দক্ষিণ সুরমায় জলাশয়ে বিষ প্রয়োগে ২ লক্ষ টাকার মাছ মেরেছে দুর্বৃত্তরা

সিলেট বিভাগ

দক্ষিণ সুরমায় শত্রুতামূলকভাবে পাকি আরের ডরে বিষ প্রয়োগে প্রায় ২ লক্ষ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মরে ভেসে উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার ইউনিয়নের সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের মইলুকা পুলের পাশর্^বর্তী পুরান খাল পাকি আরের ডরে। জানা যায়, গত ৮ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা ডরের পানিতে বিষ প্রয়োগ করে।
পাকি আরের ডরে লিজ গ্রহিতা নৈখাই কুতুবর গ্রামের মৃত ফুরকান উল্লাহর ছেলে আব্দুস সালাম, একই গ্রামের মৃত সত্তার মিয়ার ছেলে জাহেদ মিয়া, মৃত আছন মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া নিয়মিত দেখাশোন করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে জাহেদ মিয়া ডর পরিদর্শনে দিয়ে দেখতে পায় ডরের পানিতে অসংখ্য মরা মাছ ভাসছে। সাথে সাথে তিনি তার অংশীদারদের খবর দেন। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামের অসংখ্য মানুষ ডরের পারে ভিড় করে মরা মাছের দৃশ্য দেখছেন। মাছ মরার খবর পয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) খালেদা খানম রেখা, মোগলাবাজার থানার ওসি, ইউপি চেয়ারম্যান সহ এলাকার মুরব্বীয়ান উপস্থিত হন।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) লাল পতাকা উড়িয়ে অত্র জলাশয় সহ আশপাশ থেকে আপাতত ৭ দিন পর্যন্ত মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
পাকি আরের ডরটি মোগলাবাজারে রূপা মিয়ার কাছ থেকে এক বছরের জন্য গ্রহিতারা ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় চুক্তিতে লিজ নেন। লিজ গ্রহিতাগণ মাছ চাষ করতে গিয়ে ডালপালা, মাছে খাদ্য ও শ্রমিক বাবদ প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। ডরে কে বা কারা বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলায় মৎস্যচাষীগণ হতাশ হয়ে পড়েছেন।
উপস্থিত স্থানীয় জনতা মধ্যে অনেকে মন্তব্য করছেন, মানুষে মানুষে শত্রতা থাকতে পারে তাই বলে এভাবে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ক্ষতি করা আদৌও ঠিক নয়।
আলাপ কালে মোগলাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে আমি সকাল ৯টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরা মাছ ডরে ভাসতে দেখেছি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে বিষয় জানানোর পরামর্শ দিয়েছি। শত্রুতার কারণে ঘটনাটি ঘটতে পারে। মামলা হলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোঃ ইমাদ উদ্দিন নাসিরী বলেন, এ ধরনের জঘন্য কাজ করা কোন সভ্য সমাজের কাজ নয়। ঘটনার সাথে জড়িত যেই হোক তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হলে ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা ঘটবে না।
মোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম শাইস্তা বলেন, বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারা একটি জঘণ্য কাজ। এ ধরনের কাজে সাথে যারা জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
লিজ গ্রহণকারীরা বলেন, মাছ মারার ঘটনায় আমরা ব্যাপক ক্ষতিপ্রস্ত হয়ে পড়েছি। এ ঘটনার দূষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। বিজ্ঞপ্তি

Leave a Reply