নবীগঞ্জে ফের ৩দিনের চিল্লায় কবরে যাচ্ছেন জিন্দা শাহ

সিলেট বিভাগ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ফের জিন্দা শাহ পীর ৩দিনের চিল্লায় কবরে গেছেন। জিন্দা শাহ নামের এই ব্যক্তির অদ্ভুত কর্মকান্ড নতুন নয়, এর আগেও একাধিক বার চিল্লায় গেছেন জিন্দা শাহ। গত শনিবার রাতে কবরবাসে গেছেন। কবরে তিন দিন থাকবেন তিনি। এটিকে ‘কবর চিল্লা’ বলে দাবি করেছেন জিন্দা শাহ’র স্ত্রী। এই জিন্দা শাহ’র এমন কর্মকান্ডকে ‘ভন্ড পীর বলেও মন্তব্য করছেন অনেকেই।
জানা যায়, নবীগঞ্জ পৌর এলাকার তিমিরপুর গ্রামের বাসিন্দা জিতু মিয়া। বয়স ৭০ বছরের বেশি হবে। জিতু মিয়া নিজেকে জিন্দা শাহ দাবী করেন। এমনকি এলাকার তিনি জিন্দা বাবা নামে পরিচিত । গত শনিবার রাত ৩ টার দিকে জিন্দা শাহ নিজের ঘরের ভিতরে একটি কবর খনন করে ৩দিনের চিল্লায় চলে যান কবরবাসে। তার পরিবারের লোকজনের দাবী (৭ নভেস্বর) মঙ্গলবার কবর চিল্লা থেকে উঠে তিনি ওরস করবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিতু মিয়া (জিন্দা শাহ) কবরে যাওয়া এবারই প্রথম নয়! এর আগেও তিনি একাধিকবার কবরে অবস্থান করেছেন। এমনিক পানিতে ভেসেও রাত কাটিয়েছেন। জিন্দা শাহ, গত ৪৫ বছর ধরে ভারতসহ দেশের বিভিন্ন মাজারে মাজারে ‘সাধনা’ করেছেন। তিনি হবিগঞ্জ শহরতলীর মরহুম আধ্যাত্মিক সাধক দেওয়ান মাহবুব রাজার ভক্ত। স্বপ্নের মাধ্যমে মাহবুব রাজার কাছ থেকে ‘চিল্লা’য় যাওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন তিনি।
জিতু মিয়ার স্ত্রী জাহেদা বেগম জানান, ‘জিন্দা শাহ নিজের স্ব ইচ্ছায় কবরে গেছেন। যাওয়ার আগে বলে গেছেন, তিনি কবর থেকে উঠার আগ পর্যন্ত আমি যেন কবরের পাশে দাড়িয়ে থাকি । এমনকি অন্য কোন লোক যেন ঘরে প্রবেশ না করে সে বিষয়েও নজর রাখতে বলে গেছেন। জিতু মিয়ার মূল বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলায়। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে নবীগঞ্জ উপজেলার তিমিরপুর গ্রামে বাস করছেন তিনি। এর আগেও তিনি ১১বার কবরে চিল্লা দিয়েছেন বলে জানা গেছে । সংসার জীবনে তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। কিন্তু সংসারে তিনি থাকেন না। সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়েন।
এদিকে, জিন্দা শাহর কবর চিল্লায় যাওয়ার ঘটনাকে শিরিক আখ্যায়িত নবীগঞ্জ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব হাক্কানী জানান, বর্তমানে আমাদের সমাজে কিছু লোক আছে নানা কু-সংস্কার জড়িত। যেমন কবর চিল্লা এটা ভন্ডামি ছাড়া কিছু নয়। এসব ভন্ডরা সাধারন মানুষকে ধোকা দেওয়া কবর চিল্লা সম্পূর্ন শিরিক। দ্রুত ভন্ডপীর এর বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় নবীগঞ্জে এর প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে ।

Leave a Reply