যেখানে আইনের শাসন পতন হয়, সেখানে স্বৈরাচারের উত্থান হয় : বিচারপতি ওয়াহহাব

জাতীয়

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কেননা, যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য পূর্বশর্ত।

তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিচার বিভাগের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে- যেখানে আইনের শাসন পতন হয়, সেখানে স্বৈরাচারের উত্থান হয়।

শনিবার সকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিবন্ধিত হওয়া নতুন আইনজীবীদের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এই মন্তব্য করেন।

আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, গত ২৫০ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আইন পেশার মানুষরা দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন।

‘সংবিধান অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের ওপর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বারের ভূমিকাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন আবদুল ওয়াহহাব মিঞা।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী অর্থের পেছনে না ঘুরে আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে আইনজীবীদের পরামর্শ দেন।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আইন পেশায় ঢোকার আগে বয়স নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। অনেকেই অন্য পেশায় থেকে আইন পেশার সনদ নেন, যা ঠিক নয়।

প্রসঙ্গত, প্রায় তিন হাজার আইনজীবীর মধ্যে সনদ বিতরণ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচার।

মহামারী এইডসের ন্যায় ধর্ম জাত-পাত বিচার করে না: ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি
এর আগে ২৬ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, মহামারী এইডস যেমন কোনো ধর্ম-বর্ণ বিচার করে না, তেমনি ধর্ম জাত-পাত বিচার করে না। সুতরাং ধর্ম হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান ধর্মের ক্ষেত্রে কোনো বিচার্যক বিষয় নয়। ধর্মের স্বভাবই ধর্মই। ধর্ম নিজ আভায় সার্বজনীন বাণীতে উদ্ভাসিত। জ্ঞানের বহ্নি শিখায় প্রজ্বলিত হয়ে দেশের প্রতিটি মানুষ অসম্প্রাদিয়কতায় অন্ধকার কূপমণ্ডূকতা আর অকল্যাণকর সব বাধা পেরিয়ে একটি উন্নত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসবে -এটাই সবার প্রত্যাশা।

ওইদিন বিকালে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি বিজয়া পুনর্মিলনী পরিষদ-২০১৭-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিজয়া পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, স্বামী ধ্রুবেশানন্দ মহারাজ, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বক্তব্য রাখেন।

বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, ধর্ম জাত-পাত চিনবে না। জাত-পাত বিচারও করবে না। ধর্ম নারী-পুরুষ বিভাজন করবে না, করে না। ধর্ম কোনো সম্প্রদায় বা সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে আবদ্ধ হতে চায় না।

তিনি বলেন, আমাদের মহান সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বিধৃত আছে,‘ (১) আইন, জনশৃংখলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে (ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে; (খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রহিয়াছে। (২) কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোনো ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হইলে তাহাকে কোন ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করিতে হইবে না।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ সমাজবদ্ধজীব। সমাজজীবনে একেই ভূখণ্ডে, একই বলয়ে বসবাস করতে হলে নানা ধর্ম, গোত্র, বর্ণ, সম্প্রদায় সম্পর্কে বিভিন্ন ভাষাভাষী লোকের সঙ্গে বসবাস করতে হয়। একটি বাগানে নানা জাতের ফুল থাকে তেমনি একটি রাজ্যে বা রাষ্ট্রে নানা জাতের মানুষ থাকবে। সুতরাং নানা জাতের সঙ্গে সহবস্থান ঐক্য-সংহতির মাধ্যমে একত্রে বসবাস করে মানবজাতির ধর্ম ও সমাজের উন্নয়ন করতে সবাইকে বদ্ধপরিকর হতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার সমাজ রাষ্ট্র উৎসব সবার- এ মর্মবাণী অনুধাবন করতে পারলে বিশ্বের মানুষ সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে। হিংসা-দ্বেষ-ভেদাভেদ ভুলে শান্তির পৃথিবী গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এও বলেন, ধর্ম ব্যক্তিবিশেষের জন্য স্বতন্ত্র নয়, ধর্ম কোনো রকম বৈষম্য সৃষ্টি করে না। ধর্মের গ্রহণ বা বর্জন এবং ধর্মের আবেদন সবার জন্য সমান। এমনকি ধর্মের অধিকারও সবার জন্য সমান। ধর্ম জাত-পাত চিনবে না। জাত-পাত বিচারও করবে না। ধর্ম নারী-পুরুষ বিভাজন করবে না, করে না। ধর্ম কোনো সম্প্রদায় বা সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে আবদ্ধ হতে চায় না। সূর্য যেমন সবার জন্য সমান, তেমনি ধর্মও। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের ভাষায় বলা যায়, বিশুদ্ধ বায়ু যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে হিতকর, তেমনি স্বধর্মও সবার জন্য মঙ্গলপ্রদ।

Leave a Reply