প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা : মির্জা ফখরুল

রাজনীতি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জিয়া পরিবারের সম্পত্তি সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সুতরাং প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের একদিন পর আজ শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

অথচ বৃহস্পতিবার রাতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি একটি অনলাইনকে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক বক্তব্য দেন, যার বেশিরভাগ আমরা খুব একটা গুরুত্ব দেই না। কারণ, তিনি অনেক সময় বক্তব্য দেন, যার রাজনৈতিক মূল্য আছে বলে আমার কাছে মনে হয় না।

এর আগেও মির্জা ফখরুল এমন ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ছিলেন। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া আইএসআই’র কাছ থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচন করেছেন। গত ২৩ মার্চ, আওয়ামী লীগের এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের এ বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাইতে হবে, নইলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরে দিন ২৪ মার্চ ভাসানী মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এধনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন। গণভবনে সিনিয়র সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া আমাকে কিসের জন্য ক্ষমা করেছেন? ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরও আমি বেঁচে গিয়েছি, তিনি কি এ কথা বলছেন? তিনি ক্ষমা করেছেন নাকি চাচ্ছেন, তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। তার কাছে কেন ক্ষমা চাইবো? আমি এমন কী অপরাধ করেছি? বরং তার উচিত দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া।

প্রসঙ্গত, গত ৯ নভেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে চতুর্থ দিনের বক্তব্য দিতে গিয়ে আদালতকে খালেদা জিয়া বলেন, শেখ হাসিনার প্রতি প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবেন না তিনি। প্রতিহিংসার রাজনীতিও করবেন না। শেখ হাসিনাকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।

নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না : ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বরং সব দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসা সরকারের দায়।

রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে চীনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফখরুল এসব কথা বলেন।

সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে চীনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির নেতাদের বৈঠক শুরু হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এনটিভি অনলাইনকে এ তথ্য জানান।

বৈঠকে দলের মহাসচিব ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ অংশ নেন।

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কম্বোডিয়া সফর নিয়ে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বলেন, নাকে খত দিয়ে বিএনপি নির্বাচনে আসবে।

Leave a Reply