মিসরে মসজিদে হামলায় নিহত ২৩৫, তিনদিনের শোক

আন্তর্জাতিক

কায়রো : মিসরের নর্থ সিনাই প্রদেশে মসজিদে বোমা ও বন্দুক হামলায় অন্তত ২৩৫ জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর এসেছে। হামলায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বীর আল-আবেদ শহরের আল-রাওদা মসজিদে নামাজের সময় এ হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, চারটি গাড়ি থেকে দুর্বৃত্তরা নামাজিদের ওপর হামলা শুরু করে।

মসজিদের ভেতরে রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকার ছবি খবরে প্রচার করা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদটিতে নামাজ পড়ছিল নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যরা। ধারণা করা হচ্ছে তাদের লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়।

মিসরের বেসরকারি চ্যানেল এক্সট্রা নিউজ টিভি বলেছে, প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি হামলা নিয়ে আলোচনা করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বসবেন।

কারা হামলা চালিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। ২০১৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুড থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জঙ্গিদের হামলার ঘটনা বেড়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, হামলার পরপরই দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডাকেন। এ ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিল মিসর
মধ্যপ্রাচ্যের সব থেকে বড় সামরিক ঘাঁটি উদ্বোধন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে মিসর। আলেকজান্দ্রিয়া প্রদেশের আল-হাম্মাম শহরে এই সামরিক ঘাঁটি উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

মিসর সরকারের দাবি, এটিই মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক সামরিক ঘাঁটি।

নতুন ঘাঁটির নাম দেয়া হয়েছে, মোহাম্মদ নাগিব সামরিক ঘাঁটি।

সামরিক ঘাঁটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিসর সেনাবাহিনীর জেনারেল সিসির সাথে আরবের বেশ কয়েকটি দেশের নেতারাও হাজির ছিলেন।

মিসরের সামরিক কর্মকর্তাদের একাংশ জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলবর্তী শহরগুলোতে কড়া নিরাপত্তার বলয় তৈরি করতেই এই সামরিক ঘাঁটি বড়সড় ভূমিকা পালন করবে।

তারা আরো জানিয়েছে, এই এলাকা মিসরের পর্যটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংগঠন মিসরের এই সব এলাকায় বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে মিসরের পর্যটন শিল্পে বড়সড় আঘাত হেনেছে। দেশের পর্যটন খাতে বিশাল ক্ষতি হয়েছে। মিসরকে আবারো পর্যটনের শীর্ষে তুলতেই এই সরকারের এই উদ্যোগ। রীতিমতো সামরিক ঘাঁটি করে দেশের নিরাপত্তার বলয় আরো আঁটসাঁট করা হচ্ছে। যাতে পর্যটন শিল্পে কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ।

Leave a Reply