গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নুর হোসেন প্রেরণা যোগাবে : খালেদা জিয়া

জাতীয়

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে শহীদ নুর হোসেন আমাদের প্রেরণা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শহীদ নুর হোসেন দিবস উপলক্ষে তিনি এক বাণীতে এ কথা বলেন। বেগম খালেদা জিয়া বলেন, শহীদ নুর হোসেন দিবস উপলক্ষে আমি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের বীর শহীদ নুর হোসেনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমি তার রূহের মাগফিরাত কামনা করি। তিনি বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে নুর হোসেন একটি অবিস্মরণীয় নাম। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের এক লড়াকু সৈনিক হিসেবে তিনি রাজপথে নেমে এসেছিলেন বুকে পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান লিখে। গণতন্ত্রের দাবিতে সোচ্চার এই যুবকের কন্ঠকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল স্বৈরাচারের বন্দুক। স্বৈরাচারের বুলেট বুকে বরণ করে নিয়েছিলেন নুর হোসেন। নুর হোসেনের সে অবদান বৃথা যায়নি। তার রক্তের ধারা বেয়েই ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসকের পতন ঘটে, মুক্ত হয় আমাদের গণতন্ত্র। যে স্বপ্ন চোখে নিয়ে জীবন উৎসর্গ করে ছিলেন নুর হোসেন, তার সে স্বপ্ন আজও পুরোপুরি সফল হয়নি। ১৯৯০-এর মুক্ত হওয়া গণতন্ত্র আবার শৃংখলিত হয়েছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন করার ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়েছে। স্বৈরাচারী শক্তির এ চক্রান্ত রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আজও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে শহীদ নুর হোসেন আমাদের প্রেরণা। তার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। আর এজন্য আমাদেরকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। আজকের এই দিনে আমি দল-মত নির্বিশেষে সকলের প্রতি আহবান জানাই-আসুন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। : শহীদ নুর হোসেন দিবস উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অপর এক বাণীতে বলেন, শহীদ নুর হোসেন দিবস উপলক্ষে আমি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মহান শহীদ নুর হোসেনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তার রূহের মাগফিরাত কামনা করি। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর  স্বৈরশাসকের তপ্ত বুলেটের শিকার হয়েছিলেন নুর হোসেন। সেদিন তার আত্মত্যাগ এদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে উদ্ধুদ্ধ করেছিল। নুর হোসেনের আত্মদানের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে সংঘটিত হয়েছিল সফল গণঅভ্যুত্থান। পতন হয়েছিল নির্দয় স্বৈরশাসকের, মুক্ত হয়েছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র। নুর হোসেনের সেই আত্মদানকে আমরা বৃথা যেতে দিতে পারি না। : মির্জা ফখরুল বলেন, নব্বইয়ে অর্জিত গণতন্ত্রের পথচলাকে আবারো বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এই বাধা দূর করে আমাদেরকে মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। নুর হোসেনের মতো সাহসিকতা নিয়ে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজকের এই দিনে এটাই হোক আমাদের শপথ। : : : বিচারের নামে অবিচার হচ্ছে : রফিক মৃধা, দিনকাল : প্রতিহিংসায় নয়, মায় বিশ্বাস করি বলে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই যে, প্রতিহিংসায় নয়, মায় বিশ্বাস করি। আমার এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি শেখ হাসিনার প্রতিহিংসামূলক ও বৈরী আচরণ সত্ত্বেও তাকে মা করে দিয়েছি। আমি তার প্রতি কোনো প্রতিহিংসাপ্রবণ আচরণ করবো না। আমি তাকে আহ্বান করেছিলাাম, আসুন রাজনীতিতে শোভন সহিষ্ণু আচরণ গড়ে তুলি। দেশের গণতন্ত্রের জন্য খুবই প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন আমাদের কাছ থেকে কিছু শিখতে পারে। সাহস ও সততার সঙ্গে সরকারের প্রভাব মুক্ত থেকে আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন দাবি করা হলেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদাহরণ সেই দাবিকে প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই স্বাধীনতার দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা বর্তমান মামলাতেও অনেকখানি বোধগম্য হবে। প্রমাণিত হবে, বিচারকগণ স্বাধীনভাবে, বিবেকশাসিত হয়ে এবং আইনসম্মতভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে সক্ষম কিনা? গতকাল বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৩৪২ ধারায় বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরবর্তী হাজিরা ১৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে আদালত। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে বেগম খালেদা জিয়া জবানবন্দিতে বক্তব্য রাখেন। এর আগে দুই মামলায় হাজিরা দিতে বেলা সাড়ে এগারটার দিকে আদালতে পৌঁছান বেগম খালেদা জিয়া। এর আগে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে তিনি তার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশে বের হন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনের অবৈধ সরকার মিথ্যা মামলায় আমাকে এবং আমার দুই ছেলেকে গ্রেফতার করেছিলো। বন্দি অবস্থায় পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে তাদেরকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিলো। আমার বড় ছেলে তারেক রহমান সেই নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে এখনও বিদেশে চিকিৎসাধীন। আমার ছোট ছেলেটি আর সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন ফিরে পায়নি। বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই সে অকালে আমাদেরকে ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছে। সন্তানের অকাল মৃত্যুর সেই দুঃসহ ব্যথা বুকে চেপে আমি এখনও দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। : বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন আবেদন নামঞ্জুর : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার করা স্থায়ী জামিনের আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে ১৬ নভেম্বর। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ দুই মামলায় স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। স্থায়ী জামিনের বিরোধিতা করেন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল। উভয় পক্ষের শুনানী শেষে ড. আখতারুজ্জামান জামিন আবেদন নাকচ করেন। : বেগম খালেদা জিয়া তার দেয়া অসমাপ্ত জবানবন্দির চতুর্থ দিনে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৪২ ধারায়  আদালতে দেয়া জবানবন্দির পূর্ণ বিবরণ : : বেগম খালেদা জিয়া বলেন, শাসক মহলের ইচ্ছা অনুযায়ী আমাদের বিরুদ্ধে কোনো একটা রায় দেয়া হবে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, আপনি সাহস ও সততার সঙ্গে সরকারের প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার করবেন। আমাদের বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন দাবি করা হলেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদাহরণ সেই দাবিকে প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই স্বাধীনতার দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা বর্তমান মামলাতেও অনেকখানি বোধগম্য হবে। প্রমাণিত হবে, বিচারকগণ স্বাধীনভাবে, বিবেকশাসিত হয়ে এবং আইনসম্মতভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে সক্ষম কিনা। আমাদের এই দেশে ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে বিচারের নামে অবিচারের বিভিন্ন নমুনা আমরা দেখেছি। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের একজন প্রভাবশালী নির্মাতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান। তাকেও দুর্নীতির মামলার বিচারে কারাদন্ড দেয়া হয়েছিল। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও অলি আহাদের মতো জাতীয় নেতৃবৃন্দকেও কারাদন্ড ভোগ করেতে হয়েছে। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে কবিতা রচনার দায়ে রাষ্ট্রদ্রোহী সাব্যস্ত করে কারাদন্ড দেয়া হয়েছিল। এই উপমহাদেশে মহাত্মা গান্ধী, মওলানা শওকত আলী-মোহাম্মদ আলী, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, চিত্তরঞ্জন দাস ও জওহর লাল নেহেরুর মতো নেতাদেরকেও কোনো না কোনো আদালতের রায়েই কারাদন্ড ভোগ করতে হয়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং, বার্ট্রান্ড রাসেল এবং বেনিগনো আকিনোর মতো মানুষদেরকেও কোনো না কোনো বিচারেই সাজা দেয়া হয়েছে। তথাকথিত সেইসব রায়ের পিছনেও কোনো না কোনো যুক্তি, অজুহাত ও আইন দেখানো হয়েছিলো। হযরত ইমাম আবু হানিফা ও সক্রেটিসের মতো মহামানবদেরকেও তো বিচারের নামেই সাজা দেয়া হয়েছিল। সেই সব বিচারকে কি বিশ্ববাসী ন্যায়বিচার বলে মেনে নিয়েছে? ইতিহাসের ধোপে সে সব রায় কি টিকেছে? যাদেরকে অপরাধী সাব্যস্ত করে সাজা দেয়া হয়েছিল, বিশ্বমানবতা ও ইতিহাস তাদেরকেই দিয়েছে অপরিমেয় মহিমা। ইতিহাস রায় দিচ্ছে, নিরপরাধকে অপরাধী সাব্যস্ত করে যারা রায় দিয়েছিলেন তারাই প্রকৃত অপরাধী। তাদের জন্য পারলৌকিক সাজা তো নির্ধারিত আছেই। এই পৃথিবীতেও তাদের নাম ও স্মৃতি যুগ যুগ ধরে অগণিত মানুষের ঘৃণা ও ধিক্কার কুড়াচ্ছে। এ জগৎ যতদিন থাকবে, মানুষ যতদিন থাকবে, ইতিহাস যতদিন পাঠ করা হবে এবং যতদিন মানুষের স্মৃতি থাকবে, ততদিনই তাদের প্রতি চলতে থাকবে এই ঘৃণা ও ধিক্কার। : তিনি বলেন, ইতিহাসের এই সব শিক্ষা থেকে কেউ কেউ শিক্ষা নেন। আবার কেউ কেউ কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেন না। যারা শিক্ষা নেন, মানুষ ও ইতিহাস তাদেরকে সম্মানিত করে। আর যারা কোনো শিক্ষা নেন না, তাদের ঠাঁই হয় ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে, আর মানুষের ঘৃণা ও ধিক্কারে। সময়ের পরিক্রমায় আজকের সময়ও এক সময় ইতিহাস হবে। আলোচ্য এ মামলাটিও নিশ্চয়ই ইতিহাসের এক মূল্যবান উপকরণ হবে। কাজেই এই পটভূমিতে আপনি ইতিহাসের শিক্ষা থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করবেন কি-না, সেই সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে। এরজন্য আপনাকে নির্ভর করতে হবে সুবিবেচনা, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, সাহস ও সততার ওপর। অনাগত দিন বলে দেবে, আইন ও বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়ে আপনি সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পেরেছিলেন কি-না। :  আদালতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনিও নিশ্চয়ই আমার সঙ্গে একমত হবেন যে, মতবৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয়ই হচ্ছে গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য। ভিন্নমত দলন ও দমন নয়, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা নয়, বরং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহ-অবস্থানকে উৎসাহিত না করলে গণতন্ত্র টেকানো যায় না। আমরা সে কথা জানি, বুঝি এবং মানি। আপনি জানেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে ভিন্নমত ও দাবি আদায়ের পন্থা এ দেশে বারবার কতোটা সহিংস হয়ে উঠেছে। আমি বেশি পেছনে ফিরে যাবো না। সাম্প্রতিক অতীত থেকেই আমি কিছু উদাহরণ দেব। আজ যারা ক্ষমতায় আছে, সেই আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং তাদের এক সময়কার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সহযোগী জামায়াতে ইসলামী মিলে দেশে কী ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল তা আপনি জানেন। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের নির্বাচনের বিধানের দাবিতে তারা আন্দোলনের নামে দেশে কী সহিংস হানাহানি ও নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি করেছিল তা সকলেই জানে। দিনের পর দিন হরতাল-অবরোধে তারা জনজীবনকে অচল করেছে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতির ‘লাইফ লাইন’ সমুদ্রবন্দরকে দীর্ঘদিন বন্ধ করে রেখেছে। রেলস্টেশন জ্বালিয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষকে বহনকারী যানবাহনে বোমা মেরেছে এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। গান পাউডার দিয়ে আগুন ধরিয়ে চলন্ত বাসের বহু নিরপরাধ যাত্রীকে তারা জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছে। বিভিন্নভাবে আরো বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের মাথা তারা ইট দিয়ে থেঁৎলে দিয়েছে। অফিসগামী বয়স্ক মানুষকে রাস্তায় ধরে প্রকাশ্যে দিগম্বর করেছে। মেয়েদেরকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেছে। সচিবালয়ের ভেতরে হাঙ্গামা করেছে এবং বিভিন্ন জায়গায় নোংরা ছড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা অবরোধ করে টানা অবস্থান নিয়ে জনচলাচল বন্ধ করে রেখেছে। সিভিল প্রশাসনে বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা উস্কে দিয়েছে। সর্বোপরি, গণতন্ত্র ধ্বংস করে সশস্ত্র বাহিনীকে ক্ষমতা দখলের জন্য প্রকাশ্যে উস্কানি দিয়েছে। আমি বিস্তারিত বিবরণ দিতে চাই না। ২০০১ সালে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমরা আবারো সরকারে আসি। তারপর আবারো শুরু হলো রাজপথে আন্দোলনের নামে সহিংস হানাহানি। যা আমাদের পুরো মেয়াদ জুড়ে অব্যাহত ছিল। সেই সহিংসতা থেকে পুলিশ, বিচার বিভাগ, সুপ্রিমকোর্ট, প্রধান বিচারপতির এজলাস পর্যন্ত কোনো কিছুই রেহাই পায়নি। সেই ধারাবাহিক সন্ত্রাসের পরিসমাপ্তি ঘটে প্রকাশ্য রাজপথে পৈশাচিক কায়দায় লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে অনেক মানুষকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে। এসব কর্মকান্ডের পরিণামও শুভ হয়নি। হানাহানির অজুহাতে জাতীয় নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে স্থগিত করে দিয়ে তখনকার সেনাপ্রধান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নেয়। তার অনুগত একটি গোষ্ঠীকে নিয়ে তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা জরুরি সরকার গঠন করে। তাদেরকে সামনে রেখে সেনাপ্রধান সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। নির্বাচন পিছিয়ে সেই অবৈধ শাসনকে দুই বছর পর্যন্ত প্রলম্বিত করা হয়। আপনি জানেন, আমি এই অবৈধ প্রক্রিয়াকে সমর্থন করিনি। বরং এখন যারা জনগণের ভোট ছাড়াই অবৈধভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, তারাই সেদিন বিপুল উৎসাহ ও উল্লাস নিয়ে সেদিনের অবৈধদের সমর্থন করেছিলেন। বলেছিলেন, ওটা তাদেরই আন্দোলনের ফসল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ঐ অবৈধ শাসকদের আসল চেহারা ও উদ্দেশ্য সকলের সামনে পরিষ্কার হয়ে যায়। আমি এবং শেখ হাসিনা, এই দুজনকেই জোর করে ‘মাইনাস’ করার উদ্দেশ্যে তারা সব ধরনের তৎপরতা শুরু করে। আমাকে গৃহবন্দি করা হয়। : বিদেশ সফররত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তিনি দেশে ফিরে এলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণেই তিনি চরম অশোভন আচরণের শিকার হন। আমি কিন্তু তখন চুপ করে থাকতে পারতাম। কিন্তু অন্যায়কে আমি মেনে নেইনি। গৃহবন্দি অবস্থা থেকেই আমি শেখ হাসিনার প্রতি সেই অন্যায় আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। আমি আমার বিবৃতিতে তার মুক্তি দাবি করেছিলাম। এই প্রসঙ্গে সে সময়কার কিছু কথা বলতে হয়। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের জরুরি সরকার কোনো বৈধ সরকার ছিলো না। সেই সরকার সংবিধান অনুযায়ী গঠিত হয়নি। জোর করে অস্ত্রের মুখে তারা ক্ষমতা নিয়েছিলো। প্রায় দুই বছর জরুরি অবস্থা জারি করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় ছিলো। আমি কখনো কোনোভাবে তাদেরকে সমর্থন করতে পারিনি। তারা আমার সমর্থন চেয়েছিলো। আমাকে সপরিবারে নিরাপদে দেশত্যাগ করার জন্য তারা বলেছিলো। আমি তাদের কথা মানিনি। আমার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভাবিনি। আমি তাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় বলেছি, বাংলাদেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই। জীবনে-মরণে আমি বাংলাদেশেই থাকতে চাই। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সেই অবৈধ সরকারকেই সমর্থন করেছিলো। তারা তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও সানন্দে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের পরামর্শে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছিলেন। যাবার সময় বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে বলে গিয়েছিলেন যে, সেই অবৈধ সরকার তাদেরই আন্দোলনের ফসল। তিনি তাদের সকল কাজের বৈধতা দেয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। এমনকি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আমার বড় ছেলে তারেক রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে তাকে গ্রেফতার করার জন্যও সেই অবৈধ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। : সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের অবৈধ সরকারের জুলুম-নির্যাতন ও স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপের কথা নিশ্চয়ই আপনি ভুলে যাননি। ব্যবসায়ীসহ যাকে-তাকে মিথ্যা অজুহাতে ধরে নিয়ে সে সময় তারা টাকা আদায় করতো। রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকায় জমি-বাড়ি দখলের কাজেও তারা বিভিন্ন পক্ষে প্রভাব খাটিয়েছে। আইন-আদালত ও বিচার ব্যবস্থাকে তারা তাদের নির্দেশে চালিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং সাংবাদিকদের ওপর তারা নির্যাতন করেছে।  এতো অপকর্ম করেও মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনরা বিদেশে আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। আজ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়নি। তাদের অন্যতম দোসর মাসুদউদ্দিন চৌধুরীকে দীর্ঘদিন রাষ্ট্রদূত হিসাবে বহাল রেখে লালন-পালন করা হয়েছে। এ সবের কারণ, আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় এসেছিলো। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনা নিশ্চিত করা হয়েছিলো। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলেও মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের পক্ষে যখন আর ক্ষমতায় থাকার কোনো উপায় ছিলো না, তখন তারা নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। কেননা আমাদের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে দেশের ভেতরে ও বাইরের পরিস্থিতি অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিলো। তারা আমার সঙ্গেও সমঝোতার চেষ্টা করেছে। নানা রকম প্রস্তাব নিয়ে আমার কাছে গেছে। আমি তাদের কোনো প্রস্তাবে রাজি হইনি। আমি স্পষ্ট বলে দিয়েছি, অবৈধ শাসকদের সঙ্গে কোনো রকম সমঝোতা আমি করবো না। জরুরি অবস্থা তুলে দিয়ে তাদেরকে নির্বাচন দিয়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে আঁতাত করেই ক্ষমতায় গিয়েছিলো। তারপরেও আমরা সাংবিধানিক শাসন ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ঐ কারসাজির নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছিলাম। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু আমাদের সহযোগিতার আহ্বানের বিনিময়ে তারা আমাদের সঙ্গে কী আচরণ করেছে তা সকলেরই জানা।     : বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, প্রতিহিংসার বিপরীতে সংযম, সহিষ্ণুতা ও সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা আমি বরাবর করে এসেছি। কিছুদিন আগেও আমি একটি সংবাদ-সম্মেলন করে অতীতের সকল তিক্ততা ভুলে ক্ষমার কথা তুলে ধরি। আমি পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করি যে, আমার এবং শহীদ জিয়াউর রহমানসহ আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার ক্রমাগত অশোভন উক্তি এবং প্রতিহিংসামূলক বৈরী আচরণ সত্ত্বে¡ও আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে ক্ষমা করে দিচ্ছি। আমি তার প্রতি কোনো প্রতিহিংসাপ্রবণ আচরণ করবো না। আমি আহ্বান জানিয়েছিলাম, আসুন, রাজনীতিতে একটি সুন্দর, শোভন ও সহিষ্ণু সংস্কৃতি গড়ে তুলি। যা গণতন্ত্রের জন্য খুবই প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে আমাদের কাছ থেকে ভালো কিছু শিখতে পারে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার পরিবেশ গড়তে আমাদের মরহুম জাতীয় নেতৃবৃন্দকে সম্মানিত করার ব্যাপারে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হবার জন্যও আমি বিভিন্ন সময়ে প্রস্তাব দিয়েছি। এছাড়াও, বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার ব্যাপারেও আমাদের প্রস্তাব সব সময় ছিল এবং এখনো আছে। ইতিমধ্যে আমি সমঝোতার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা, জনগণের ক্ষমতা তাদের হাতে ফিরিয়ে দেয়া, সামাজিক ইনসাফ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার রূপকল্প ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করেছি। কিন্তু এসব উদারতার জবাব আমাদেরকে কোন্ ভাষায় দেয়া হচ্ছে, তার প্রমাণ সকলেই পাচ্ছেন এবং আপনিও জানেন। তাদের কী অবস্থা? দেশে গণতন্ত্র নেই। কার্যকর সংসদ নেই। নির্বাচনি ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। খুন, অপহরণ, গুম, নির্যাতন ও বিচারহীনতার এক স্বেচ্ছাচারী রাজত্ব চলছে। দেদারছে চলছে ক্ষমতার অপব্যবহার। কারাগারগুলো রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও ভিন্নমতের মানুষ দিয়ে ভরে ফেলা হয়েছে। কথায় কথায় মামলা-হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতন চলছে। প্রতিবাদের কোনো সুযোগ নেই। টুঁ-শব্দটি করলেই নির্যাতনের খড়গ নেমে আসছে। চলছে সন্ত্রাস, দখল ও দলীয়করণের বিভীষিকা। বয়োবৃদ্ধ মানুষদের পর্যন্ত দিনের পর দিন পুলিশি রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। সংবাদ-মাধ্যম শৃঙ্খলিত। সম্পাদক ও সাংবাদিকরা বন্দি হচ্ছেন। ব্যাপকভাবে আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি নৃশংসভাবে খুন হলেও বিচার হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনে পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। নারী-শিশুরা নির্যাতিত ও নিহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ব্লগার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও বিভিন্ন ধর্মের লোক, এমনকি বিদেশিরা খুন হচ্ছেন। সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে, তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কোথাও কারো কোনো নিরাপত্তা ও অধিকার নেই। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে নির্বিচারে গুলি করে প্রতিবাদী মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে। ছাত্র ও শিক্ষকদের হত্যা করা হচ্ছে। এগুলো কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়? ক্ষমতার অপব্যবহার আমি করেছি? শেয়ার বাজার লুঠ করে লক্ষ কোটি টাকার তছরূপ হয়ে গেল। নিঃস্ব হলো নিম্ন আয়ের মানুষ। ব্যাংকগুলো লুটপাট করে শেষ করে দেয়া হচ্ছে। : তিনি বলেন, একটি বেসরকারি সংস্থার হিসেবে গত ৭ বছরে ব্যাংক থেকে চুরি হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী ব্যাংকলুটের হাজার হাজার কোটি টাকাকে ‘সামান্য’ বলে অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছেন। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নামে দায়মুক্তি দিয়ে সীমাহীন দুর্নীতির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। দুর্নীতির প্রমাণিত অভিযোগের সাজা সুপ্রিম কোর্টে বহাল থাকা ব্যক্তিরও মন্ত্রিসভায় ও সংসদে সদস্যপদে বহাল থাকছে। জনগণের অর্থ এবং জনস্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে পচা গম আমদানির জন্য দায়ী লোকও বহাল তবিয়তে মন্ত্রিত্ব করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার নামে আইটি খাতে বিশাল দুর্নীতি চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত রিজার্ভের অর্থ থেকে ৮শ কোটি টাকা কারসাজি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সম্পন্ন বিচারের নথিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসীপুত্রের সন্দেহভাজন একটি একাউন্টেই প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থের কথা এসেছে। সে ব্যাপারে কোনো উচ্চবাচ্য না করে অপ্রমাণিত অভিযোগে মামলা করে সাংবাদিকদের গ্রেফতার ও হেনস্তা করা হচ্ছে। অপপ্রচার করা হচ্ছে বিএনপির বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের গরীব মানুষের অর্থ চুষে সুইস ব্যাংকের একাউন্টগুলোতে জমানো টাকার স্তূপ ফুলে ফেঁপে উঠছে। ২০১৫ সালে শুধু এক বছরেই এই সব একাউন্টে বেড়েছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। গত ১০ বছর ধরে বিএনপি ক্ষমতায় নেই। এই দশ বছরে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘জিএফআই’-এর হিসাবে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ কোটি টাকার বেশি বিদেশে পাচার হয়েছে। ফাঁস হওয়া পানামা পেপার্সে বিদেশে অবৈধ পথে ক্ষমতাসীনদের পাচার করা বিপুল অর্থের খবর প্রকাশিত হয়েছে। অফসোর কোম্পানিগুলোতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই কেলেংকারি নিয়ে দুদক একটি মামলাও দায়ের করেনি। দেশে এখন কোনো খাতই অবাধ লুটপাট থেকে মুক্ত নয়। অথচ এখনো প্রচারণা ও মামলা চলছে আমাদের বিরুদ্ধে। দেশের সম্পদ লুট করে কারা, আর মামলা দিয়ে হেনস্তা করা হয় কাদেরকে? অপপ্রচার চলে কাদের বিরুদ্ধে? আমাদের বিরুদ্ধে তো কম অপপ্রচার করা হয়নি। সারা দুনিয়ায় চষে বেড়িয়ে এবং সব তন্নতন্ন করে দেখে কয় লাখ বা কয় কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আজ পর্যন্ত আনতে পেরেছে? অথচ তাদের বিরুদ্ধে এক-একটি ঘটনাতেই শত শত, হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ আজ সকলের মুখে মুখে। : বেগম খালেদা জিয়া বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিপক্ষরা কখনো সহ্য করতে পারে না। সে কারণেই শহীদ জিয়ার নাম ও তার স্মৃতি বিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করে ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। শহীদ জিয়ার আদর্শের উত্তরাধিকারী হিসাবে আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের হেয় ও হেনস্তা করার অব্যাহত চেষ্টা সম্পর্কেও সকলে ইতিমধ্যে জেনে গেছেন। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই যে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জবানবন্দির সময়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার, অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক খান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মাদ আলী, অ্যাডভোকেট মীর মোহাম্মাদ নাসির, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান, অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মো. শরীফ উদ্দিন মামুন,  অ্যাডভোকেট  মো. নুরুজ্জামান তপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। : অপরদিকে আদালতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, অধ্যাপক ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খাযের ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটর সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, রফিক শিকদার, আ ক ম মোজ্জামেল হোসেন, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুউদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন। : বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে উপস্থিতি উপলক্ষে নেতাকর্মীদের ঢল :  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে আদালতে যাওয়া ও আসার পথে মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, চানখাঁরপুল ও আদালত প্রাঙ্গণের আশেপাশের সড়কে বেগম খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িকে ঘিরে ব্যাপক শোডাউন তৈরি করে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই এ সব অবস্থান নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। এ সময় বিভিন্ন শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। “খালেদা জিয়া ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই”, “খালেদা জিয়া এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে”, “জেল জুলুম হুলিয়া, নিতে হবে তুলিয়া” এ ধরনের অসংখ্য নেতা কর্মীর কণ্ঠে শোনা যায়। এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় আহত হয়েছে অনেক নেতাকর্মী। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিদ আঞ্জু, সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমেদ ফরু, ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, যুগ্ম সম্পাদক এজিএম সামসুল হক, সাইফুর রহমান মিহির, তহিরুল ইসলাম তুহিন, বেল্লাল চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক মশিউর রহমান বাবু, দফতর সম্পাদক এবিএমএ রাজ্জাক, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিবর, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পদক নূরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফ উদ্দিন জুয়েল, যুবদল দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন,  ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মোহাম্মাদ রাসেল, ওমর ফারুক মুন্না, মেহবুব মাছুম শান্ত, মিজানুর রহমান সোহাগ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান সুমন, দফতর সম্পাদক তানভীর আহমেদ খান ইকরাম, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য মোজ্জামেল হক মিন্টু, শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দও শোডাউনে অংশ নেন।

Leave a Reply