তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে না দিলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে : ড. কামাল

রাজনীতি

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যদি ফিরিয়ে দেয়া না হয়, আর দর্শক হিসেবে আমরা তা দেখতে থাকি তাহলে দেশ ধ্বংস হবে। আন্দোলন করে যদি এদের থেকে মুক্ত হওয়া যায় তাহলে তা করতে হবে। তবে আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, এরকম পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশ প্রতিবারই মুক্ত হয়েছে। কেউ তো কোনো কিছু সহজেই দেয় না। আর একবার কেউ কিছু পেয়ে গেলে ভাবেন যে, সব পেয়ে গেছেন! এমনটি তো হয় না, হতে পারে না’ এক সংবাদমাধ্যমকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যদি ফিরিয়ে দেয়া না-ই হয় তাহলে বিকল্প ব্যবস্থাগুলো নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। আকবর আলি খান সাহেব এর পুরো ওয়ার্কআউট করেছেন। নির্বাচনের সময় কীভাবে সরকারের শাসনব্যবস্থা চলবে, প্রধানমন্ত্রীর কথায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলায়ের কোনো কিছু হবে না, প্রধানমন্ত্রীর আদেশে পুলিশও নিয়ন্ত্রিত হবে না। নির্বাচন কমিশনকে সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন থাকতে হবে। সেখানে সরকারের কোনো প্রতিনিধি দিতে পারবে না, কোনো আদেশও দেয়া যাবে না। এমনটি কেউ করতে চাইলে নির্বাচন থেকে তাকে বঞ্চিত করতে হবে। আকবর আলি খানের এ ভাবনাগুলো নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। তাঁর সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আমরা কার্যকর কিছু করতে পেরেছি কি পারিনি, সেখানে আমাদের কোনো ব্যর্থতা রয়েছে কি, নেই তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তখন সারা জাতিকে ব্যর্থ করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন দিতে না পারার ব্যর্থতা তো সরকারের। সরকার শপথগ্রহণ করে সংবিধান মেনে দেশ শাসনের। সরকার যদি সেই শপথ ভঙ্গ করে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন দিতে না পারে তাহলে সেটা জনগণের ব্যর্থতা হতে পারে না। এখানে জনগণের চেয়ে অনেক বেশি ব্যর্থ সরকার। সরকার কি আমাদের সুশাসন, স্থিতিশীলতা দিতে পেরেছে? এমনটি চলতে থাকলে আমাদের যে অর্থনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে তার কোনোটাই অর্জন হবে না। অবাধ, স্বচ্ছ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন যদি এবারও না হয়, কিন্তু সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় তাহলে গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। সুশাসন হবে না, গণতন্ত্র হবে না। হবে কুশাসন। স্বৈরতন্ত্র আরও সুসংহত হবে। গুম-হত্যা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস আরও বাড়বে।’ এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের সবার চেষ্টা করা উচিত যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। সুষ্ঠু নির্বাচন তো একটা মৌলিক বিষয়, যা নিয়ে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। কিন্তু প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের আগে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের অলমোস্ট আন্দোলন করতে হয়।’ তিনি বলেন, জনগণ ক্ষমতার মালিক। ক্ষমতার মালিক হিসেবে থাকতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে ষোল-সতের কোটি মানুষ তাদের মালিকানা, তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। সে কারণেই নির্বাচনে যদি অন্যভাবে ভোট নেয়া হয় তাহলে জনগণকে তার মালিকানা থেকে বঞ্চিত করা হয়। সংবিধানকে আঘাত দেয়া হয়। গণতন্ত্র আর থাকে না। সে কারণেই খুব গুরুত্বপূর্ণ যে, আমাদের সব নাগরিককে সচেতন থাকা দরকার। সরকার, বিরোধী দল সবার কাছে আবেদন থাকবে, সংবিধান মেনেই যেন তারা যা কিছু করার করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে সরকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা নিরপেক্ষ থাকবে। কিন্তু নিরপেক্ষ থাকা মুখের কথা নয়। কারণ আমরা দেখেছি তারা মুখে যেটা বলেন তা করেন না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও বিতর্কিত করে তা বাতিল করা হলো। তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত হবে কীভাবে? এখানে পুলিশ যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে, প্রচারমাধ্যম ও প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ থাকে। কোনোরকম অন্যায় হলে সঙ্গে সঙ্গে যেন অ্যাকশন নেয়া হয় এসব তো আমাদের দাবি।’ এসব দাবি বাস্তবায়ন করাও অসম্ভব নয়। প্রয়োজন সবার ঐক্য। সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেও মনে করেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।

Leave a Reply