সিলেট সিক্সার্সকে হারিয়ে প্রথম জয় পেল খুলনা টাইটানস

সিলেট বিভাগ

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে জয় পেয়েছে খুলনা টাইটানস। টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে নেমে ঝাপটে ধরে সিলেটকে। আর এতে ১৩৫ রানেই থেমে যায় সিলেট সিক্সার্সের ইনিংস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারায় সিলেট সিক্সার্স।

এরপর ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ উইকেট ও ১২ বল হাতে থাকতে লক্ষ্যে পৌছে যায় খুলনা। এর মধ্য দিয়ে বিপিএলে এই আসরে এই প্রথম জয়ের দেখা পেল খুলনা।

আগের তিন ম্যাচে জিতে বেশ খোশমেজাজে ছিল সিলেট সিক্সার্স। এই ম্যাচেও খুলনাকে হারিয়ে রেকর্ড গড়তে চেয়েছিল সিলেট। কিন্তু খুলনার সঙ্গে তা আর পেরে উঠতে পারেনি। এর আগের ম্যাচে হারে খুলনা। তাই এই ম্যাচে জিততে শুরু থেকেউ মরিয়া ছিল খুলনা টাইটানস।

 সিলেট সিক্সার্স
দেশি : সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, তাইজুল ইসলাম, নুরুল হাসান, আবুল হাসান, শুভাগত হোম, কামরুল ইসলাম, নাবিল সামাদ, মোহাম্মদ শরীফ, ইমতিয়াজ হোসেন, শরীফউল্লাহ।

বিদেশি : রস হুইটলি, লিয়াম প্লাঙ্কেট, দাসুন শানাকা, ওয়ানিডু হাসারাঙ্গা, বাবর আজম, আন্দ্রে ম্যাকার্থি, আন্দ্রে ফ্লেচার, ক্রিশমার সান্টোকি, চতুরাঙ্গা ডি সিলভা, গুলাম মুদাসসর খান, দানুস্কা গুনাতিলকা, উপুল থারাঙ্গা, উসমান খান, রিচার্ড লেভি।

খুলনা টাইটান্স
দেশি : মাহমুদউল্লাহ, মোশাররফ হোসেন, শফিউল ইসলাম, আরিফুল হক, নাজমুল হোসেন (শান্ত), আবু জায়েদ, আফিফ হোসেন, ইয়াসির আলী, ইমরান আলী, মুক্তার আলী, ধীমান ঘোষ, সাইফ হাসান।

বিদেশি : জুনাঈদ খান, সরফরাজ আহমেদ, সাদাব খান, বেনি হাওয়েল, কার্লোস ব্রাফেট, চ্যাডউইক ওয়ালটন, ক্রিস লিন, কাইল অ্যাবট, রাইলি রুশো, সিকুগে প্রসন্ন, শিহান জয়াসুরিয়া, জফরা আর্চার, মাইকেল ক্লিঙ্গার।

এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬৭ রান তুলে চিটাগং ভাইকিংস। লক্ষ্য তাড়া করতে মাঠে নেমে ১৫৫ রানেই থেমে যায় মাশরাফির রংপুর রাইডার্স। নির্ধারিত ২০ ওভাবে ৮ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য থেকে ১১ রান দূরে থাকে রংপুর। এতে প্রথম জয়ের হাসি হাসে চিটাগং ভাইকিংস।

ব্যাট হাতে রংপুর রাইডার্সের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন রবি বোপারা। ২৩ রান আসে মোহাম্মদ মিথুনের ব্যাট থেকে। শেষ দিকে লাসিথ মালিঙ্গার অপরাজিত ১৪ ও মাশরাফির ১৩ রান পরাজয়ের ব্যবধান কমায় মাত্র।

বল হাতে চিটাগং ভাইকিংসের তাসকিন আহমেদ ৩টি উইকেট নেন। ২টি উইকেট নেন লুইস রেসি।

এর আগে বুধবার রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে খেলতে নেমে প্রথম ৯ ওভারেই ভাইকিংসরা করে ১০০ রান। নবম ওভারের পঞ্চম বলে লুক রঞ্চি বিদায় নিতেই ব্যাটিংয়ের দৈন্যভাবটা ফুটে ওঠে দলটির। এরপর দিলশান মুনবিরা ফিরে যান ২০ রান করে।

প্রথম তিনজন ব্যাটসম্যান আউট হতেই পরের ৬ ওভারে মিসবাহ-রিসরা মিলে নেন মাত্র ৩১ রান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৬৬ রান করে থেমে যায় চিটাগং ভাইকিংসদের ইনিংস।

অথচ ম্যাচে কি দুর্দান্তভাবেই না শুরু করেছিল মিসবাহ উল হকের দল। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লুক রঞ্চি একাই রংপুরের বোলারদের শাসন করে চলেন। প্রথম ৫ ওভারে দলটির স্কোর ছিল ৬৩ রান। আজ দিনের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরে যান সৌম্য সরকার। মাশরাফির বলে জিয়াউরকে ক্যাচ দেন তিনি। চিটাগংয়ের রান তখন ৫৯। সৌম্যর রান মাত্র ৭!

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪০ রান যোগ করেন রঞ্চি ও মুনাবিরা। ৯৯ রানে আউট হন লুক রঞ্চি। মাত্র ৩৫ বলে সাতটি ছক্কা ও সমান সংখ্যক চারে ৭৮ রা্ন করেন এই কিউই ব্যাটসম্যান। গত ম্যাচে ২১ বলে ৪০ রান করেছিলেন তিনি।

ভাইকংসদের রানটা আরো বাড়তে পারত। তবে মিডল অর্ডারে একেবারে শম্ভুক গতির ব্যাটিং করেন অধিনায়ক মিসবাহ ও লুইস রিস। ১৬ বলে ১০ রান করে আউট হন রিস আর মিসবাহ করেন ৩২ বলে মাত্র ৩১ রান। অপর ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয় ১৪ বলে করেন ১৭ রান।

এদিন রংপুর একাদশ থেকে ছিটকে যান পেসার রুবেল হোসেন। তার জায়গায় একাদশে ঢুকেন সামিউল্লাহ সেনওয়ারি। অন্যদিকে চিটাগং ভাইকিংসের একাদশে জায়গা করে নেন লেগ স্পিনার তানবীর হায়দার।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচেও টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি। সিদ্ধান্ত যে ভুল হয়নি তার প্রমাণ করেছেন রংপুরের বোলাররা। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে গতবারের রানার্সআপ রাজশাহী কিংসকে ৬ উইকেটে বিধ্বস্ত করে রংপুর। অপরদিকে আসরের প্রথম ম্যাচেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে হার দিয়ে বিপিএল শুরু করে মিসবাহ উল হকের চিটাগং। আগের ম্যাচে তারা বড় ব্যবধানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের কাছে, ৮ উইকেটে হারলেও বুধবার ঠিক নৈপূণ্য দেখিয়ে রংপুরকে হারিয়ে জয় তুলে নেয়।

চিটাগং ভাইকিংস : এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার, লুক রঞ্চি, মিসবাহ উল হক (অধিনায়ক), দিলশান মুনাবীরা, লুইস রিস, সিকান্দার রাজা, তানবীর হায়দার, সানজামুল ইসলাম, শুভাশিষ রায় ও তাসকিন আহমেদ।

রংপুর রাইডার্স : মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), শাহরিয়ার নাফিস, জোনাথন চার্লস, রবি বোপারা, থিসারা পেরেরা, মোহাম্মদ মিথুন, জিয়াউর রহমান, সোহাগ গাজী, নাজমুল ইসলাম অপু, লাসিথ মালিঙ্গা ও সামিউল্লাহ সেনওয়ারি।

Leave a Reply