সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশকে ঘিরে ঢাকামুখী গণপরিবহণ বন্ধ

রাজনীতি

কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সকাল থেকে রাজধানীর আশেপাশের জেলা মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর থেকে ঢাকামুখী সব গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে।

রবিবার সকাল থেকে এই গণপরিবহণগুলো বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তি পড়েছে রাজধানীমুখী মানুষ।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহণ শ্রমিক নেতা বলেন, বিএনপির সোহরাওয়ার্দীর সমাবেশের কারণেই অঘোষিতভাবে গণপরিবহণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কোনো উপায় না পেয়ে দুর্ভোগকে সঙ্গী করেই কেউ কেউ সিএনজি অটোরিকশা- এমনকি রিকশায় করে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও ঢাকায় আসছেন।

রায় দুই বছর পর সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। প্রথমে ৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করতে চেয়েছিল বিএনপি। তবে সিপিএ সম্মেলনের কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ৯ নভেম্বরের পর সমাবেশ করার পরামর্শ দেয়। এরপর ১১ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের ঘোষণা দেয় বিএনপি। তবে যুবলীগের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দীতে অনুষ্ঠান থাকায় ১২ নভেম্বর সমাবেশের ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবারের সমাবেশের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে মৌখিক ও পরে ২৩ শর্তসহ লিখিত অনুমতি পাওয়ায় পুরোদমে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে দলটি। ঢাকাসহ এর পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহ এবং অনেক দূর এলাকা থেকেও নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে ঢাকামুখি রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন, সম্প্রতি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডনে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর এবং রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণে কক্সবাজার গমনে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের যে ঢল নেমেছিলো তা এবারের সমাবেশেও দেখা যাবে। ঢাকা জেলার আশপাশের জেলা থেকে ব্যাপক সংখ্যক লোকজনের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করছেন আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতৃবৃন্দ।

গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. মাযহারুল ইসলাম জানান, সমাবেশ সফল করতে আজ আমি ঢাকা এসেছি। নেতাকর্মী সহ আমরা রাজধানীর সমাবেশে উপস্থিত থাকতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এর বাইরে অসংখ্য নেতাকর্মী নিজেদের উদ্যোগে ইতিমধ্যে ঢাকা এসেছেন, অনেকে আসবেন। এটা স্বতস্ফূর্ততা।
বিএনপির পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, ছাত্রদল, জাসাসসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো কাজ করছেন।

কেন্দ্রীয় সংগঠন ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি জেলার নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে কয়েকদফা প্রস্তুতি সভা করেছে দলটি। এর আগে গত বুধবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে প্রস্তুতি সভা করা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, যুবদল, মহিলা দল, শ্রমিক দল প্রস্তুতি সভা করে। এসব সভায় নেতৃবৃন্দ প্রত্যেকটি থানা ও ওয়ার্ডের নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন সমাবেশকে সফল করতে সর্বোচ্চ সংখ্যক জনসমাগম ঘটানোর জন্য।

নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির সমাবেশের শৃঙ্খলার দায়িত্বে রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান আর মঞ্চ সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকবেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

Leave a Reply