আরও কিছু রদবদল আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এব্যাপারে শাহজাহান কামাল বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ফোনে করে বঙ্গভবনে থাকার কথা বলেছেন। তবে কেন তা জানাতে চাননি তিনি।

এব্যাপারে নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ সচিব আজ দুপুরে আমাকে ফোন করেছিলেন আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার জন্য।’

কাজী কেরামত আলী বলেন, ‘আমি মন্ত্রী হবো, তা দু’দিন আগে থেকে জানি। আজ কেবিনেট ডিভিশন থেকে ফোন পেয়েছি। এলাকায় ছিলাম। ফোন পেয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দেবেন, সেই দায়িত্ব পালনেই প্রস্তুত আছি।’

প্রসঙ্গত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মুহাম্মদ ছায়েদুল হক মারা যাওয়ার পর চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে তার পদটি শূন্যই রয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা টানা দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত সরকারে নতুন মুখ বা দপ্তর পরিবর্তন হয়েছে তিন দফা। এর মধ্যে ওই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি এইচ মাহমুদ আলীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নজরুল ইসলামকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভায় যোগ হয় নতুন পাঁচ মুখ। তারা হলেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। এছাড়া আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সৈয়দ আশরাফকে সড়িয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। একই দিন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী করা হয়। এক সপ্তাহ পর সৈয়দ আশরাফকে করা হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৯ জন। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ ৩১ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও ২ জন উপমন্ত্রী। এছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় ৫জন উপদেষ্টা ও একজন বিশেষ দূত রয়েছেন। এর আগে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি বর্তমান সরকার গঠন করা হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই একদফা মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়।

Leave a Reply