দেশে ফিরছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ডিপজল

বিনোদন

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল। সিঙ্গাপুর থেকে ডিপজলের মেয়ে জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর তার বাবা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। তাই বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশে ফিরছেন ডিপজল।

গত ৩০ অক্টোবর দুপুরে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ডিপজলের হার্টে বাইপাস অস্ত্রোপচার করা হয়। এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ডিপজলের হার্টের এনজিওগ্রাম করা হয়। ওই সময় তার হার্টে একাধিক ব্লক পাওয়া যায়। কিন্তু ডিপজলের শরীর দুর্বল হওয়ায় তখন তার হার্টে অস্ত্রোপচার কিংবা রক্তনালিতে রিং পরানোর ব্যাপারে চিকিৎসকেরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। চিকিৎসকেরা তাকে ওষুধের মাধ্যমে সুস্থ রাখেন। পাশাপাশি এক মাসের পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন।

ডিপজলের মৃত্যুর গুঞ্জন ফেসবুকে ভাইরাল!

অসুস্থ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিপজলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এমন খবরে বেশ চটেছেন ডিপজলের পরিবার।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মনোয়ার হোসেন ডিপজল। এরপর তাকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে জানানো হয় ডিপজল ভালো আছেন এবং আগের থেকে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

কিন্তু হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ডিপজলের মৃত্যুর গুঞ্জন। মুহূর্তেই এই গুঞ্জন ডালপালা ছড়াতে থাকে চারদিকে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষসহ ডিপজলের অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীরা এই খবরে চিন্তিত হয়ে পড়েন। কে বা কারা এই গুজব ছড়িয়েছে তা সম্পর্কে না জানা গেলেও এই ধরণের ভিত্তিহীন খবরে বিরক্ত হয়েছে ডিপজলের কাছের মানুষরা এবং তার পরিবার।

উল্লেখ্য, মনোয়ার হোসেন ডিপজল বাংলাদেশি অভিনেতা, প্রযোজক, লেখক, রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী। তিনি ১৫ জুন, ১৯৫৮ সালে ঢাকার মিরপুরের বাগবারিতে জন্মগ্রহণ করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবরের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার।

তিনি ফাহিম শুটিং স্পট, এশিয়া সিনেমা হল, পর্বত সিনেমা হল, জোবেদা ফিল্মস, পর্বত পিকচার্স-২, ডিপজল ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সক্রিয়। প্রথমে খল চরিত্রে অভিনয় করলেও চাচ্চু চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি ভালো চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। ডিপজল বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দলের হয়ে স্থানিয় ঢাকা ৯ নম্বর ওয়ার্ড এর কমিশনার নির্বাচিত হন ১৯৯৪ সালে। তার বড় ভাই শাজাদাত হোসেন বাদশা তার নামে (ডিপজল পরিবহন) বাস সার্ভিস চালু করেন।

ডিপজল ১৯৮৯ সালে টাকার পাহাড় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন। ডিপজলের বড় ভাই শাহাদাত হোসেন বাদশা যিনি বাদশা ভাই নামে পরিচিত তিনি সান পিকচার্স এর ব্যানারে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন। পরিচালনা করেন মনতাজুর রহমান আকবর। আকবরেরও এটি পরিচালিত প্রথম ছবি। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালে।

Leave a Reply