স্বাগত ২০১৮ বিদায় ২০১৭

জাতীয়

প্রতিদিনের মতো আজও সূর্য উঠেছে। শীতের কুয়াশা সরিয়ে উঁকি দিয়েছে উজ্জ্বল রোদ। কিন্তু অন্য যে কোনো দিনের চাইতে আজকের ভোরের আলো যেন বেশি মায়াময়। নতুন স্বপ্নের কথা বলছে। বলছে, সামনের দিনগুলোতে অনিশ্চয়তা কেটে গিয়ে শুভময়তা ছড়িয়ে যাবে সর্বত্র। তমসা কেটে পূর্ব দিগন্তে আবহমান সূর্য আবার শুরু করল নতুন যাত্রা। ‘সময় আর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না’- এই সত্যকে তুলে ধরেছে নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়। স্বপ্ন আর দিনবদলের অপরিমেয় প্রত্যাশার আলোয় উদ্ভাসিত শুভ নববর্ষ। সুপ্রভাত বাংলাদেশ, স্বাগত ২০১৮! হ্যাপি নিউইয়ার ২০১৮। : অভিবাদন নতুন সৌরবর্ষকে। সেই একই সূর্য, একইভাবে উঠছে পূর্বাকাশ আলো করে। তবু তার উদয় ভিন্নতর। আজকের দিনটিও আলাদা। কারণ একটি নতুন বর্ষপরিক্রমা শুরু হলো আজ সোমবার থেকে। সোনালি স্বপ্নের হাতছানি নিয়ে উদিত হলো নতুন বছরের নতুন সূর্য। ভরা পৌষে কুয়াশার হিমেল চাদর ছিন্ন করে উদ্ভাসিত হলো সোনালি আলোর সকাল। কাল পরিক্রমায় দ্বারোদঘাটন হলো প্রকৃতির নতুন নিয়মে নতুন বছর ২০১৮’র। চেতনায় জাগ্রত আবহমান সেই মাঙ্গলিক বোধ- অতীতের জীর্ণতা অতিক্রান্ত দিনমাসপঞ্জির হিসাব থাক বিস্তৃতির কালগর্ভে, প্রত্যাশায় বুক বাঁধি নতুন দিনের সূর্যোলোকে- তবে উদ্ভাসন হোক সজীব-সবুজ নতুনতর সেই দিনের; যা মুছে দেবে অপ্রাপ্তির বেদনা, জাগাবে নতুন প্রত্যয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবার প্রেরণা। : গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা অনুযায়ী ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন আজ। আজ ২০১৮ সালের প্রথম দিন। ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে/তবু শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এ কথার মতোই দুঃখ, কষ্ট সবকিছু কাটিয়ে নতুন জীবনের দিকে যাত্রার প্রেরণা নেবে মানুষ। নতুন বছরটি যেন প্রতিটি মানুষের মন থেকে সকল গ্লানি, অনিশ্চয়তা, হিংসা, লোভ ও পাপ দূর করে। রাজনৈতিক হানাহানি কিংবা জঙ্গি-সন্ত্রাসমুক্ত হয়ে যেন আমাদের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত প্রিয় স্বদেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে। গত বছরের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব খুঁজতে খুঁজতে নতুন বছরকে সামনে রেখে আবর্তিত হবে নতুন নতুন স্বপ্নের। বাংলাদেশে ইংরেজি নববর্ষ পালনের ধরন বাংলা নববর্ষ পালনের মতো ব্যাপক না হলেও এ উৎসবের আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া থেকে বাংলাদেশের মানুষও বিচ্ছিন্ন নয়। তবে মানুষের নিরাপত্তার খাতিরে এই নববর্ষ উদযাপনে সীমাবদ্ধতা সবার চোখে পড়ার মতো। কেননা, থার্টি ফার্স্ট নাইট কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গতকাল রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই কূটনৈতিক পাড়া গুলশান-বনানীসহ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। বিভিন্ন এলাকায় প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চেকপোস্ট বসায়। প্রতিটি যানবাহনেই তল্লাশি করা হয়। এছাড়া হাতিলঝিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ধ্যার পর থেকে শিক্ষার্থী ছাড়া অন্যদের প্রবেশ সীমিত করা হয়। আইডি কার্ড দেখে সবাইকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করানো হয়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী উন্মুক্ত স্থানে থার্টি ফার্স্ট নাইটে সবধরনের অনুষ্ঠানের বিধি নিষেধও মনিটরিং করেু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে জনগণের স্বার্থে এ ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয় বলে জানান আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক।

Leave a Reply