বিজয় দিবসের গুরুত্ব তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে : সাংবাদিক বাবর হোসেন

সিলেট বিভাগ

দৈনিক যুগভেরীর সাবেক সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার,সাপ্তাহিক বাংলার বারুদের নির্বাহী সম্পাদক,দক্ষিণ সুরমা জার্নালিস্ট ক্লাবের প্রধান প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা সাংবাদিক বাবর হোসেন বলেছেন, ১৯৭১ সালে বাংলার আপামর জনতা দেশ ও মাতৃভুমি বাংলা রক্ষায় পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধে ঝাপিঁয়ে পড়েছিলো। দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ আর ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময় অর্জিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা। পেয়েছি আমরা লাল সবুজের পতাকা। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন বাংলাদেশের খ্যাতনামা সাংবাদিকরা। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া জাতির কৃতী সন্তান সাংবাদিকদের মধ্যে সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, খোন্দকার আবু তালেব, নিজামুদ্দীন আহমদ, এসএ মান্না (লাডু ভাই), আ ন ম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, এ কে এম শহীদুল্লা (শহীদ সাবের), আবুল বাশার, শিবসাধন চক্রবর্তী, চিশ্তী শাহ হেলালুর রহমান, মুহম্মদ আখতার ও সেলিনা পারভীন। পেশাগতভাবে এবং রাজনৈতিকক্ষেত্রে জাতির জন্য সাংবাদিকরা সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রেখেছিলেন। বিশেষ করে সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, খোন্দকার আবু তালেব নিজামুদ্দীন আহমদ, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক জাতীয় রাজনীতির জন্য ছিলেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। সিরাজুদ্দীন হোসেন ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কলেজ বন্ধু। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে এ ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে বঙ্গবন্ধু অনেক সিদ্ধান্ত নিতেন। শহীদুল্লাহ কায়সারের সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও বামপন্থি রাজনীতির প্রতি আনুগত্য তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। ‘লুব্ধক’, ‘খোশনবিশ’, বাউণ্ডুলে বিভিন্ন ছদ্মনামে রাজনৈতিক কলাম লিখে খোন্দকার আবু তালেব ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। নিজামুদ্দীন আহমদ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিবিসির মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে মুক্তিযুদ্ধের কথা অবহিত করেন। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় আজাদ পত্রিকায় রাজনৈতিক কলাম লিখে আ ন ম গোলাম মোস্তফা সারাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার কলাম আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। মুক্তিযুদ্ধকালে সৈয়দ নাজমুল হক সিবিএসের (কলাম্বিয়ানা ব্রডকাস্টিং সিস্টেম) করেসপন্ডেন্ট হিসেবে ওঁৎপাতা পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দাদের এড়িয়ে ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গিয়ে বিদেশি সাংবাদিকদের দিয়ে সারা পৃথিবীতে কৃতিত্বের খবর প্রচার করতেন। শহীদ সাংবাদিকদের অনেকের সম্পর্কেই বর্তমান প্রজন্ম খুব বেশি জানেন না। আমরা যদি আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ না করি ভবিষ্যতে আমাদের অধঃস্তনরা যদি তাদের পূর্বপুরুষদের অর্থাৎ আমাদের স্মরণ না করে তাহলে তখন আমাদের আশ্চর্য হওয়ার কিছুই থাকবে না।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুরমা জার্নালিস্ট ক্লাবের উদ্যোগে কদমতলীর আজাদ শপিং কমপ্লেক্সের ২য় তলায় ক্লাবের কার্যালয়ে মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন সাংবাদিক বাবর হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ সুরমা জার্নালিস্ট ক্লাবের প্রতিষ্টাতা সদস্য ও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সমাজসেবী ও আইটি ব্যক্তিত্ব এম এ মালেক, দক্ষিণ সুরমা জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি দৈনিক উত্তরপূর্বের স্টাফ রিপোর্টার রাশেদুল হোসেন সোয়েব, সাধারণ সম্পাদক দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি আহসান হাবিব, দক্ষিণ সুরমা জার্নালিস্ট ক্লাবের সহ-সভাপতি সাপ্তাহিক সিলেটের আলোর সহ-সম্পাদক কাজী জয়নুল হক, দক্ষিণ সুরমা জার্নালিস্ট ক্লাবের সহ-সভাপতি লন্ডন টাইমস্ এর সিলেট প্রতিনিধি আফরোজ খান, দক্ষিণ সুরমা জার্নালিস্ট ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সাপ্তাহিক সোনালী সিলেটের সম্পাদক ও প্রকাশক তাজুল ইসলাম,দৈনিক ভোরের পাতার প্রতিনিধি জাবেদ আহমদ এমরান, সাংবাদিক সোহেল আহমদ, ইত্যাদি নিউজ২৪ ডটকম’র সম্পাদক রায়হান আহমদ,সাংবাদিক কামাল আহমদ,সুমন আহমদ প্রমুখ। সভায় আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দক্ষিণ সুরমা জার্নালিস্ট ক্লাবের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করা হয়। প্রেস-বিজ্ঞপ্তি।

 

Leave a Reply