বিএনপিকে পরাজিত করে বিজয়ী হব : ওবায়দুল কাদের

রাজনীতি

গাজীপুর : ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে পরাজিত করে বিজয়ী হব।’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, ‘বিএনপির এমন কোনো কাজের নিদর্শন নেই যে সেই কাজের জন্য জনগণ তাদের বিপুল সংখ্যায় ভোট দেবে। তবে বিএনপি নির্বাচনে গেলে আসন পাবে। কিন্তু কত আসন পাবে, সেটা জনগণ জানেন।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আস্থাশীল, দেশ উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতিতে সততা, দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। আজকে বিশ্বস্বীকৃত সৎ রাজনীতি করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৭৩টি দেশের সৎ রাজনীতিবিদ হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অবস্থান তৃতীয় নম্বরে। কাজেই সততা-দক্ষতায় আজ যিনি বিশ্ব স্বীকৃত।’

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ডি কে এন নাহিন রেজা, গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির আন্দোলন করার সাহস নেই : কাদের
‘বিএনপির আন্দোলন করার সক্ষমতাও নেই, সাহসও নেই। এটা প্রমাণ হয়ে গেছে। নতুন করে তারা অস্ত্রের ভাষায় কথা বলছে। অস্ত্রের ভাষায় যারা কথা বলে তারা ক্ষমতায় এলে দেশের কী হবে সেটা মানুষ ভালো করেই জানে।’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুসাপুর ত্রিবোনী মিনারবাড়ি এলাকায় শামসুজ্জোহা (এম.বি) ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়সহ তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির পেট্রলবোমা ব্যর্থ হয়েছে। এখন নাকি লোহার হাতুড়ি দিয়ে এবার আন্দোলন করবে। অস্ত্রের ভাষায় যারা কথা বলে, তাদের পরিণতি অত্যন্ত করুণ এবং ভয়াবহ।’

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘বিএনপির ভবিষ্যৎ ভালো নয়। আবারো যদি তারা ৫ জানুয়ারির মত জ্বালাও-পোড়াও করতে চায় তাহলে জনগণ থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এখন সিদ্ধান্ত তাদের কাছে তারা কি করতে চায় বা কি করবে।’

‘দেশের মানুষ এখন আর আগুন সন্ত্রাস, অরাজকতা চায় না। মানুষ এখন উন্নয়নে বিশ্বাসী। আর বর্তমান সরকার হচ্ছে উন্নয়নবান্ধব সরকার’ বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ।

তিনি বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীতে খেয়া পাড়াপাড়ের স্থানে ফেরি চালু করে দিচ্ছি। আর আমি মন্ত্রী হিসেবে বলে দিলাম-আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফেরি চালু হবে। আগামী ৮ মাসেই এই সেতু দৃশ্যমান হবে আমি সেই কথা বলব না, সেই ওয়াদা দেব না যেটা রাখতে পারব না। কারণ এটাই শেখ হাসিনার অঙ্গীকার। জনগনকে ধোকা দিয়ে বোকা বানানোর কাজ আমরা করি না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার এই নারায়ণগঞ্জ। আমাদের সকল সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জ থেকে গড়ে উঠেছিল দুর্বার আন্দোলন। বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন-সংগ্রামে সঙ্গী ছিল এই নারায়ণগঞ্জ। শীতলক্ষ্যা পাড়ে এই পূণ্যভূমিতে এসে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।

নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একটি ব্রিজের জন্য এত ফুল কেন, এত তোরণ কেন, এত ফুলের পাপড়ি কেন। আমার ছবি দিয়ে এত তোরণ কেন। যেখানে যা প্রয়োজন তা করা মন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব। আমি এখানে ফুলের মালা, পাপড়ি নিতে আসিনি। আমি এখানে শত শত ব্যানার, তোরণ, বিলবোর্ড দেখতে আসিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসময় নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) সেলিম ওসমানের অর্থায়নে নির্মিত তার বাবা-মায়ের নামে শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও নাগীনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয় এবং শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন

বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাব্বি মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মঈনুল হক, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবলী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, জাতীয় পার্টির জেলার সভাপতি আবু জাহের, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি সানোয়ার হোসেন সানু, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply