নিউইয়র্কে হামলাকারী বাংলাদেশি!

আন্তর্জাতিক

নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাস টার্মিনালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। হামলাকারী সন্দেহে আহত অপর একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিকে বাংলাদেশি বলে উল্লেখ করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। খবর বিবিসির

বিবিসির খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার সকালে এ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এইটথ অ্যাভিনিউ ও ৪২ স্ট্রিটের কাছে বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের পর পর বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন সাবওয়ে স্টেশনে অবস্থানরত যাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে এ, সি এবং ই সাবওয়ে লাইন ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। আশপাশের সড়ক ফাঁকা করে এফিবিআই, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অবস্থান নেয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বরাত দিয়ে এনবিসি নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের তার ও ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। তারা বলছে, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি। তিনি সাত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

পুলিশ বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি নিজেও আহত হয়েছেন। তবে তার আঘাত গুরুতর নয়।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স টুইটারে বলেছেন, এ ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে।

নিউইয়র্কের সাবেক পুলিশ কমিশনার বিল ব্রাটন বলেছেন, এটা নিঃসন্দেহে সন্ত্রাসী হামলা। বিস্ফোরণ সঠিকভাবে হয়নি, নাকি এটি ঠিকমতো কাজ করেনি-তা তদন্ত করতে দেখতে হবে।

দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানহাটনে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে হামলার অভিযোগে আটক ব্যক্তি বাংলাদেশি। তিনি ব্রুকলিনের বাসিন্দা। ২৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই হামলা চালিয়েছেন।

পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন নিউইয়র্ক থেকে নিউজার্সি পর্যন্ত বিভিন্ন বাস যাত্রী পরিবহন করে। এ ছাড়া গ্রেহাউন্ড ও পিটারপ্যানের মতো দূরবর্তী স্থানগুলোয় যাত্রী পরিবহনকারী বাসগুলোও এখান থেকেই ছেড়ে যায়। গড়ে প্রতি দিন এই বাস টার্মিনাল দিয়ে আড়াই লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ভিড়ের মধ্যে ট্রাক চালিয়ে ৮ জনকে হত্যা
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সাইকেল চালানোর রুটে ট্রাক তুলে দিয়ে ৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসময়ে আহত হয়েছে কমপক্ষে ১২জন। ২৯ বছর বয়সী একজন ওই ট্রাক থেকে পালিয়ে যাবার সময় পুলিশ গুলি করে তাকে আটক করে।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম বলছে লোয়ার ম্যানহাটনে এই হামলাকারীর নাম সাইফুল্লো সাইপোভ, যে কিনা ২০১০ সালে অভিবাসী হিসেবে দেশটিতে এসেছে।সে উজবেকিস্তান থেকে এখানে এসেছিল বলে পুলিশ জানাচ্ছে।

হামলাকারী কিছুদিন আগে নিউইয়র্কের একটি বাঙালি বসতি এলাকায় বসবাস শুরু করার কথা পুলিশ বললেও তবে ওই এলাকার কেউ তাকে সনাক্ত করতে পারেনি।

নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগের কমিশনার জেমস ও’নিল বলেন যে, রিটেইলার হোম ডিপো থেকে সাদা রঙের একটি ট্রাক যাত্রা শুরু করে স্থানীয় সময় বেলা তিনটার দিকে।

হামলাকারী এরপর সাইকেল চালানোর রাস্তায় পথচারীদের ওপর সেই ট্রাকটি চালিয়ে দেয় এবং বেশ কিছুদূর অতিক্রম করে।পরে একটি স্কুল বাসের সাথে গিয়ে সংঘর্ষের পর তা থেমে যায়। এরপর পালিয়ে যাবার সময় পুলিশ তাকে পেটে গুলি করে আহত করে ও আটক করে।

পুলিশ কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী তার হাতে দুটি বন্দুক ছিল এবং হামলাকারীর দেয়া ভাষ্য সন্ত্রাসী হামলার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ঘটনাস্থল থেকে দুটি খেলনা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা অনেকেই সেসময় গুলির শব্দ শুনেছে বলে জানা গেছে।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও একে কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে অভিমত জানিয়েছেন।

ব্লাসিও এখানে বলছেন, ‘এটি একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। আরো পরিষ্কার করে বললে, খুবই কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ। আমরা জানি এটি আমাদের শক্তিকে নষ্ট করার চেষ্টা। কিন্তু নিউইয়র্কবাসীরা খুবই শক্তিশালী, ধৈর্যশীল এবং আমাদের অগ্রযাত্রা কখনোই এরকম সন্ত্রাসের কাছে থেমে যাবেনা।’

এই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুটি টুইট বার্তা পাঠিয়েছেন। একটিতে তিনি বলেছেন যে, নিউইয়র্কের হামলা দেখে মনে হচ্ছে খুবই অসুস্থ বিপদজনক কেউ এটি চালিয়েছে।

অপর টুইটে মিস্টার ট্রাম্প বলেছেন যে, আমরা কোনো আইএস গোষ্ঠীর কাউকে মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো স্থান থেকে হারিয়ে দেবার পর এখানে অবশ্যই প্রবেশ করতে দেবো না।

এই হামলাটি এমন একটি সময়ে চালানো হয় যখন নিউইয়র্কবাসী তাদের অন্যতম উৎসব হ্যালোইনে মেতে ছিল।

Leave a Reply