শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না : খালেদা জিয়া

রাজনীতি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই দিতে হবে। নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে তিনি একথা বলেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসতে বাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। রাস্তায় যানজট তৈরি করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, আমি যাতে সমাবেশে আসতে না পারি সেজন্য গুলশানে দেখলাম খালি বাস দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাসে চালক নেই, যাত্রী নেই। কিন্তু বাসগুলো রাস্তায় দাঁড় করে রাখা হয়েছে। এরা যে এতো ছোট মনের তা এর মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, এতো ছোট মন নিয়ে রাজনীতি করা যায় না। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে মত পার্থক্য থাকবে, কিন্তু দেশের জন্য এক হয়ে কাজ করতে হবে। প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বাইরে এজেন্সির লোক পাঠিয়ে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
সরকার অঘোষিতভাবে বাকশালকে কায়েম করতে চায়-এমন অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ভয় পায়, এরা মানুষকে ভয় পায়, জনগণকে ভয় পায় বলে যেমন একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল, তেমনি এক দলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। তারা জনগণের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের ছাড় দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি আমি তাদের ক্ষমা করে দেব। কিন্তু জনগণ জানে, এরা কত অবিচার করেছে। জনগণ সেটা মানতে রাজি নয়। তারপরও বলেছি। আমরা দেশে সুষ্ঠু এবং সুন্দর এটা রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই। কেননা আমাদের রাজনীতি বহুদলীয় ঐক্যের রাজনীতি।
সমাবেশে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের ভিড়ে দুপুর থেকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা সোয়া তিনটার দিকে খালেদা জিয়া সমাবেশ মঞ্চে আসেন। তার বক্তব্য শুরুর পর কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বক্তব্যের কিছু অংশ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তবে সমাবেশস্থল থেকে সরাসরি কোন টেলিভিশন সমাবেশের কার্যক্রম সম্প্রচার করেনি।
এদিকে সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা সমাবেশে আসতে থাকেন। দুপুরের পর সমাবেশস্থল ছাপিয়ে নেতাকর্মীদের ঢল আশপাশের সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। বেলা দেড়টার পর কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply