ফিরে দেখা সিনহার ঘটনাবহুল জীবন, সাধারণ উকিল থেকে যেভাবে বিচারক

রাজনীতি

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে ঘিরে আলোচিত বিচারকে পরিণত হয়েছেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সবার মুখে মুখে বিচারপতি সিনহার নাম। দেশে বিদেশেও আলোচিত হচ্ছেন তিনি। নিকট অতীতে নির্বাহী বিভাগকে চ্যালেঞ্জ করে তার মতো এতো সাহসী রায় কোনো বিচারক দেননি।

কয়েক মাস ধরে চলা নানা নাটকীয়তার পর শনিবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা পদত্যাগ করেন এবং তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। গত শুক্রবার সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনে এসকে সিনহা রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্রটি জমা দেন বলে জানা যায়। এর মাধ্যমে শেষ হল বহুল আলোচিত প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা অধ্যায়।

তিনিই দেশের ইতিহাসে অমুসলিম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থেকে প্রথম প্রধান বিচারপতি। এস কে সিনহার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামে। জন্ম ১৯৫১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি।

জানা যায়, ১৯৭৪ সালে সিলেট বারে তিনি সাধারণ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে হাইকোর্টে এবং ১৯৯০ সালে আপিল বিভাগে তালিকাভুক্ত হন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

পরে সিনহা হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৯৯ সালের ২৪ অক্টোবর। আপিল বিভাগে যোগদান করেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০০৯ সালের ১৬ জুলাই। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এস কে সিনহা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই।
অবশ্য খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ৯৯ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিচারপতি হয়েছিলেন।

অবসরের বয়স অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি অবসরে যাওয়ার কথা ছিল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

তবে এর আগেই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের মুখে তার পদত্যাগ করলেন তিনি।

এর আগে আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধি নিয়ে আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম আবার সময় প্রার্থনা করলে ষোড়শ সংশোধনী নিয়েও কথা বলেন বিচারপতি সিনহা। প্রধান বিচারপতি এ সময় মন্তব্য করেন, ‘ আমরা বিচার বিভাগ ধৈর্য ধরছি। আজকে একজনের কলামিস্টের লেখা পড়েছি… সেখানে ধৈর্য ধরার কথাই বলা হলো। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধামন্ত্রীকে ইয়ে… করল। সেখানে কিছুই (আলোচনা-সমালোচনা) হয়নি। আমাদের আরও পরিপক্কতা দরকার।’

পরে প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যে তার বিরুদ্ধে চলমান সমালোচনা আরো তীব্র হয় সরকারি মহলে। এদিকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানের পর ‘মেঘ কেটে গেছে, হাসি দিবে সূর্য’ বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মন্তব্য করেন। প্রধান বিচারপতির বাসভবন থেকে বঙ্গভবন পর্যন্ত টানা দৌড়-ঝাপ করেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সমঝোতার চেষ্টায়ও সফলতা আসেনি।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বৈঠক, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক ও পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম- এর বৈঠক হয়। কিন্তু তাতেও আশানুরূপ ফল আসেনি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর সরকার কঠোর অবস্থানে অনড় থাকায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এরপর তিনি অনেকটা বাধ্য হয়েই ১৩ অক্টোবর ছুটিতে বিদেশ যেতে বাধ্য হন।

প্রধান বিচারপতির ছুটির মেয়াদের শেষ দিন ছিল ১০ নভেম্বর। এর আগে কোনো কোনো গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়, প্রধান বিচারপতি ১৩ নভেম্বর দেশে ফিরছেন। কিন্তু সেটার সত্যতা মেলেনি।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। অস্ট্রেলিয়ায় তিনি বড় মেয়ে সূচনা সিনহার বাসায় ওঠেন।

এর আগে গত ২ অক্টোবর এক মাস ছুটির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর চিঠি পাঠান প্রধান বিচারপতি, যার মেয়াদ ছিল ১ নভেম্বর পর্যন্ত। ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রধান বিচারপতির ১৩ অক্টোবর বা কাছাকাছি সময়ে বিদেশে যাওয়ার এবং ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে থাকার ইচ্ছা পোষণের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করতে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। গত ১০ অক্টোবর বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে পাঠানো ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় ১২ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ হিসেবে শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটির মেয়াদ শেষ হয়।

তবে এর আগে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বলেছিলেন প্রধান বিচারপতির যখন ইচ্ছা তখন দেশে ফিরে এজলাসে বসতে পারেন।

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা চান সম্মানজনকভাবে দেশে ফিরে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য এজলাসে বসতে এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত ১১ অভিযোগের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারবেন।

কিন্তু আপিল বিভাগের বিচারপতিরা আগেই প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে বিচারকাজ পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করে বিবৃতি দেওয়ায় ওই আশা পূরণের বিষয়টি অনেকটাই সুদূর পরাহত বলে আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলও বিষয়টি বারবার গণমাধ্যমকে বলে আসছিলেন।

গত সোমবার এক প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, আপিল বিভাগের বিচারপতিরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে বিচারকার্য করবেন না বলে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এক বিবৃতিতে আগেই জানানো হয়েছে। এরপরও যদি উনি (প্রধান বিচারপতি) দায়িত্ব নিতে চান তবে তা অবমাননাকর বলেই মনে করি।

ইতোমধ্যে সরকার ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের সেই পুরো রায়ের রিভিউ আবেদনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আইনমন্ত্রী।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর থেকে সরকারের শাসন বিভাগের সাথে বিচার বিভাগের টানা পোড়েন শুরু হয়। আইনজীবী সমিতির নেতারা এসময় অভিযোগ করে বলেছিলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি সিনহা। ওই দিন মিডিয়ার সামনে তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ না। আমি পালিয়েও যাচ্ছি না। আমি আবার ফিরে আসব। আমি একটু বিব্রত। আমি বিচার বিভাগের অভিভাবক। বিচার বিভাগের স্বার্থে, বিচার বিভাগটা যাতে কলুষিত না হয়, এ কারণেই আমি সাময়িকভাবে যাচ্ছি।’

বিচারপতি সিনহা টরন্টোয়
পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অস্ট্রেলিয়া থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে কানাডা পৌঁছেছেন।

তিনি এখন কানাডার টরন্টো শহরে অবস্থান করছেন বলে সেখানে বসবাসরত বাঙালি কমিউনিটির একজন নেতা জানিয়েছেন।

সিলেটে যে দুজন আইনজীবীর হাত ধরে আইন পেশায় যোগ দিয়েছিলেন এস কে সিনহা তাদের একজনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বিচারপতি সিনহা শুক্রবার রাতে টরন্টো পৌঁছান।

কতিপয় ঘনিষ্ঠজন ছাড়া তিনি কারও সাথে সাক্ষাৎ করতে বা কথা বলতে চান না।

কানাডাভিত্তিক বাংলা পত্রিকা নতুন দেশের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারপতি সিনহা পদত্যাগপত্র পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন। কানাডা যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাই কমিশনে শুক্রবার তিনি রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্রটি জমা দিয়েছেন। এর বাইরে এই বিষয়ে তিনি তার ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গেও এই মুহূর্তে কথা বলতে চাননি।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে এক মাসের ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া যান বিচারপতি সিনহা। ছুটি শেষ হওয়ার পরদিন শনিবার বঙ্গভবন থেকে তার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানানো হয়।

বিচারপতি সিনহার বড় মেয়ে সূচনা সিনহা থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। আর ছোট মেয়ে আশা সিনহার বসবাস কানাডার মানিটোবা প্রদেশে। এখন তিনি টরন্টোয় আছেন বা বিচারপতি সিনহা কখন মানিটোবা যাবেন সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।

নতুন দেশ লিখেছে, বিচারপতি সিনহা আপাতত টরন্টোতেই থাকছেন। সেখানে তার বসবাস দীর্ঘ হতে পারে বলে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে এমন কয়েকজন আভাস দিয়েছেন।

ভ্রমণ ভিসায় কানাডায় এসে যে কেউ ছয় মাস পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করতে পারেন। এরপর অসুস্থতা বা যুক্তিসঙ্গত কারণে সেটি বাড়ানোর আবেদন করলে কানাডা ইমিগ্রেশন বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে থাকে।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে এসকে সিনহার ৩৪ মাস
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) মেয়াদের ৮১ দিন আগেই বিদায় নিলেন। যা দেশের ইতিহাসে প্রধান বিচারপতি হিসেবে পদত্যাগ করার প্রথম ঘটনা। ৩৪ মাস প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নানা কারণে বারবার আলোচনা-সমালোচনায় উঠে আসে তার নাম। দায়িত্ব পালনের আগে ও পরে নানা ঘটনায় আলোচিত ছিলেন বিচারপতি এসকে সিনহা।

যুদ্ধাপরাধের মামলার শুনানিতে একাত্তরে নিজের শান্তি কমিটিতে থাকার কথা তুলে ধরে আলোচিত হন তিনি। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছিলেন, শান্তি কমিটির ছদ্মাবরণে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছিলেন। প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেয়ার পর বিভিন্ন সময় বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। নিন্ম আদালতের বিচারক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ নিয়ে তার সঙ্গে সরকারের বিরোধও ছিল আলোচিত।

অবসরের পর রায় লেখা নিয়েও অবসরপ্রাপ্ত আরেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে তার বাদানুবাদ তুমুলে ওঠে। তবে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে যে বিতর্কের শুরু হয়, তা প্রথমে ছুটি ও পরে পদত্যাগের মাধ্যমে শেষ হল।

চলতি বছরের জুলাইয়ে ওই রায় প্রকাশের পর থেকে যেসব ঘটনা আলোচিত হয়েছে, সেগুলো নিচে দেয়া হল-
চলতি বছরের ৩ জুলাই : উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ।

১ আগস্ট: আপিল বিভাগের ‘পূর্ণাঙ্গ রায় ও ৪০০ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ’ সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

৯ আগস্ট: রায়ের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে কঠোর সমালোচনা করেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক।

১০ আগস্ট: ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতির ‘অগ্রহণযোগ্য’ বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার উদ্যোগের কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

১২ আগস্ট: প্রধান বিচারপতি সিনহার সঙ্গে দেখা করে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে দলীয় বক্তব্য জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

১৩ আগস্ট: রায় নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থক আইনজীবীরা।

১৬ আগস্ট: এ রায় নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলোচনা হয়।

২২ আগস্ট: প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব ছাড়তে বিচারপতি এসকে সিনহাকে সময় বেঁধে দেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। অন্যথায় তাকে অপসারণে আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

২৪ আগস্ট: সুপ্রিমকোর্টের অবকাশ শুরুর আগে শেষ অফিস করেন বিচারপতি সিনহা। ওই দিন আদালতের কার্যক্রম চলাকালে বক্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত না করতে সংবাদ কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর: বিদেশ সফরে ছিলেন সিনহা।

১৩ সেপ্টেম্বর: ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হয়। তীব্র সমালোচিত হন সিনহা।

৩০ সেপ্টেম্বর: সুপ্রিমকোর্টের ১৪ অক্টোবরের বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ডেকে নিয়ে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ‘১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ তুলে ধরেন।

১ অক্টোবর: বঙ্গভবনের ওই বৈঠক থেকে ফিরে পরদিন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি ইমান আলী নিজেরা বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তারা প্রধান বিচারপতির হেয়ার রোডের বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বললে বিচারপতি সিনহা ‘দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের’ ওই অভিযোগগুলোর ‘গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা’ দিতে পারেননি বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

২ অক্টোবর: অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর ছুটিতে যাওয়ার আবেদন করেন বিচারপতি সিনহা। পরে আরেক আবেদনে ছুটির সময় বাড়িয়ে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল।

৬ অক্টোবর: প্রধান বিচারপতির খোঁজ নিতে সুপ্রিমকোর্ট থেকে তার বাসায় যেতে চান বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। তবে পুলিশ তাদের গাড়ি আটকে দেয়।

১৩ অক্টোবর: ছুটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যান প্রধান বিচারপতি সিনহা। তার আগে সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় তিনি বিব্রত, শঙ্কিত।

১৪ অক্টোবর: সুপ্রিমকোর্টের বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ করা হয়।

সর্বশেষ ১১ নভেম্বর সিঙ্গাপুর দূতাবাসের মাধ্যমে পাঠানো এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র বঙ্গভবনে পৌঁছায়। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ পত্রটি গ্রহণ করেছেন।

Leave a Reply